বিকাশ একাউন্টে ভিসা কার্ড ব্যবহারের নিয়ম ও সুবিধা (বোনাস সহ)

ডিজিটাল লেনদেনের অন্যতম বড় মাধ্যম বর্তমানে বিকাশ। দ্রুত টাকা পাঠাতে বা পেমেন্ট করতে বিকাশই সবথেকে সহজ মাধ্যম। একটি বিকাশ অ্যাকাউন্ট থাকলে লেনদেনে পাওয়া যায় বড় সুবিধা। সারা দেশে বিকাশের অসংখ্য এজেন্ট থাকায় বিকাশ ব্যবহার হয়ে উঠেছে এখন অনেকটাই সহজ।

বিল পেমেন্ট, কেনাকাটা, মোবাইল রিচার্জ ইত্যাদি বিভিন্ন জরুরি কাজে আমাদের বিকাশ ব্যালেন্স প্রয়োজন হয়। আর তাই বিকাশে ব্যালেন্স যুক্ত করার জন্য আমরা অনেকেই ব্যবহার করি এজেন্টের মাধ্যমে ক্যাশ ইন ফিচার। তবে ক্যাশ ইন ছাড়াও বিকাশে টাকা যুক্ত করার জন্য নানা রকম অপশন রাখা হয়েছে। এসব অপশনের মধ্যে আছে ব্যাংক টু বিকাশ এবং কার্ড টু বিকাশ।

বর্তমানে প্রায় সকল ব্যাংকই তাদের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে কার্ড প্রদান করে থাকে। অনলাইন লেনদেন বা এটিএমের মাধ্যমে টাকা তুলতে এই কাজ খুব কাজে লাগে। এসব কার্ডের মাধ্যমে চাইলে খুব সহজেই বিকাশে টাকাও যুক্ত করা যায়। তবে আপনার ব্যাংকের কার্ড টি ভিসা বা মাস্টার কার্ড হতে হবে।

কার্ড টু বিকাশ ফিচার ব্যবহার করে অতি সহজেই যে কোন ভিসা কার্ড থেকে বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা নিয়ে আসা যায়। ভিসা কার্ড বিকাশে ব্যবহারের সুবিধা অনেক। অনেক সময়েই ভিসা কার্ডের মাধ্যমে ব্যালেন্স যুক্ত করবার ক্ষেত্রে বিকাশ অফার দিয়ে থাকে। এছাড়া বিকাশে ভিসা কার্ড সেভ করেও রাখা যায়।

ভিসা কার্ড বিকাশ অ্যাকাউন্টে সঠিকভাবে কীভাবে ব্যবহার করবেন সে বিষয়েই আমাদের আজকের পোস্ট। আপনার যদি বিকাশ অ্যাকাউন্ট ও ভিসা কার্ড থেকে থাকে তবে এই পোস্ট থেকেই জেনে নিতে পারবেন এই বিষয়ে বিস্তারিত।

বিকাশ একাউন্টে ভিসা কার্ড ব্যবহারের উপায় ও সুবিধা

বাংলাদেশে যেকোনো ব্যাংক হতে লোকালি ইস্যু করা ভিসা ডেবিট কার্ড বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে বিকাশ একাউন্টে এড মানি করা যাবে। এই সেবা ব্যবহার করতে কোনো ধরণের ফি প্রদান করতে হবেনা। এছাড়া প্রথমবার এড মানি করার পর উক্ত কার্ড ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য সেভ করে রাখতে পারবেন।

বিকাশ একাউন্টে ভিসা কার্ড ব্যবহার করতে

  • বিকাশ অ্যাপে বিকাশ পিন প্রদান করে প্রবেশ করুন
  • “Add Money” অপশন সিলেক্ট করুন
Add Money
  • এরপর “Card to bKash” সিলেক্ট করুন
Card to Bkash
  • এবার “Visa” সিলেক্ট করুন
Select Visa

এখানে ডিফল্টভাবে আপনার বিকাশ নাম্বার বসে যাবে। আপনি যদি অন্য কোনো বিকাশ নাম্বারে ভিসা দ্বারা এড মানি করতে চান, তবে উক্ত নাম্বার প্রদান করুন। নাম্বার প্রদানের পর টাকার পরিমাণ লিখুন।

