ডাটা এন্ট্রি করে ইনকাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং কাজগুলোর মধ্যে ডাটা এন্ট্রির জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। আহামরি পূর্ব অভিজ্ঞতা লাগেনা বলে ডাটা এন্ট্রি করে আয় করতে পারেন যেকেউ। ডাটা এন্ট্রি করে আয় বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। এই পোস্টে আমরা ডাটা এন্ট্রি কি, কত প্রকার ও কিভাবে করবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো। অর্থাৎ এই পোস্টটি হতে যাচ্ছে ডাটা এন্ট্রি সম্পর্কে সম্পূর্ণ গাইড।

ডাটা এন্ট্রি কি ?

ডাটা এন্ট্রির কাজ শেখার আগে ডাটা এন্ট্রি কি সে বিষয়ে জানতে হবে। ডাটা এন্ট্রি মানে হলো মূলত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ডাটাকে এন্ট্রি বা লেখা/প্রবেশ করানো। অর্থাৎ আপনি এক সোর্স থেকে অন্য সোর্স কিছু একটা বিষয় লিখলেন বা কপি করলেন, তাকে বলা হচ্ছে ডাটা এন্ট্রি। অর্থাৎ তথ্য লিপিবদ্ধের/বিন্যস্ত করার কাজকে ডাটা এন্ট্রি বলা হচ্ছে। এই ডাটা বা তথ্য হতে পারে যেকোনো ধরনের মিডিয়া, ফাইল, ইনফরমেশন, ইত্যাদি।

অনেক সময় ফিজিক্যাল পেপার ডকুমেন্টকে ডিজিটালাইজ করতে সেগুলোকে কম্পিউটারে লিপিবদ্ধ করা হয় ও ডিজিটাল কপিতে পরিণত করা হয়। যে ব্যক্তি ডাটা এন্ট্রির কাজ করেন তাকে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর বলা হয়।

সাধারণ কম্পিউটার ব্যবহার ও টাইপিং এর মোটামুটি দক্ষতা থাকলে যেকেউ ডাটা এন্ট্রি করতে পারেন। এক্ষেত্রে মাইক্রোসফট অফিস অ্যাপগুলোর পাশাপাশি কিছু বাড়তি সফটওয়্যার ব্যবহার জানার প্রয়োজন পড়তে পারে। তবে ডাটা এন্ট্রির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে দ্রুত টাইপ করার দক্ষতা, যেহেতু এখানে আপনার অনেক বড় মাপের ডাটা নিয়ে কাজ করতে হবে।

ডাটা এন্ট্রি কত প্রকার?

বর্তমানে যেকোনো ইন্ডাস্ট্রিতে সকল তথ্য কম্পিউটারে সংরক্ষিত থাকে। এর ফলে ফিজিক্যাল ডকুমেন্টগুলোকে কম্পিউটারে ডিজিটালি সংরক্ষণ করার প্রয়োজন পড়ে, যার কারণে দরকার হয় ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের। বর্তমানের আধুনিক সময়ে যেকোনো ক্ষেত্রে প্রায় প্রত্যেকটি কাজ একটি কম্পিউটারের মাধ্যমেই করা হয়। এই কারণে ডাটা এট্রি অপারেটরের প্রয়োজন বাড়ছে, তার সাথে বাড়ছে ডাটা এন্ট্রি করে আয়ের সুযোগ।

ডাটা এন্ট্রি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। সবচেয়ে অধিক প্রচলিত ডাটা এন্ট্রির কাজ হলো মাইক্রোসফট এক্সেল সফটওয়্যারে ডাটা এন্ট্রির কাজ। এছাড়া স্পেল চেকিং, জব পোস্টিং, পেপার ডকুমেন্টেশন, ইত্যাদিও বেশ জনপ্রিয় ডাটা এন্ট্রির কাজ।

চলুন একনজরে জেনে নেওয়া যাক কিছু জনপ্রিয় ডাটা এন্ট্রি জব সম্পর্কে।

সাধারণ ডাটা এন্ট্রি

এই ধরনের ডাটা এন্ট্রি মূলত বিভিন্ন ধরনের ডাটা সোর্স ফাইল যেমনঃ কাগজ বা অন্য কোনো কিছু থেকে ডিজিটাল ফরম্যাটে লিপিবদ্ধ করার কাজ হয়ে থাকে।

প্রোডাক্ট ডাটা এন্ট্রি

কিছু কোম্পানির তাদের প্রোডাক্টের তথ্যের রেকর্ড রাখার প্রয়োজন পড়ে। এসব কোম্পানি এই কাজের জন্য ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আউটসোর্স করে থাকে। এই কাজের ক্ষেত্রে মূলত প্রোডাক্ট ও এর তথ্যকে সঠিক ফরম্যাটে সাজাতে হয়।

👉 ফ্রিল্যান্সিং শেখার কোর্স – জানুন কিভাবে অনলাইন ইনকাম শুরু করবেন

একাউন্টিং ডাটা এন্ট্রি

অনেক সময় অফিসের বিভিন্ন একাউন্টিং সম্পর্কিত তথ্য পুনরায় চেক করার প্রয়োজন হয়, যা করতে ফ্রিল্যান্সার হায়ার করে থাকে কোম্পানিগুলো। এই কাজের ক্ষেত্রে সাধারণত অফিসের বিভিন্ন তথ্য স্প্রেডশিট বা যেকোনো সুবিধাজনক ফরম্যাটে আনার কাজ করতে হয়।

ডাটা ক্যাপচারিং এন্ড রেন্ডারিং

হার্ড কপি থেকে সফট কপি হিসেবে কোনো ডাটাকে একত্র করে বিশাল ডাটাবেস তৈরি করতে এই ধরনের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর প্রয়োজন হয়।

অনলাইন ডাটা এন্ট্রি

যেসব ডাটা এন্ট্রির কাজ বিভিন্ন পোর্টাল বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে করা হয় সেগুলোকে এই ক্যাটাগরিতে ফেলা হয়। এখানে মূলত রিসোর্স ফাইল থেকে কোনো ওয়েবসাইটে তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হয়।

অফলাইন ডাটা এন্ট্রি

হার্ড কপি ডাটাকে ডিজিটাল ফরম্যাটে করার কাজ অফলাইনেও করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে কোনো ডাটাকে কম্পিউটারের কোনো সফটওয়্যারে লিপিবদ্ধ করা হয়ে থাকে।

👉 ডাটা এন্ট্রি জব করার সেরা ৯ ওয়েবসাইট

ডাটা এন্ট্রি কি ? ডাটা এন্ট্রি কত প্রকার? জেনে নিন

🔥🔥 গুগল নিউজে বাংলাটেক সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন 🔥🔥

ডাটা মাইনিং

বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলোকে এনালাইজ করাকে ডাটা মাইনিং বলা হয়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক ডিসিশন সহজে নেওয়া যায়। 

নিউমেরিক ও টেক্সট এন্ট্রি

ব্যবসার বিভিন্ন ডকুমেন্ট ঠিকভাবে সাজানো ও প্রয়োজন অনুসারে নাম্বারিং করার কাজ। এর মাধ্যমে ডাটাবেসে প্রফেশনাল লুক দেওয়া হয়।

মেইলিং লিস্ট কম্পাইলেশন

কোনো কোম্পানির ক্লায়েন্টের ইমেইল লিস্ট সঠিকভাবে গুছিয়ে দেওয়ার কাজ ডাটা এন্ট্রির অংশ যা থেকে বড় মাপের আয় সম্ভব।

এইতো গেলো কিছু জনপ্রিয় ডাটা এন্ট্রি জব। এছাড়া অসংখ্য ধরনের ডাটা এন্ট্রি জব রয়েছে যা ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে দেখতে পেয়ে যাবেন।

👉 ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য ইংরেজি জানা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হবেন কিভাবে?

ডাটা এন্ট্রির সুবিধা হলো যেকেউ এটি সহজে শিখতে পারে ও নিজের আয়ের পথ খুলতে পারে। তবে এই পথে আয় করে নিজেকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে হলে অবশ্যই দক্ষতা উন্নতির লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। প্রথমত আপনার কম্পিউটার বিষয়ক দক্ষতাকে বেশ গুরুত্ব প্রদান করে উন্নত করার জন্য কাজ করে যেতে হবে।

দ্বিতীয়ত আপনার ইংরেজির দক্ষতায় উন্নতি আনা বেশ প্রয়োজনীয়। যেহেতু প্রায় সকল ডাটা এন্ট্রি কাজের ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষা ব্যবহৃত হয়, তাই অবশ্যই আপনার ইংরেজি দক্ষতা এখানে প্রয়োজনীয়। 

এর পরে আসে ভালো টাইপিং পারার প্রয়োজনীয়তা। যেহেতু একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে আপনি প্রচুর ডাটা নিয়ে কাজ করবেন, তাই অবশ্যই আপনার টাইপিং এর দক্ষতায় বেশ জোর প্রদান করতে হবে।

👉 ভিডিওঃ অনলাইন ইনকামের জন্য যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

👉 আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করে সাথেই থাকুন। এখানে ক্লিক করে সাবস্ক্রিপশন কনফার্ম করুন!

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 7,811 other subscribers

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.