২০১৬ সালে হারিয়ে গেল যেসব প্রযুক্তি

ঘটনাবহুল ২০১৬ সালে প্রযুক্তিতে আমরা নতুন অনেক কিছুই পেয়েছি। সেই সাথে হারিয়েছিও বেশ কিছু প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট পণ্য। বিদায় ব্যাপারটি যে সবসময় বেদনার, তা কিন্তু নয়। উদ্ভাবনের এই যুগে নিত্যনতুন প্রযুক্তি এসে আমাদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে, সেটাই কাঙ্ক্ষিত। আর নতুনকে জায়গা করে দিতেই ঘটবে পুরনোর প্রস্থান। এজন্যই কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য বলেছেন, “এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান”। তাহলে চলুন দেখি ২০১৬ সালে বিদায় নেয়া উল্লেখযোগ্য কিছু প্রযুক্তি ও প্রযুক্তি পণ্যের তালিকা।

 

১। ভিসিআর

ভিসিআর এর নাম শুনেছেন? না শুনলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই, কারণ এটা কমপক্ষে ৪০ বছরের পুরনো একটা প্রযুক্তি। ভিসিআর হচ্ছে ভিডিও রেকর্ডিং প্রযুক্তি যাতে বড় বড় ক্যাসেট/টেপের মধ্যে ভিডিও সংরক্ষণ করা হত। বর্তমানে সিডি/ডিভিডি, হার্ড ড্রাইভ, মেমোরি কার্ড ও ক্লাউডের যুগে আর ভিসিআর দরকার হয়না। তাই ইতোমধ্যেই বিশ্বের সবগুলো শীর্ষস্থানীয় ভিসিআর ক্যাসেট ও ডিভাইস নির্মাতা কোম্পানি প্রযুক্তিটিকে বিদায় জানিয়েছে। বাকী ছিল শুধু জাপানের ‘ফুনাই ইলেক্ট্রনিক্স’। ২০১৬ সালের জুলাই মাসে ভিসিআর সংশ্লিষ্ট সকল পণ্য উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে ফুনাই।

 

২। সায়ানোজেন

২০১৬’তে এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ভিত্তিক অন্যতম জনপ্রিয় কাস্টম ওএস সায়ানোজেন উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট সেবাসমূহ বন্ধ হয়ে গেছে। সায়ানোজেন ওএস নির্মাতা কোম্পানি সায়ানোজেন ইনকর্পোরেশন ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে সায়ানোজেনের নাইটলি বিল্ড এবং এ সংক্রান্ত সার্ভিসগুলো বন্ধ করে দেয়। ওপেন সোর্স প্রজেক্ট ‘সায়ানোজেন মড’ নাম পরিবর্তিত হয়ে লিনেজ (Linage) নামে নতুন নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করবে। বাণিজ্যিক সায়ানোজেন ওএস এবং কমিউনিটি নির্ভর ‘সায়ানোজেন মড’ এর এখানেই সমাপ্তি।

 

৩। গুগল নেক্সাস ব্র্যান্ড

আগেই বলেছি, নতুনকে জায়গা করে দিতে পুরনোর বিদায়। গুগলের নতুন ডিভাইসগুলোর ব্র্যান্ড এখন ‘পিক্সেল’। ফলে অনিবার্যভাবেই বিদায় নিতে হচ্ছে ‘নেক্সাস’ ব্র্যান্ডকে। গুগলের নিজস্ব তত্বাবধানে তৈরি এসব নেক্সাস ডিভাইস এন্ড্রয়েড ভক্তদের নিকট ভালই জনপ্রিয় ছিল। তবে নতুন ব্র্যান্ড পিক্সেল সেই শূন্যতা পুষিয়ে দিচ্ছে।

 

৪। গ্যালাক্সি নোট ৭

কথায় বলে, “চীনের দুঃখ হুয়াংহো নদী”, সেই সাথে যদি ‘স্যামসাংয়ের দুঃখ গ্যালাক্সি নোট ৭’ বলা হয় তাহলে বোধ হয় ভুল হবেনা। ২০১৬’তে স্যামসাং যখন গ্যালাক্সি নোট ৭ লঞ্চ করল, তখন চারদিক এর প্রশংসায় ভেসে গেল। কেউ কেউ বলল এটি বিশ্বের সবচেয়ে ভাল স্মার্টফোন।

কিন্তু একটি আগুন এসে সবকিছু ধ্বংস করে দিল।

না, এটি মুভি/ড্রামা সিরিয়ালের কোনো অতিপ্রাকৃতিক অগ্নিকুণ্ড নয়, গ্যালাক্সি নোট ৭ এর ব্যাটারি থেকেই এই আগুনের উৎপত্তি। লোকজন ভয় পেয়ে গেল। কারও কারও পকেটের মধ্যেই আগুন জ্বলে উঠল গ্যালাক্সি নোট সেভেনে। সে এক হুলস্থূল কাণ্ড। শেষ পর্যন্ত বাজারে থাকা সকল গ্যালাক্সি নোট ৭ ফেরত নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করল স্যামসাং। ডিভাইসটির উৎপাদন ও বিক্রয় বন্ধ করে দিল এই ইলেকট্রনিকস জায়ান্ট। ২০১৬তে বেশ বড় একটা ধাক্কা খেয়েছে স্যামসাং। আর এই পুরো ঘটনায় কোম্পানিটির প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার গচ্চা গিয়েছে।

 

৫। আইফোনের হেডফোন জ্যাক

২০১৬’তে সেপ্টেম্বরের ১৬ তারিখ থেকে বাজারে যাত্রা শুরু করেছে আইফোন ৭। অ্যাপলের নতুন এই স্মার্টফোন সিরিজে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। নতুন আইফোন সেভেনে হেডফোনের জন্য আলাদা কোনো জ্যাক বা পোর্ট নেই। বরং এর সাথে ব্লুটুথ ইয়ারফোন ব্যবহার করতে হবে। তবে আপনি চাইলে আইফোন সেভেনের চার্জিং পোর্টে আলাদা অ্যাডাপটার লাগিয়ে পুরাতন (তারযুক্ত ৩.৫এমএম) ইয়ারফোন ব্যবহার করতে পারবেন। আইফোন থেকে হেডফোন জ্যাক বাদ দেয়ার বিষয়টিকে ‘সাহসিকতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অ্যাপল সিইও টিম কুক, যদিও অনেকেই সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেছেন। শোনা যাচ্ছে, স্যামসাংও তাদের পরবর্তী ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনে হেডফোন জ্যাক রাখবেনা- যদিও এই তথ্যের সূত্র খুব একটা শক্ত না।

 

এটা ছিল ২০১৬ সালে হারিয়ে যাওয়া কিছু প্রযুক্তি ও প্রযুক্তি পণ্যের তালিকা। ২০১৬’তে কী কী নতুন পণ্য ও প্রযুক্তি এসেছে তা জানতে এই লিংক দেখুন

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 5,051 other subscribers

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.