এক সময় মোবাইল ফোন মানেই ছিল বাটন। প্রতিটি মেসেজ বা ইমেইল লেখার সময় আঙুলের নিচে বাটনের স্পষ্ট অনুভূতি পাওয়া যেত। পরে টাচস্ক্রিন এসে ধীরে ধীরে সেই অভ্যাস বদলে দেয়। এখন প্রায় সব ফোনই বড় স্ক্রিন আর ভার্চুয়াল কিবোর্ডের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বছরের পর বছর স্ক্রল আর ভার্চুয়াল কিবোর্ডে টাইপ করতে করতে অনেক ব্যবহারকারীই বুঝতে পারছেন, সব কাজের জন্য এই অভিজ্ঞতা আর স্বস্তিদায়ক নয়।
ঠিক এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রযুক্তি পণ্য নির্মাতা কোম্পানি ‘ক্লিকস’। প্রতিষ্ঠানটি এর আগেও ফোনের জন্য কিবোর্ড তৈরি করে আলোচনায় এসেছিল। ক্লিকস এবার বাজারে আনছে ব্ল্যাকবেরি-স্টাইলের নিজস্ব একটি স্মার্টফোন, পাশাপাশি থাকছে আলাদা করে কেনার মতো একটি স্ন্যাপ-অন মোবাইল কিবোর্ড। এই ঘোষণাটি প্রযুক্তি দুনিয়ায় বেশ আগ্রহ তৈরি করেছে, কারণ এটি শুধু নতুন প্রোডাক্ট নয়, বরং স্মার্টফোন ব্যবহারের ধরন বদলে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।
ব্ল্যাকবেরি-অনুপ্রাণিত ক্লিকস কমিউনিকেটর
ক্লিকস যে স্মার্টফোনটি আনছে, তার নাম কমিউনিকেটর। নাম শুনলেই বোঝা যায়, এই ফোনের মূল লক্ষ্য যোগাযোগকে আরও সহজ ও কার্যকর করা। ফোনটির ডিজাইন দেখলে অনেকেরই পুরোনো দিনের ব্ল্যাকবেরি ফোনের কথা মনে পড়ে যাবে। নিচের অংশজুড়ে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ ফিজিক্যাল QWERTY কিবোর্ড, যেখানে প্রতিটি বাটন প্রেস করে অনুভব করা যায়।
এই কিবোর্ড শুধু টাইপ করার জন্য নয়। ব্যবহারকারী চাইলে কিবোর্ডের ওপর আঙুল বুলিয়ে স্ক্রলও করতে পারবেন। এক সময় ব্ল্যাকবেরি ফোনে এই সুবিধাটি খুব জনপ্রিয় ছিল, আর ক্লিকস সেটিকেই আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে আবার ফিরিয়ে আনছে।
অ্যান্ড্রয়েড ১৬ এবং প্রোডাক্টিভিটি সফটওয়্যার অভিজ্ঞতা
ক্লিকস কমিউনিকেটর চলবে অ্যান্ড্রয়েড ১৬ অপারেটিং সিস্টেমে। তবে এটি সাধারণ অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মতো নয়। এখানে অ্যাপের ভিড় কমিয়ে এনে একটি ফোকাসড অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ইমেইল, মেসেজিং ও কাজের প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো সহজেই সামনে পাওয়া যাবে। ক্লিকসের লক্ষ্য একটাই, ব্যবহারকারী যেন কম স্ক্রল করেন আর বেশি কাজ করতে পারেন। অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বা সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত প্রভাব থেকে ব্যবহারকারীকে দূরে রাখাই এই ফোনের মূল দর্শন।

🔥🔥 গুগল নিউজে বাংলাটেক সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন 🔥🔥
পুরোনো দিনের হার্ডওয়্যার ফিচারের প্রত্যাবর্তন
আজকের অনেক ফ্ল্যাগশিপ ফোনে এমন কিছু দরকারি ফিচার আর দেখা যায় না। ক্লিকস কমিউনিকেটরে সেগুলো আবার ফিরছে। ফোনটিতে থাকছে হেডফোন জ্যাক, ফলে আলাদা কোনো অ্যাডাপ্টার ছাড়াই সাধারণ হেডফোন ব্যবহার করা যাবে।
এছাড়া থাকছে মাইক্রোএসডি কার্ড সাপোর্ট, যার মাধ্যমে বড় পরিমাণ স্টোরেজ যুক্ত করা সম্ভব। ফিজিক্যাল সিমের পাশাপাশি ই-সিম সুবিধাও থাকবে। এমনকি আলাদা করে একটি এয়ারপ্লেন মোড সুইচ রাখা হয়েছে, যা অনেক ব্যবহারকারীর কাছে পুরোনো ফোনের স্মৃতি জাগিয়ে তুলবে।
নোটিফিকেশন লাইট ও প্রম্পট বাটন
ক্লিকস কমিউনিকেটরের আরেকটি ব্যতিক্রমী দিক হলো ফোনের পাশে থাকা নোটিফিকেশন লাইট। ব্যবহারকারী চাইলে আলাদা আলাদা অ্যাপ বা নির্দিষ্ট কন্টাক্টের জন্য আলাদা সিগন্যাল সেট করতে পারবেন। ফোন খুলে না দেখেও বোঝা যাবে, কী ধরনের নোটিফিকেশন এসেছে।
এছাড়া ফোনটিতে একটি বিশেষ প্রম্পট কি/বাটন রাখা হয়েছে। এই বোতাম দিয়ে দ্রুত ভয়েস নোট নেওয়া, ডিকটেশন চালু করা কিংবা ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ফিচার ব্যবহারের সুযোগ রাখা হচ্ছে। ক্লিকস জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে এই বোতামের ব্যবহার আরও বাড়ানো হবে।
👉 এক চার্জে ২২ দিন চলবে নকিয়ার নতুন ফোন – বাটন মোবাইলেই ৪জি
স্ন্যাপ-অন মোবাইল কিবোর্ড, আলাদা সমাধান
যারা নতুন ফোন কিনতে চান না, কিন্তু ফিজিক্যাল কিবোর্ডের সুবিধা চান, তাদের জন্য ক্লিকস আনছে স্ন্যাপ-অন মোবাইল কিবোর্ড। এই কিবোর্ডটি চুম্বক প্রযুক্তির মাধ্যমে ফোনের সঙ্গে যুক্ত হবে।
কিবোর্ডে থাকবে নিজস্ব ব্যাটারি, যা প্রয়োজনে ফোনকেও চার্জ দিতে পারবে। এটি ব্লুটুথের মাধ্যমে কাজ করবে, ফলে শুধু ফোন নয়, ট্যাবলেট বা অন্য স্মার্ট ডিভাইসেও ব্যবহার করা যাবে। পথে ঘাটে যাদের বেশি লিখতে হয়, তাদের জন্য এটি হতে পারে বেশ কার্যকর একটি সমাধান।
কারা ব্যবহার করবে এই কিবোর্ড ফোন?