এরপর আপনার ভিসা কার্ডের তথ্য, যেমনঃ কার্ড নাম্বার, এক্সপায়ারি ডেট ও সিভিভি নাম্বার প্রদান করুন। সিভিভি নাম্বার হলো ভিসা কার্ড এর পেছনে থাকা ৩ বা ৪ ডিজিটের নাম্বার। পরবর্তীতে একই কার্ড দ্বারা এড মানি করতে চাইলে কার্ডের তথ্য সেভ করে রাখার অপশন সিলেক্ট করতে পারেন।

এরপর পরবর্তী পেজে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) প্রদান করে ট্রানজেকশন সম্পন্ন করুন। একদিনে ভিসা কার্ড থেকে বিকাশে সর্বোচ্চ ৩০,০০০টাকা ও ৫টি লেনদেন করা যায়। প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ২৫বারে ২০০,০০০টাকা পর্যন্ত ভিসা কার্ড থেকে বিকাশে এড করা যাবে। 

🔥🔥 গুগল নিউজে বাংলাটেক সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন 🔥🔥

বিকাশ একাউন্টে ভিসা কার্ড ব্যবহার সম্পর্কিত কিছু সমস্যা ও সমাধান

বিকাশ একাউন্টে ভিসা কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক কি সমস্যার ক্ষেত্রে কি সমাধান প্রযোজ্য হবে। 

বিকাশের সাথে ভিসা কার্ড ব্যবহারের নিয়ম

এড মানি এর অর্থ ব্যাংক একাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হয় এই সমস্যায়, কিন্তু টাকা বিকাশ একাউন্টে জমা হয়না। আশা করা যায় এই অবস্থায় ভিসা কার্ডে উক্ত এমাউন্ট পরবর্তী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ফেরত পেয়ে যাবেন।

কোনো কারণে ফান্ড ফিরে না পেলে বিকাশ কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন। আশা করা যায় পরবর্তী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান করে দিবে বিকাশ। এসবের পরেও যদি টাকা ফেরত না আসে তবে ইস্যুকারী ব্যাংকে অভিযোগ জানান। এরপর ভিসা কার্ডের পলিসি অনুসারে এই সমস্যার সমাধান করা হবে।

👉 ভিসা কার্ড ও মাস্টার কার্ডের পার্থক্য কী?

মানি ট্রান্সফার করতে, কার্ড সেভ করতে কিংবা ওটিপি স্ক্রিনের কোনো সমস্যার কারণে কোনো প্রক্রিয়া সঠিকভাবে কাজ না করলে ইস্যুকারী ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করুন ও কার্ডের ‘e-commerce transaction’ ফিচারটি অনলাইন ট্রানজেকশনের জন্য চালু করে দিতে বলুন।

আবার অনলাইন ট্রানজেকশন এর ফিচার চালু করার পরও একই সমস্যায় পড়তে পারেন আইফোন ব্যবহারকারীগণ। এমন অবস্থায় কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংককে আপনার সমস্যা সম্পর্কে জানান।

আবার ই-কমার্স ট্রানজেকশন চালু থাকার পরও সেভ করা কার্ড ব্যবহার করে লেনদেন করা যাচ্ছেনা, কিন্তু সেভ না করা কার্ড দ্বারা ট্রানজেকশন করা যাচ্ছে, এমন অবস্থায় ইস্যুকারী ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করে আপনার সমস্যার কথা জানান। সিভিভি ছাড়া সেভড কার্ড ব্যবহার করে ট্রানজেকশন এর ফিচার চালু করার কথা জানান কার্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে।

👉 ক্রেডিট কার্ড নেয়ার আগে যা জানা দরকার

আবার ই-কমার্স ট্রানজেকশন চালু থাকার পর ওটিপি স্ক্রিনের বারবার সমস্যা হতে পারে যদি ইস্যুকারী ব্যাংকের ওটিপি বা টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন সিস্টেম চালু না থাকে। এমন সমস্যার সম্মুখীন হলে ইসুকারী ব্যাংককে উক্ত সমস্যার কথা জানান।

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 8,562 other subscribers

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *