ইন্টারনেট কিভাবে চালায়? নেট চালানোর নিয়ম জানুন

ইন্টারনেট বর্তমান সময়ে অত্যাবশ্যক। ইন্টারনেট ছাড়া দৈনন্দিন জীবন একরকম অচল হয়ে যাবে বলা যায়। অফিসের কাজ কিংবা পড়াশোনা, গবেষণা ইত্যাদি সবকিছুই ইন্টারনেটের ওপর ব্যাপক নির্ভরশীল। তবে ইন্টারনেট চালাতে হলে আপনার ডিভাইসটি আগে ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত করে নিতে হবে। কী কী উপায়ে আপনি ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন সেটি নিয়েই আজকের এই পোস্ট।

ইন্টারনেট কী?

ইন্টারনেট হচ্ছে সারা পৃথিবীতে থাকা বিলিয়ন বিলিয়ন কম্পিউটার ও অন্যান্য ইন্টারনেট ডিভাইসের একটি নেটওয়ার্ক। ইন্টারনেটে আপনি পেয়ে যাবেন পৃথিবীতে থাকা সকল তথ্য, সকল জ্ঞান। শুধু তাই নয় ইন্টারনেটের মাধ্যমে আপনি দ্রুত পৃথিবীর অপর প্রান্তে থাকা কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। ইন্টারনেট আসলে অনেক কিছুই সম্ভব করেছে যা মানুষ আগে কখনও ভাবে নি।

তবে কীভাবে এই ইন্টারনেট আপনি ব্যবহার করবেন? আপনার ডিভাইসকে এই বিলিয়ন বিলিয়ন ডিভাইসের সাথে যুক্ত করতে আপনাকে কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হবার বিভিন্ন উপায় আছে। ইন্টারনেট পুরোপুরি ফ্রি নয়। যদিও অনেক স্থানেই অনেকে ফ্রি ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে। তবে নিজের আলাদা একটি নেটওয়ার্ক থাকা নিরাপদ এবং সহজ। আর নিজের এই নেটওয়ার্ক সংযুক্তির জন্য আপনাকে মূল্য পরিশোধ করতে হবে। এই মূল্য আপনি কী পদ্ধতিতে ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত হচ্ছেন তার উপর নির্ভর করে।

ইন্টারনেটে সংযুক্ত হবেন যেভাবে

ইন্টারনেটে সংযুক্ত হতে আপনাকে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার বা আইএসপি হতে ইন্টারনেট কানেকশন কিনতে হবে। এই আইএসপি হতে পারে আপনার মোবাইল অপারেটর বা অন্য কোনো ফোন বা ইন্টারনেট কোম্পানি। সাধারণত দুইভাবে আপনার ডিভাইস ইন্টারনেটে সংযুক্ত হতে পারে: ওয়াইফাই বা মোবাইল ডাটা।

ওয়াইফাই হচ্ছে একটি নেটওয়ার্ক যা আপনি নিজের জন্য একটি নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে তৈরি করে নিতে পারেন ইন্টারনেট রাউটার ব্যবহার করে। তবে এখন স্মার্টফোনে হটস্পট তৈরির মাধ্যমেও এই নেটওয়ার্ক তৈরি করা যায়। এই সীমানার মধ্যে থাকলে আপনি আপনার ডিভাইসের ওয়াইফাই অপশন চালু করার মাধ্যমে এই নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হতে পারবেন এবং সেই নির্দিষ্ট সীমানায় ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।

মোবাইল ডাটা বা মোবাইল ইন্টারনেট মোবাইল অপারেটরদের দেয়া একটি সেবা। সিমের মাধ্যমে মোবাইল অপারেটররা তাদের নেটওয়ার্কের সাথে আপনাকে সংযুক্ত হতে দেয়। এই নেটওয়ার্ক ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত বলে সিম অপারেটররা আপনাকে এই ইন্টারনেট একটি মূল্যের বিনিময়ে ব্যবহার করতে দেয়। এতে আপনি যেখানেই থাকেন না কেন মোবাইল নেটওয়ার্ক থাকলে সেখানে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। ওয়াইফাইয়ের সীমাবদ্ধতা এখানে নেই। এর সীমানা বিস্তৃত এবং চলতে চলতেই আপনি ইন্টারনেট চালাতে পারেন এর মাধ্যমে।