ক্লিকস কমিউনিকেটর মূলত সেইসব ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি, যাদের স্মার্টফোনে অনেক বেশি লিখতে হয়। সাংবাদিক, কনটেন্ট নির্মাতা, কর্পোরেট চাকরিজীবী, উদ্যোক্তা বা ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ফিজিক্যাল কিবোর্ড এখনো অনেক বেশি কার্যকর। আর হ্যাঁ, এই ফোনটির দাম ৫০০ ডলার।
ভার্চুয়াল কিবোর্ডে লম্বা লেখা টাইপ করতে গিয়ে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। সেখানে ফিজিক্যাল কিবোর্ডে টাইপিং স্পিড ও নির্ভুলতা দুটোই বাড়ে।
বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্ব
বাংলাদেশে অনেক ব্যবহারকারী এখনো মোবাইল ফোন দিয়েই অফিসের ইমেইল, রিপোর্ট বা ডকুমেন্ট তৈরি করেন। তাদের জন্য এই ধরনের ফোন বাস্তব সমাধান হতে পারে। যদিও এটি সবার জন্য নয়, তবে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যবহারকারীর কাছে এটি আলাদা গুরুত্ব পাবে।
👉 ফোনের মধ্যেই কি পাওয়ার ব্যাংক দিবে স্যামসাং? ২০,০০০ mAh ব্যাটারি!
দাম কিছুটা বেশি হলেও যারা ফোনকে কাজের যন্ত্র হিসেবে দেখেন, তারা ব্যবহারযোগ্যতার দিকটি বেশি গুরুত্ব দেবেন।
বর্তমান স্মার্টফোন বাজারে প্রায় সব ব্র্যান্ডই একই পথে হাঁটছে। বড় স্ক্রিন, শক্তিশালী ক্যামেরা আর দ্রুত প্রসেসরই মূল আকর্ষণ। ক্লিকস সেই স্রোতের বাইরে গিয়ে ভিন্ন একটি দর্শন সামনে আনছে।
তারা দেখাতে চায়, স্মার্টফোন আবারও হতে পারে কাজের সঙ্গী, শুধু সময় নষ্ট করার যন্ত্র নয়। ফিজিক্যাল কিবোর্ডের এই প্রত্যাবর্তন শুধু নস্টালজিয়া নয়, বরং বাস্তব প্রয়োজনের প্রতিফলন।
শেষ কথা
ক্লিকসের এই উদ্যোগ সফল হোক বা না হোক, এটি স্মার্টফোন দুনিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। আমরা ফোন ব্যবহার করছি কেন, আর কীভাবে। হয়তো ভবিষ্যতে আরও ব্র্যান্ড কাজকেন্দ্রিক স্মার্টফোন নিয়ে ভাবতে শুরু করবে।
টাচস্ক্রিনের যুগে ফিজিক্যাল কিবোর্ডের এই প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করে, পুরোনো ধারণাকেই নতুনভাবে ব্যবহার করে আধুনিক সমস্যার সমাধান সম্ভব।
- বাংলাটেক ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিয়ে প্রযুক্তি বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুনঃ এখানে ক্লিক করুন।
- বাংলাটেক ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন।
- বাংলাটেক ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন এবং দারুণ সব ভিডিও দেখুন।
- গুগল নিউজে বাংলাটেক সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন।
- বাংলাটেক সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুন এই লিংকে।
- প্রযুক্তির সব তথ্য জানতে ভিজিট করুন www.banglatech24.com সাইট।

আমাদের যেকোনো প্রশ্ন করুন!
মোবাইলটি অনলাইনে অর্ডার করার কোন অপশন আছে কি? অথবা এই মোবাইলটি বাংলাদেশ থেকে ক্রয় করা যাবে কিনা ?
অনলাইনেই অর্ডার করা যাবে, তবে বাংলাদেশের বাজারে পেতে একটু সময় লাগবে।