যে পাঁচটি প্রযুক্তিপণ্য আগামী ৫ বছরের মধ্যে হারিয়ে যাবে

clockপ্রযুক্তি এত দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে যে আগামী ৫ বছর পরে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কোন কোন প্রযুক্তি পণ্য স্থান করে নেবে তা অনুমান করা মুশকিল। কিন্তু বর্তমান আবিষ্কার ও গবেষণা দেখে ভবিষ্যতে কোন কোন প্রযুক্তি পণ্যের ব্যবহার প্রায় শূন্যের কোঠায় আসবে সেটি ধারণা করাই যায়। আজকের পোস্টে আমরা এমন ৫টি প্রযুক্তিপণ্য নিয়ে আলোচনা করব যেগুলো (খুব সম্ভবত) আগামী ৫ বছর পর আর কেউ ব্যবহার করবেনা।

১. ডিভিডি/ ব্লু’রে প্লেয়ার

আপনি নিশ্চয়ই আমার সাথে একমত হবেন, কয়েক বছর পরে ডিভিডি/ ব্লুরে প্লেয়ার আর কেউ ব্যবহার করবেনা। ইদানীং বেশিরভাগ মানুষই ইন্টারনেট থেকে নতুন নতুন সব মুভি/ নাটক প্রভৃতি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান ডাউনলোড করে উপভোগ করেন। সিডি/ডিভিডি ডিস্ক কেনার প্রবণতা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। এছাড়া উন্নত বিশ্বে নেটফ্লিক্স, হুলু ইত্যাদি অনলাইন স্ট্রিমিং সেবার মাধ্যমে অনেকেই কম্পিউটার, স্মার্ট টিভি বা মোবাইল ডিভাইসে বিনোদন নিচ্ছেন। এমনকি পিসি সেটআপ দেয়ার সময়ও এখন দ্রুত কাজ সাড়ার জন্য ইউএসবি ড্রাইভ ব্যবহৃত হচ্ছে। সুতরাং অপটিক্যাল ড্রাইভ মোটামুটি এখনই হারিয়ে যেতে বসেছে। আর পাঁচ বছর পরে নিতান্তই স্মৃতিকাতর মানুষ ছাড়া কেউ এগুলো ব্যবহার করবেনা।

২. কম-দামের ডিজিটাল ক্যামেরা

ডিজিটাল ক্যামেরা কেনার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ভাল মানের ছবি তোলা। আর কম দামের ডিজিটাল ক্যামেরার চাহিদা তখনই থাকে যখন আমরা এটিকে সহজে বহন করতে চাই এবং ছবির মান যথেষ্ট পরিমাণ ভাল আশা করি। আজকাল ৬-৭ হাজার টাকায় ডিজিটাল ক্যামেরা কিনতে পাওয়া যায়। কিন্তু একটু খেয়াল করলে দেখবেন, মোটামুটি ২০ হাজার টাকা দামের একটি ভাল ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন থাকলে আপনি সেটি দিয়েই ছবি তোলার কাজ করতে পারবেন। এর মানও ভাল হবে। তাই, আপনি কোথাও বেড়াতে গেলে ভ্রমণ সহজ করতে চাইলে ছবি তোলার জন্য (যদি বেশী দামের ক্যামেরা না থাকে তবে) আলাদা একটি লো-এন্ড ক্যামেরা নিতে চাইবেন না। এর বদলে আপনার স্মার্টফোন দিয়েই ছবি তোলার অপশন বেছে নেবেন। আর ৫ বছর পরে মোবাইল ফটোগ্রাফি নিঃসন্দেহে উন্নত হবে যা আপনার অল্প দামের ক্যামেরার চেয়ে ভাল পারফর্ম করবে বলেই আমার বিশ্বাস।

অপরদিকে টাইম ডটকম লিখছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিভিন্ন ক্যামেরা নির্মাতা কোম্পানি যেমন নিকন, ক্যানন এবং সনি কম দামের ক্যামেরার ওপর থেকে নজর ফিরিয়ে নেবে। কেননা, ততদিনে লো-এন্ড ক্যামেরার মার্কেট স্মার্টফোন দ্বারা দখল হয়ে যাবে।

৩. ডায়াল-আপ ইন্টারনেট

ইন্টারনেট সেবাদাতা কোম্পানি (আইএসপি) দ্রুত বাড়ছে। আর ওয়্যারলেস থ্রিজি, ফোরজি, ওয়াই ম্যাক্স এসব প্রযুক্তির ভীড়ে পিএসটিএন নির্ভর ডায়াল-আপ ইন্টারেনেট কানেকশন এখনই কমে আসছে। সুতরাং পাঁচ বছর পরে কচ্ছপ গতির ডায়াল-আপ সংযোগ না থাকারই কথা! কী বলেন?

৪. গাড়ির চাবি

এটি একটু অ্যাডভান্সড ব্যাপার। আমাদের দেশের ক্ষেত্রে সহসাই প্রযোজ্য না হলেও আগামী ৫ বছরের মধ্যে উন্নত দেশসমূহ গাড়ীর চাবির ব্যবহার অনেক কমে যাবে। বর্তমানে নতুন গাড়িতে স্মার্টকি জুড়ে দেয়া হচ্ছে যার ফলে ড্রাইভাররা নিজস্ব প্রোফাইল, রিমোট স্টার্ট, চাবি বিহীন এক্সেস প্রভৃতি সুবিধা উপভোগ করতে পারছেন। আবার স্মার্ট কি চালু হলে দ্রুতই এর স্থান দখল করে নেবে স্মার্টফোন। কেননা, আজকাল স্মার্টফোনের এনএফসি, ব্লুটুথ, ওয়াফাই প্রভৃতি প্রযুক্তির মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত অনেক যন্ত্রই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।

৫. স্ট্যান্ড-অ্যালোন ইন-কার জিপিএস ইউনিট

মাত্র ৬ বছর সময়ের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী ১.৩ বিলিয়নের বেশি আইফোন ও এন্ড্রয়েড চালিত স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে এবং এতে ম্যাপিং সফটওয়্যার রয়েছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ২০০০ সালের দিকে বিশ্বজুড়ে এগুলো ব্যাপক সাফল্য লাভ করেছিল। কিন্তু এরপর যখনই স্মার্টফোনে জিপিএস পাওয়া শুরু হয়েছে তখন থেকে যানবাহনের জন্য স্ট্যান্ড-অ্যালোন জিপিএস সিস্টেম বিক্রি প্রতি বছর ১৫-২০ শতাংশ হারে কমতে শুরু করেছে

৭৫ থেকে ৩৫০ মার্কিন ডলার মূল্যের স্ট্যান্ড-অ্যালোন ইন কার জিপিএস ইউনিট নির্মাতা কোম্পানি যেমন গারমিন, টমটম প্রভৃতি ইতোমধ্যেই মুনাফায় নিম্নগতি দেখা শুরু করেছে। সামনের বছরগুলিতে স্মার্টফোন ব্যাটারিতে অবশ্যই উন্নয়ন আসবে। তখন ব্যবহারকারীরা মোবাইলেই আরও দীর্ঘক্ষণ ধরে জিপিএস সুবিধা নিতে পারবেন। সুতরাং স্ট্যান্ড-অ্যালোন ইন কার জিপিএস ইউনিটের সুদিন শেষ হয়ে আসছে।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 4,949 other subscribers

Comments