ঘূর্ণিঝড় মোখা কবে আসছে? জানুন দরকারি তথ্য

ঘূর্ণিঝড় মোখা আপডেট – লাইভ ব্লগ দেখুন (লাইভ ব্লগ আপডেট হয়েছে ১৩ মে)। 👉 👉 ৮ মে এর পোস্টঃ 👉 শুরু হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম। আবহাওয়ার খবর অ্যাপ এবং সংবাদমাধ্যমে হয়ত আপনি এটা দেখেছেন। বছরের এই সময় বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরির আশংকা থাকে। কখনও কখনও তা মারাত্মক আকার ধারণ করে আঘাত করে দেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে। ঘূর্ণিঝড় নিয়ে তাই আবহাওয়া অধিদপ্তর সবসময়ই বেশ সতর্ক থাকে। কেননা ঘূর্ণিঝড়ের ফলে হওয়া ক্ষয়-ক্ষতি অনেক সময়ই অপূরণীয়। আর তাই এই ক্ষয়-ক্ষতি কমিয়ে আনতেই আগে থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়াসহ অনেক রকম প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়।

সম্প্রতি বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বঙ্গোপসাগরে নতুন একটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই ঘূর্ণিঝড় দেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে একটি নতুন ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হয়েছে যা ৭ মে নাগাদ লঘুচাপে পরিণত হতে পারে। এই লঘুচাপটিই পরিবর্তিত হয়ে রূপ নিতে পারে ঘূর্ণিঝড়ে।

নতুন এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেয়া হয়েছে ‘মোখা’। এবারে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করেছে ইয়েমেন। আরব সাগর এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সকল ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে থাকে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সাইক্লোন সংক্রান্ত আঞ্চলিক সংস্থা এসকাপ। ২০০০ সাল থেকে ঠিক করা হয় এসকাপ (United Nations Economic and Social Commission for Asia and the Pacific) ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেয়ার ব্যাপারে সকল সিদ্ধান্ত নেবে। এই অঞ্চলে থাকা মোট ১৩ টি দেশের প্রস্তাব করা নামের তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে নতুন নতুন ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেয়া হয়ে থাকে। যেমন আগের ঘূর্ণিঝড়টির নাম ছিল ‘সিত্রাং’ যেটি দিয়েছিল থাইল্যান্ড।

তবে নতুন এই ঘূর্ণিঝড়ের নামের অর্থ নিয়ে অনেকের মনেই জাগতে পারে কৌতূহল। চলুন জেনে নেয়া যাক এই নামের অর্থ এবং ঘূর্ণিঝড়টি সম্পর্কে বিস্তারিত সকল তথ্য।

‘মোখা’ নামটি কেন?

আরব সাগরের পাশের দেশ ইয়েমেনের দেয়া মোখা (উচ্চারন মোকা ও হয়ে থাকে) নামটি নিয়ে অনেকের মনেই জেগেছে কৌতূহল। এটি আরবি উচ্চারণের নাম হওয়ায় উচ্চারণটি ‘ক’ এবং ‘খ’ বর্ণের মাঝামাঝি হবে। তবে অনেকেই উচ্চারণের সুবিধার্থে একে ‘মোকা’ সম্বোধন করছেন। এই নামটি অনেকের কাছে পরিচিত মনে হতে পারে। ইয়েমেনের একটি জনপ্রিয় বন্দর শহরের নাম ‘মোখা’। মূলত এই শহরটির নামেই দেয়া হয়েছে এবারের ঘূর্ণিঝড়ের নাম। ১৯ শতক পর্যন্তও মোখা ছিল ইয়েমেনের রাজধানী সানার প্রধান বন্দর। এই শহরটি বিখ্যাত তাদের কফির জন্য।

কফিপ্রেমিরা মোকা কফির নাম অবশ্যই শুনে থাকবেন। ইয়েমেনের এই বন্দর শহর থেকেই উৎপন্ন হয় মোকা কফি। লোহিত সাগরের তীরে গড়ে ওঠা এই বন্দর অটোমান যুগে বিশ্ব কফি বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র ছিল। মূলত এই বিখ্যাত বন্দরের নামেই হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের নাম।