তো মোবাইল ইন্টারনেট সেবা মোবাইল অপারেটররা দিয়ে থাকলেও তা কিছুটা বেশি খরচের। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা এক্ষেত্রে আপনার খরচ কমিয়ে আনতে পারে। বিভিন্ন আইএসপি এই সেবা দিয়ে থাকে তারের মাধ্যমে আপনাকে তাদের নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত করে। মোবাইল ইন্টারনেট সাধারণত লিমিটেড ডাটা ট্রান্সফার করতে দেয়। কিন্তু ব্রডব্যান্ড সেবা আপনাকে একটি নির্দিষ্ট মূল্যের বিনিময়ে আনলিমিটেড ডাটা ট্রান্সফার করতে দিতে পারে।

এই পদ্ধতিতে মূল্য নির্ধারিত হয় আপনাকে কত দ্রুত গতিতে ডাটা ট্রান্সফার করতে দেবে তার উপর। তাই আপনি যদি খুব বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে চান এটিই সাশ্রয়ী পদ্ধতি। এর মাধ্যমে আইএসপি একটি তারের মাধ্যমে আপনাকে সংযোগ দেবে। সেই তার আপনার বাসা বা অফিসে এনে আপনার ওয়াইফাই রাউটারের সাথে সংযুক্ত করে বিভিন্ন ডিভাইসে ইন্টারনেট চালাতে পারবেন।

বাংলাদেশের বড় কিছু আইএসপি হলো: লিংক৩, এম্বার আইটি, আইসিসি কমিউনিকেশন, কার্নিভাল ইত্যাদি। আপনার ডিভাইসে যদি ইথারনেট পোর্ট থাকে তবে আপনি এই তার সরাসরি সংযোগ দিয়ে ইন্টারনেট উপভোগ করতে পারবেন। কিন্তু এতে শুধু সেই ডিভাইসটিই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে। এই সীমাবদ্ধতা দূর করতেই ইন্টারনেট রাউটার ব্যবহার করা হয়। এই তারটি রাউটারে ইথারনেট দ্বারা সংযুক্ত করলে রাউটার এর তৈরি করা নেটওয়ার্ক সীমানার মধ্যে এই ইন্টারনেট ছড়িয়ে দিতে পারে।

ফলে সব ডিভাইসে একসঙ্গে ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে আপনি ইন্টারনেটে সংযুক্ত থাকতে পারবেন। বাজারে ইন্টারনেট রাউটার ৭০০ টাকা থেকেই কিনতে পারবেন। তবে আপনি যদি বেশি ডিভাইসে ইন্টারনেট চালাতে চান তবে সে অনুযায়ী দামী রাউটার কেনাই ভালো। বাজারে টিপি লিংক, টেন্ডা, আসুস, নেটগিয়ার, ডি লিংক ইত্যাদি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রাউটার কিনতে পাওয়া যায়।

🔥🔥 গুগল নিউজে বাংলাটেক সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন 🔥🔥

ইন্টারনেট কিভাবে চালায়? নেট চালানোর নিয়ম জানুন

👉 ইন্টারনেট স্পিড টেস্ট করার নিয়ম – নেট স্পিড চেক করুন সহজেই!

মোবাইল ডাটার জন্য বিভিন্ন অপারেটরের প্যাকেজগুলো বিভিন্নরকম হয়ে থাকে। তবে সবাই ডাটার একটি লিমিট ধরে এবং মেয়াদ দিয়ে মূল্য নির্ধারণ করে থাকে। যেমন কোনো প্যাকেজে ১ গিগাবাইট ডাটা ৭ দিনের জন্য দিলে আপনি ওই ১ গিগাবাইট পর্যন্ত ডাটা ৭ দিন পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন, এর বেশি নয়। ডাটার গতি নির্ধারিত হয় আপনি কোন জেনারেশনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছেন সেটির উপর। বর্তমানে বাংলাদেশে সব অপারেটর ৪জি ডাটা সার্ভিস দিচ্ছে। লিংকে ক্লিক করে বিভিন্ন অপারেটরের ডাটা প্যাকের বিস্তারিত জেনে নিতে পারবেন।

