স্যামসাং কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে ২০১৫’তে?

samsung events

স্যামসাংয়ের জন্য ২০১৪ বছরটি খুব একটা ভাল যায়নি। ২০১৫ এর জন্য তাদের আয়োজনও খুব একটা ভাল নয়। প্রতিযোগিতা, সস্তা ফোন ইত্যাদি কারনে স্যামসাংয়ের লাভজনক অবস্থা ধরে রাখা দিনকে দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

স্যামসাং তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থা এড়াতে টাইজেন অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছিল কিন্তু তাও এখন মন্থর অবস্থায় আছে। যদিও ২০১৪ সালে কমপক্ষে একটি টাইজেন ওএস চালিত ফোন আসার কথা শোনা গিয়েছিল কিন্তু সে সম্পর্কে স্যামসাং এখনো পর্যন্ত কোন নিশ্চয়তা দেয়নি।

টাইজেন আলাদা ভাবে আসবে যার ওপর স্যামসাংয়ের পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকবে। ডিভাইস নির্মাতারা এন্ড্রয়েড ওএস বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারলেও ফোনগুলো এমন চুক্তি সহকারে তৈরি হচ্ছে যার ফলে তা গুগলের বিভিন্ন সেবা যেমন জিমেইল, গুগল ম্যাপ এবং প্লে স্টোর নিয়েই আসবে।

যারা টাইজেন চেখে দেখেছেন তাদের কারও কারও মতে এতে এমন কোন ভিন্নতা নেই যা গ্রাহকদেরকে এর দিকে এন্ড্রয়েডের চেয়ে বেশি আকর্ষণ করবে। এখানে টাইজেন চালিত একটি স্যামসাং স্মার্টফোনের নমুনা দেখুনঃ

tizen on samsung phone

এর ইন্টারফেসও অনেকটা এন্ড্রয়েডের মতই। কিন্তু টাইজেনের জন্য খুব বেশি অ্যাপ নেই যা এন্ড্রয়েডের জন্য আছে। আর মানুষ ভাল অ্যাপ ও নতুন কিছু না পেলে কেনইবা এটি ব্যাবহার করবে। ব্লাকবেরির পতনের মুল কারনও এটাই ছিল।

অপরদিকে শাওমি (Xiaomi) এর মত চায়নিজ ফোন উৎপাদনকারীরা স্যামসাংয়ের মত শক্তিশালী ডিভাইস বিক্রি করছে প্রায় অর্ধেক দামে। একারনে শাওমি এখন পৃথিবীর মধ্যে চতুর্থ বড় ফোন উৎপাদনকারী হিসেবে পরিচিত। এন্ড্রয়েড ফোনগুলোর ক্ষেত্রে এর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কোনটি সেটি এখন আর খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

এদিকে স্যামসাং এন্ড্রয়েড ডিভাইসের জন্য বেশ কিছু সেবা দিচ্ছে কিন্তু সেগুলোও খুব একটা জনপ্রিয়তা পায়নি যেমন মিল্ক মিউজিক যা অনেকটা পেনডোরার মত কিন্তু অতটা ভাল নয় এরপর আছে মিল্ক ভিডিও যা সীমিত সংখ্যক নির্বাচন সুবিধা দেয়। আর ইনস্ট্যান্ট ম্যাসেজিং হিসেবে আছে চ্যাটঅন যা প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে বন্ধ হতে চলেছে।

এতকিছুর পরও টাইজেন বন্ধ হওয়া থেকে কিছুটা দূরে। এটি স্যামসাং এর স্মার্টওয়াচ গুলোতে আসছে এবং স্মার্ট হোম কন্ট্রোলার হিসেবে ভবিষ্যতে আসবে যার দ্বারা লাইট, ওয়াসিং মেশিন, এসি ইত্যাদি গৃহ সামগ্রী ফোন দিয়ে কন্ট্রোল করা যাবে।

টাইজান স্যামসাংয়ের জন্য খুবই আশাব্যঞ্জক একটি পদক্ষেপ ছিল কিন্তু এটির অবস্থান এখন অনেকটা নিম্নমুখী।

এখন দেখার পালা ২০১৫’তে স্যামসাং তার প্রতিযোগীদের তুলনায় বাজারে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে যেখানে একদিকে অ্যাপেলের মত ইউনিক হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার ডিজাইন অন্য দিকে শাওমির মত স্বল্প মুল্যের এন্ড্রয়েড।

আপনার কী মনে হয়? স্যামসাং কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে ২০১৫’তে?

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 4,043 other subscribers

Comments