বিকাশ লোন আপনি পাবেন কিনা যেভাবে বুঝবেন

অনেকেই প্রশ্ন করেন “আমি কি বিকাশ লোন পাবো”? বিকাশ একাউন্টে ঘরে বসেই মোবাইলের মাধ্যমে লোন পাওয়া যায় বলে অনেকেই বিকাশ লোন পেতে আগ্রহী। সাধারণত ব্যাংক থেকে লোন পেতে হলে বেশ কিছুটা সময় লাগে। ব্যাংকে গিয়ে আবেদন করতে হয়। এরপর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সেই আবেদন যাচাই-বাছাই করে এবং এরপর লোন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে। এক্ষেত্রে অনেক কাগজপত্র এবং তথ্য প্রমাণ দরকার হয়।

কিন্তু বিকাশ অ্যাপ থেকে লোন নিতে হলে কোনো ব্যাংকে যেতে হয়না। যেকোনো স্থানে বসেই বিকাশ অ্যাপ থেকে মুহূর্তের মধ্যেই লোন নেয়া যায়। কিন্তু এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, বিকাশে আপনি ইচ্ছে হলেই লোন নিতে পারবেন না। অর্থাৎ, বিকাশে লোন পাওয়ার বিষয়টি যত সহজ শোনায়, ব্যাপারটি কিন্তু তত সহজ না! যে কেউ চাইলেই বিকাশ লোন পাবেন না।

এখানে আরেকটি কথা মনে রাখতে হবে, বিকাশ অ্যাপে লোন কিন্তু সরাসরি বিকাশ কোম্পানি দিচ্ছেনা। বরং, বিকাশ লিমিটেড বাংলাদেশের একটি বহুল পরিচিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের সাথে চুক্তির ভিত্তিতে এই সেবা দিচ্ছে। এক্ষেত্রে সিটি ব্যাংক হচ্ছে বিকাশের সহযোগী। অর্থাৎ, বিকাশের মাধ্যমে লোন দিচ্ছে মূলত সিটি ব্যাংক। তাই এখানে বিকাশ এবং সিটি ব্যাংক উভয়ই সংশ্লিষ্ট। এর মাধ্যমে ৫০০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোন পাওয়া যাবে। লোনের টাকাগুলো বিকাশ একাউন্টে চলে আসবে।

কোনো ব্যক্তি বিকাশের মাধ্যমে সিটি ব্যাংকের এই লোন পাবেন কিনা সেটা প্রযুক্তির মাধ্যমে ঠিক করে থাকে বিকাশ ও সিটি ব্যাংকের কর্তৃপক্ষ। এখানে বেশ কিছু ব্যাপার কাজ করে। যেমন, আপনি যদি নতুন বিকাশ ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন এবং বিকাশে যদি আপনি খুব একটা লেনদেন না করেন, তাহলে আপনার এই লোন পাওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ হচ্ছে, আপনার বিকাশ একাউন্টে লেনদেনের পরিমাণের তথ্য দেখে বোঝা যাবে আপনি আসলে পরে এই লোন আবার ফেরত দিতে পারবেন কিনা।

কষ্ট পেলেন? মন খারাপ করার কোনো কারণ নেই। আরেকটু সহজভাবে বলি। মনে করুন একজন ব্যক্তি প্রতি সপ্তাহে তার বিকাশ একাউন্ট থেকে ৩০০০ টাকার কেনাকাটা করেন। আবার অপর এক ব্যক্তি এক মাসে তার বিকাশ একাউন্ট থেকে শুধুমাত্র ১০০ টাকার কেনাকাটা করেন। এখন বিকাশ কোম্পানির পক্ষ থেকে যদি চিন্তা করেন, যিনি বেশি পরিমাণ লেনদেন করেন তিনিই তাদের দিক থেকে বেশি অগ্রাধিকার পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাইনা? যদিও এটারও কোনো গ্যারান্টি নেই।

যেহেতু এখানে সিটি ব্যাংকও সংশ্লিষ্ট তাই তারা কিন্তু আপনার ক্রেডিট রেকর্ডও দেখতে পারবে। আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ব্যবহার করে যত ব্যাংক একাউন্ট খোলা আছে, অতীতে যত লোন নেয়া আছে তা কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দেখতে পারে। যদি আপনার ক্রেডিট কার্ড থাকে এবং আপনি নিয়মিত ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধ করেন তাহলে আপনার ক্রেডিট হিস্ট্রি ভাল হবে। সেক্ষত্রে লোন পেয়ে সেটা পরিশোধ করার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।

অপরদিকে আরেকজন ব্যক্তির যদি কোনো ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকে তাহলে কীসের ভিত্তিতে তাকে বিশ্বাস করে লোন দেয়া হবে? আপনি নিজের কথা চিন্তা করুন। আপনি যে লোককে চেনেন এবং যার অতীত লেনদেনের ইতিহাস ভাল আপনি তো তাকেই বিশ্বাস করে টাকা ধার দিবেন তাইনা? এখন হঠাত এক অপরিচিত ব্যক্তি এসে যদি আপনার কাছে টাকা ধার চায়, আপনি কি তাকে টাকা ধার দেবেন? আপনি যদি অত্যন্ত দয়ালু হন, তাহলেও আপনি তাকে ঠিক কত টাকা ধার দিবেন? আশা করি বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে।

বিকাশের লোনের ব্যাপারটাও অনেকটা এরকম। আপনার যেসব তথ্য বিকাশ ও সিটি ব্যাংকের কাছে থাকবে, সেসব তথ্যের উপর ভিত্তি করে তারা সিদ্ধান্ত নেবে যে আপনি লোন পাবেন কিনা। কিংবা পেলেও ঠিক কত টাকা লোন পাবেন। 