আপনি চাইলে এই মোবাইল ডাটা মোবাইলের মাধ্যমেই হটস্পট তৈরি করে অন্য যেকোনো ডিভাইসে ব্যবহার করতে পারেন। হটস্পট তৈরি বলতে মোবাইলের মাধ্যমেই একটি ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক তৈরিকে বোঝানো হয়। সেখানে ওয়াইফাইয়ের জন্য নাম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে চালু করতে পারবেন মোবাইল হটস্পট

ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন যেভাবে

ইন্টারনেটে সংযুক্ত হবার বিভিন্ন উপায় নিয়ে তো জানলেন। এবার ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন কীভাবে? ইন্টারনেটের সকল তথ্য যার মাধ্যমে থাকে তাকে বলা হয় ওয়েবসাইট। প্রতিটি ওয়েবসাইট আলাদা আলাদা তথ্যের জন্য হয়ে থাকে। বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট রয়েছে। যেমন অন্য ওয়েবসাইট খুঁজে পাবার ওয়েবসাইট গুগল, বিং, ডাকডাকগো ইত্যাদি। আবার সোশ্যাল সাইট হিসেবে আছে ফেসবুক, টুইটার, লিংকডইন ইত্যাদি। এরকম বিভিন্ন কাজের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ওয়েবসাইট। এই ওয়েবসাইটগুলো ব্যবহার করতে বা দেখতে আপনার দরকার হবে ব্রাউজারের।

👉 সকল সিমে আনলিমিটেড ইন্টারনেট প্যাক চালুর নিয়ম

ফোন বা পিসির জন্য বিভিন্ন ব্রাউজার রয়েছে। যেমন: গুগল ক্রোম, ফায়ারফক্স, মাইক্রোসফট এজ, অপেরা, ইউসি ব্রাউজার ইত্যাদি। প্রতিটি ব্রাউজার বিভিন্ন রকম ফিচার নিয়ে আসে। আপনি যেকোনো একটি ব্রাউজার আপনার ফোন বা পিসিতে ইনস্টল করে নিলেই ব্রাউজ করতে পারবেন।

ব্রাউজারের অ্যাড্রেসবারে ওয়েবসাইটের ইউআরএল অ্যাড্রেস বসিয়ে এন্টার চাপলেই সেই ওয়েবসাইটে চলে যেতে পারবেন। ইউআরএল অ্যাড্রেস www. এইভাবে শুরু হয়। এটা অনেকটা মোবাইল নাম্বারের মতো। সকলের যেমন আলাদা মোবাইল নাম্বার থাকে প্রত্যেক ওয়েবসাইটের এরকম আলাদা এড্রেস থাকে। যেমন গুগল সার্চ ইঞ্জিনের অ্যাড্রেস www.google.com

ইন্টারনেট শুধু যে ব্রাউজার দিয়েই ব্যবহার করা যায় তা নয়। পিসির জন্য বিভিন্ন সফটওয়্যার ও ফোনের জন্য বিভিন্ন অ্যাপেও ইন্টারনেট দরকার হয়। ফোনের অ্যাপ স্টোর হতে বিভিন্ন অ্যাপ ইন্সটল করতে পারেন যা ইন্টারনেট ব্যবহার করে চলবে। যেমন সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইট ফেসবুক যেমন আপনি ব্রাউজার দিয়ে ব্যবহার করতে পারেন তেমনি বেশি ফিচার ও সহজে ব্যবহার করতে চাইলে এর অ্যাপ ইনস্টল করে নিতে পারেন। তখন এই অ্যাপটি ইন্টারনেট ব্যবহার করে আপনার সামনে সকল তথ্য প্রদর্শন করবে।

এভাবেই ইন্টারনেটে আপনার যাত্রা শুরু করতে পারেন। ইন্টারনেট আপনার জীবনকে সহজ করে দিতে পারে। দৈনন্দিন খবর, যোগাযোগ, শিক্ষা, চাকরি ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রেই ইন্টারনেট আপনাকে সাহায্য করবে প্রতিনিয়ত। তাই দ্রুতই ইন্টারনেটের দুনিয়া ঘুরে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পারেন।

👉 চাকরির খবর জানার সেরা অ্যাপ ডাউনলোড করুন এখনই

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 8,561 other subscribers

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *