প্রযুক্তি দুনিয়ায় আবারও আলোচনার কেন্দ্রে অ্যাপলের পরবর্তী প্রজন্মের স্মার্টফোন। নতুন একটি প্রতিবেদনে আইফোন ১৮ প্রো নিয়ে উঠে এসেছে পাঁচটি বড় সম্ভাব্য পরিবর্তনের তথ্য। যদিও আনুষ্ঠানিক উন্মোচনের এখনও অনেক দেরি, তবুও ফাঁস হওয়া তথ্যগুলো ইতিমধ্যে প্রযুক্তিপ্রেমীদের আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে। চলুন একে একে জেনে নেওয়া যাক আইফোন ১৮ প্রো–তে কী কী বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
ছোট হয়ে আসছে ডাইনামিক আইল্যান্ড
আইফোনের সাম্প্রতিক ডিজাইনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ডাইনামিক আইল্যান্ড। কিন্তু আইফোন ১৮ প্রো–তে এটি আগের তুলনায় আরও ছোট হতে পারে। জানা গেছে, ফেস আইডির কিছু সেন্সর ডিসপ্লের নিচে স্থানান্তর করা হতে পারে। এর ফলে উপরের অংশে যে কাটআউট দেখা যায়, সেটি কম জায়গা নেবে। ব্যবহারকারীরা পাবেন আরও বেশি ফুল-স্ক্রিন অভিজ্ঞতা।
অ্যাপল ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ বেজেল-লেস ডিজাইনের দিকে এগোচ্ছে। ছোট ডাইনামিক আইল্যান্ড সেই যাত্রারই আরেকটি ধাপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার ক্যামেরা, ফটোগ্রাফিতে নতুন মাত্রা
আইফোন ১৮ প্রো–এর সবচেয়ে বড় আপগ্রেড হতে পারে এর প্রধান ক্যামেরায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৮ মেগাপিক্সেলের মূল ক্যামেরায় যুক্ত হতে পারে ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার প্রযুক্তি। ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার মানে হলো ক্যামেরা লেন্সের খোলা-বন্ধ হওয়ার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। কম আলোতে লেন্স বেশি খুলবে, আর বেশি আলোতে ছোট হবে। ফলে ছবি হবে আরও ব্যালান্সড ও প্রাকৃতিক।
লো-লাইট ফটোগ্রাফি, পোর্ট্রেট এবং ভিডিওগ্রাফিতে এর প্রভাব বড় হতে পারে। সফটওয়্যার নির্ভরতার পাশাপাশি হার্ডওয়্যার-ভিত্তিক উন্নতি ছবির মানকে এক নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। যারা নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করেন, বিশেষ করে ভিডিও বানান, তাদের জন্য এটি হতে পারে বড় সুবিধা।

🔥🔥 গুগল নিউজে বাংলাটেক সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন 🔥🔥
A20 প্রো চিপ, ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির সম্ভাবনা
পারফরম্যান্সের দিক থেকে আইফোন ১৮ প্রো–তে থাকতে পারে সম্পূর্ণ নতুন এ-টোয়েন্টি প্রো চিপ। এটি তৈরি হতে পারে টু-ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে।
এই চিপ উৎপাদনে কাজ করতে পারে তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর জায়ান্ট TSMC। ছোট ন্যানোমিটার মানে একই জায়গায় আরও বেশি ট্রানজিস্টর, ফলে বেশি গতি এবং কম বিদ্যুৎ খরচ।
টু ন্যানোমিটার প্রযুক্তি ব্যবহৃত হলে ফোন হবে আরও দ্রুত, একই সঙ্গে ব্যাটারি সাশ্রয়ী। ভারী গেম, উচ্চ রেজোলিউশনের ভিডিও সম্পাদনা কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কাজ আরও মসৃণভাবে করা যাবে।
নতুন N2 নেটওয়ার্ক চিপ
আইফোন ১৮ প্রো–তে থাকতে পারে নতুন এন-টু নেটওয়ার্কিং চিপ। এর মাধ্যমে ওয়াই-ফাই এবং ব্লুটুথ সংযোগ আরও উন্নত হতে পারে।
ভবিষ্যতের দ্রুতগতির ওয়াই-ফাই প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এই আপগ্রেড গুরুত্বপূর্ণ। বেশি ডাউনলোড স্পিড, কম ল্যাটেন্সি এবং স্ট্যাবল সংযোগ ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করবে।
সারা বিশ্বেই দ্রুতগতির মোবাইল ইন্টারনেটের বিস্তার ঘটছে। উন্নত নেটওয়ার্ক চিপ থাকলে ভবিষ্যতের অবকাঠামোর সঙ্গে ফোনটি সহজেই মানিয়ে নিতে পারবে।
👉 আইফোনের ব্যাটারি কখন পরিবর্তন করা উচিত? জানুন
C2 মডেম, অ্যাপলের নিজস্ব সংযোজন
আইফোন ১৮ প্রো–তে থাকতে পারে অ্যাপলের নিজস্ব সি-টু মডেম। ধীরে ধীরে বাইরের সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব মডেম প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে অ্যাপল।
নিজস্ব মডেম মানে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যে আরও ভালো সমন্বয়। এর ফলে কল কোয়ালিটি, মোবাইল ডেটা গতি এবং এনার্জি ইফিশিয়েন্সি উন্নত হতে পারে।
বিশেষ করে মোবাইল ডেটা ব্যবহারের সময় ব্যাটারি খরচ কমে আসতে পারে, যা ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা।
ডিজাইনে সূক্ষ্ম পরিবর্তন
ছোট ডাইনামিক আইল্যান্ড ছাড়াও সামগ্রিক ডিজাইনে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। বর্ডার আরও সরু হতে পারে, আর ফোনটি দেখতে আরও প্রিমিয়াম অনুভূত হতে পারে।
ডিসপ্লের উজ্জ্বলতা, রঙের নির্ভুলতা এবং শক্তি সাশ্রয়ী প্রযুক্তিতেও উন্নতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন প্রজন্মের ওএলইডি প্যানেল ব্যবহার করা হলে আউটডোর ব্যবহারে আরও ভালো অভিজ্ঞতা মিলতে পারে।
কেন এই আপগ্রেডগুলো গুরুত্বপূর্ণ?
প্রতি বছরই অ্যাপল তাদের স্মার্টফোনে উন্নতি আনে। কিন্তু আইফোন ১৮ প্রো–এর ক্ষেত্রে চিপ, ক্যামেরা এবং কানেক্টিভিটিতে একসঙ্গে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
এটি কেবল নিয়মিত আপডেট নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রযুক্তির দিকে একটি স্পষ্ট অগ্রযাত্রা হতে পারে। বিশেষ করে টু ন্যানোমিটার চিপ এবং ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার যুক্ত হলে এটি পেশাদার ব্যবহারকারীদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
👉 আইফোন চুরি হলেও নতুন ফোন দেবে অ্যাপল, যদি এই সেবাটি কেনেন
সম্ভাব্য উন্মোচনের সময়
অ্যাপল সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসে নতুন আইফোন উন্মোচন করে থাকে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেই আইফোন ১৮ প্রো সিরিজ উন্মোচিত হতে পারে।
উন্মোচনের আগে আরও তথ্য, লিক এবং বিশ্লেষণ সামনে আসবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
শেষ কথা
আইফোন ১৮ প্রো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি। তবে ফাঁস হওয়া তথ্যগুলো যদি সত্যি হয়, তাহলে এটি হতে পারে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় আপগ্রেডগুলোর একটি। ছোট ডাইনামিক আইল্যান্ড, ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার ক্যামেরা, টু ন্যানোমিটার চিপ, উন্নত নেটওয়ার্কিং এবং নিজস্ব মডেম, সব মিলিয়ে এটি হতে পারে একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্ল্যাগশিপ অভিজ্ঞতা। প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য এখন অপেক্ষা শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার।
- বাংলাটেক ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিয়ে প্রযুক্তি বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুনঃ এখানে ক্লিক করুন।
- বাংলাটেক ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন।
- বাংলাটেক ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন এবং দারুণ সব ভিডিও দেখুন।
- গুগল নিউজে বাংলাটেক সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন।
- বাংলাটেক সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুন এই লিংকে।
- প্রযুক্তির সব তথ্য জানতে ভিজিট করুন www.banglatech24.com সাইট।

আমাদের যেকোনো প্রশ্ন করুন!