মোখা শব্দটির বর্তমান আভিধানিক অর্থ – অতি উন্নতমানের কফি। তবে সাধারণত ভেড়ার চামড়া দিয়ে তৈরি দস্তানা বিশেষ এবং গাঢ় বাদামি রঙের জলপাই অর্থ প্রকাশেও ব্যবহার করা হয় ‘মোখা’ শব্দটি। শব্দটির উৎস আদি সেমেটিক ভাষা। সেই ভাষায় এর বেশ কয়েকটি অর্থ ছিল – জলাঘাতে বিধ্বস্ত হওয়ার শঙ্কা এবং উর্বর পলিতে সমৃদ্ধ হওয়ার মতো সম্ভাবনায় অঞ্চল; গাঢ় জলপাই রং, প্রবল মেঘে ঢাকা আকাশের রং। অর্থাৎ এই শব্দটির নির্দিষ্ট সেরকম একক অর্থ নেই। কাজেই এবারের ঘূর্ণিঝড়ের নামের কোন একটি স্বতন্ত্র অর্থ নেই। মূলত অঞ্চলের নামেই হয়েছে এর নাম। জানুনঃ ভূমিকম্প কেন হয়? ভূমিকম্প হলে করণীয় কী?

ঘূর্ণিঝড় নিয়ে সর্বশেষ

👉 ঘূর্ণিঝড় মোখা আপডেট – লাইভ ব্লগ 🔴

আশঙ্কা করা হচ্ছে ৭ মে এর পর যে কোন সময় বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হবে লঘুচাপ। আর এই লঘুচাপ থেকেই পরবর্তীতে তৈরি হতে পারে ঘূর্ণিঝড়। মূলত সাগর পারিপার্শ্বিক পরিবেশে তাপমাত্রার বিচ্চ্যুতির জন্য ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়ে থাকে। বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে পানির তাপমাত্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বিচ্চ্যুতি দেখা যাচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর ধারণা করছে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলে এটি আঘাত হানতে পারে ১২ মে থেকে ১৩ মে এর মধ্যে। বর্তমানে আবহাওয়ার ইউরোপীয় মডেল অনুসারে ১২ মে দুপুর ১২টার পর কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় মোখা। তবে আমেরিকান মডেল অনুসারে ১৩ মে দুপুর ১২টার পর উত্তর চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও ভোলা জেলার উপকূল দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগে প্রবেশ করবে। তবে যত সময় গড়াবে ততই এই দুই মডেলের মধ্যে পার্থক্য কমে আসবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

🔥🔥 গুগল নিউজে বাংলাটেক সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন 🔥🔥

Cyclone mocha information

সমুদ্রে তাপমাত্রার বিচ্চ্যুতি বেশি হওয়ায় ঘূর্ণিঝড়টি বেশ শক্তিশালী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাগরে তাপমাত্রার বিচ্চ্যুতি যত বেশি হবে ঘূর্ণিঝড় ততই শক্তিশালী হবে। সাগরে তৈরি হওয়া লঘুচাপটি প্রথমে নিম্নচাপ এবং এরপর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা ঘূর্ণিঝড়টির দিকে গভীর দৃষ্টি রাখছেন। সেই সঙ্গে উপকূল অঞ্চলে সঠিক প্রস্তুতি গ্রহনের আহ্বান জানানো হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা এবং নিজেদের মূল্যবান সকল কিছু নিরাপদে রাখার ব্যাপারে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘূর্ণিঝড় আঘাতের সম্ভাবনা থাকলে সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করা হবে।

শুধুমাত্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলেই সেটির নামকরণ করা হয়। কাজেই এখনই মোখা নামটি ব্যবহার করা সঠিক নয়। তবে আবহাওাবিদেরা অনেকটাই নিশ্চিত যে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে যাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টি রূপ নিলেই সেটিকে মোখা হিসেবে ডাকা হবে। কাজেই আবহাওয়ার খবরের দিকে নজর রাখুন এবং ঘূর্ণিঝড়ের ব্যাপারে সকল রকম সতর্কতা অবলম্বন করুন। তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, বিডিনিউজ২৪, প্রথম আলো

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 8,327 other subscribers

বাংলাটেক টিম
বাংলাটেক টিম

একদল প্রযুক্তি উৎসাহী লেখক, ভিডিও নির্মাতা, এবং গবেষক যারা বাংলা ভাষায় প্রযুক্তি, বিজ্ঞান এবং নিত্যনতুন উদ্ভাবন নিয়ে কন্টেন্ট তৈরি করে থাকেন। তাদের লক্ষ্য হল প্রযুক্তিগত বিভিন্ন তথ্য ও পরামর্শ সহজ এবং সরল ভাষায় উপস্থাপন করা। তারা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জগতের বিভিন্ন গাইডলাইন, রিভিউ এবং টিপস-এন্ড-ট্রিকস প্রদান করেন। বাংলাটেক টিমের নিবেদিত প্রচেষ্টায় পাঠকরা সবসময় আপডেটেড এবং প্রযুক্তিগতভাবে সমৃদ্ধ থাকতে পারেন।

Articles: 1947

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমাদের যেকোনো প্রশ্ন করুন!

Discover more from Banglatech24.com

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading