বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সায়ানোজেন অপারেটিং সিস্টেম

গুগল এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ভিত্তিক অন্যতম জনপ্রিয় কাস্টম ওএস সায়ানোজেন উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট সেবাসমূহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সায়ানোজেন ওএস নির্মাতা কোম্পানি সায়ানোজেন ইনকর্পোরেশন এক ব্লগ পোস্টে এই ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে তারা সায়ানোজেনের নাইটলি বিল্ড এবং এ সংক্রান্ত সার্ভিসগুলো বন্ধ করে দেবে। সেই সাথে ওপেন সোর্স প্রজেক্ট ‘সায়ানোজেন মড’ নাম পরিবর্তিত হয়ে লিনেজ (Linage) নামে নতুন নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করবে। বাণিজ্যিক সায়ানোজেন ওএস এবং কমিউনিটি নির্ভর ‘সায়ানোজেন মড’ এর এখানেই সমাপ্তি।

বিভিন্ন এন্ড্রয়েড ডিভাইস, যেমন ওয়ানপ্লাস ওয়ান ফোনে সায়ানোজেন ওএস ব্যবহৃত হচ্ছে। এখন সায়ানোজেন ওএস এর ডেভেলপমেন্ট বন্ধ হয়ে গেলে এন্ড্রয়েডের নতুন আপডেট ও সিক্যুরিটি ফিক্স পেতে চাইলে এসব ডিভাইসের মালিকদের অন্য রম ব্যবহার করতে হবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সায়ানোজেন ওএস এবং সায়ানোজেন মড এই দুটি অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে। এই দুটি সফটওয়্যারই মূলত এন্ড্রয়েডের কাস্টমাইজড রম। তবে সায়ানোজেন মড ওপেন সোর্স ও কমিউনিটি নির্ভর। সায়ানোজেন ওএস হচ্ছে ক্লোজড সোর্স, যা একটি বাণিজ্যিক পণ্য, যেটি সায়ানোজেন ইনকর্পোরেশন রক্ষণাবেক্ষণ করে। ওপেন সোর্স সায়ানোজেন মড একসময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, যখন গুগল ও মাইক্রোসফটের মত বড় বড় কোম্পানি এটি কিনে নিতে চেয়েছিল। সেই সময় সায়ানোজেন মড বিক্রি করে না দিয়ে রম’টির মূল ডেভলপাররাই সায়ানোজেন ওএস তৈরি করেন এবং বাণিজ্যিক রূপ দেন।

একটা সময় এসেছিল যখন মূল গুগল এন্ড্রয়েডের সাথে পাল্লা দিচ্ছিল সায়ানোজেন। এটি স্টক এন্ড্রয়েড রমের বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। কিন্তু জলে নেমে যেমন কুমিরের সাথে লড়াই করা যায়না, তেমনি গুগলের সুবিশাল এন্ড্রয়েড সাম্রাজ্যেও এন্ড্রয়েডের বিকল্প হওয়ার চেষ্টা করাও অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ।

ভবিষ্যতে সায়ানোজেন এন্ড্রয়েডকে স্থালাভিষিক্ত না করে বরং এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের জন্য মডিউল হিসেবে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেটি কবে হবে কিংবা আদৌ হবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 7,842 other subscribers

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.