এ ব্যাপারে আমি বিকাশ কাস্টমার কেয়ারে লাইভ চ্যাটে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তারা বলেছে, “যে সকল গ্রাহক এনআইডি দিয়ে বিকাশ একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করেছেন, তারা তথ্য হালনাগাদ ফিচারটি ব্যবহার করে বিকাশ অ্যাপ থেকেই তাদের একাউন্টের তথ্য হালনাগাদ করতে পারবেন। তথ্য হালনাগাদের পর গ্রাহকগণ সেভিংস ও লোন সেবার জন্য প্রাথমিকভাবে যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন এবং প্রযোজ্য শর্ত সাপেক্ষে উক্ত সেবাসমূহ গ্রহণ করতে পারবেন। এই  সেবাটির মাধ্যমে আপনি আপনার বিকাশ একাউন্টের তথ্য পুনরায় হালনাগাদ করতে পারবেন।” – অর্থাৎ প্রথমত আপনার বিকাশ একাউন্টের তথ্য হালনাগাদ করা থাকতে হবে।

🔥🔥 গুগল নিউজে বাংলাটেক সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন 🔥🔥

আপনি বিকাশ লোন পাবেন কিনা যেভাবে বুঝবেন

👉 বিকাশ একাউন্টের তথ্য আপডেট করার নিয়ম

বিকাশ কাস্টমার কেয়ার থেকে আরও বলা হয়েছে “লোন সার্ভিসটি বর্তমানে নির্দিষ্ট সংখ্যক গ্রাহকের জন্য চালু করা হয়েছে। আপনার বিকাশ একাউন্টে লোন পাবার সম্ভাবনা বাড়াতে একাউন্ট সচল রাখুন এবং একাউন্ট দিয়ে বেশি বেশি লেনদেন করুন। তবে একাউন্টের অধিক ব্যবহার সবসময় লোন পাবার নিশ্চয়তা দেয়না।”

বিকাশ অ্যাপ থেকে লোন সম্পর্কে জানতে প্রথমে আপনার বিকাশ অ্যাপ আপডেট করতে হবে। বিকাশ অ্যাপ আপডেট করার পর অ্যাপে লগইন করুন। আপনি যদি বিকাশ অ্যাপে লোন অপশনটি দেখতে পান সেক্ষেত্রে লোন অপশন ক্লিক করে আপনি দেখতে পারবেন যে আপনি উক্ত লোনের জন্য বাছাইকৃত হয়েছেন কি না। 

সাধারণত, একজন বিকাশ গ্রাহকের একাউন্ট স্ট্যাটাস ও একাউন্ট ব্যবহারের ধরন বিবেচনা করে তাকে লোন সেবাটি দেয়া হয়। এক্ষেত্রে একজন বিকাশ কাস্টমার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত ডিজিটাল লোন পেতে পারেন। আপনি যদি আপনার বিকাশ অ্যাপে লোন অপশনটি না দেখতে পান তাহলে বুঝে নেবেন যে লোন সেবাটি আপনার জন্য এখন পর্যন্ত প্রযোজ্য না।

👉 বিকাশ লোন নেওয়ার উপায়

বিকাশ তথ্য হালনাগাদ করে আপনি শর্ত সাপেক্ষে বিকাশ সেভিংস ও লোন সেবার অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। আবারো বলছি, লোন সার্ভিসটি বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু বিকাশ গ্রাহকের জন্য চালু রয়েছে। আপনার বিকাশ একাউন্টে লোন পাবার সম্ভাবনা বাড়াতে একাউন্টটি সচল রাখুন এবং বিকাশ একাউন্ট দিয়ে নিয়মিত লেনদেন করুন। তবে জেনে রাখা ভাল, একাউন্টের অধিক ব্যবহার কিন্তু সবসময় লোন পাবার নিশ্চয়তা দেয়না। এখানে বিকাশ ও সিটি ব্যাংকের সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে।

ইন্টারেস্ট রেট, লোন লিমিট, প্রসেসিং ফি, লোন পরিশোধের নিয়মাবলি, লোন পেতে হলে কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে, এবং ক্রেডিট পলিসি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী সিটি ব্যাংক গ্রহণ করতে পারবে।

আপনি বিকাশ গ্রাহক হলে সিটি ব্যাংক থেকে উক্ত লোন পাবেন কি না জানতে চান? সেক্ষেত্রে আপনার বিকাশ অ্যাপের লোন অপশনে যান।

👉 মোবাইল অ্যাপে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিজিটাল লোন

আশা করি এই পোস্টে আপনি বিকাশ লোন পাওয়ার পূর্বশর্ত সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা লাভ করতে পেরেছেন। একটা বিষয় মনে রাখবেন, আপনি কোনো লোন পাওয়ার আগে লোন প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ কিন্তু সেই টাকা ফিরে পাওয়ার সম্ভাব্যতাও বিবেচনা করবে। বিভিন্ন বিষয়ের ওপর এটা নির্ভর করবে যা বাইরের লোকের পক্ষে জানা সম্ভব না। যেটুকু তথ্য জানা যাচ্ছে তা এই পোস্টে দেওয়া হয়েছে। আপনার মতামত কমেন্টে জানানোর অনুরোধ রইল।

👉 ভিডিওঃ মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিরাপদ থাকার উপায়

👉 আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করে সাথেই থাকুন। এখানে ক্লিক করে সাবস্ক্রিপশন কনফার্ম করুন!

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 7,247 other subscribers

[★★] প্ৰযুক্তি নিয়ে লেখালেখি করতে চান? এক্ষুণি একটি টেকবাজ একাউন্ট খুলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে পোস্ট করুন! techbaaj.com ভিজিট করে নতুন একাউন্ট তৈরি করুন। হয়ে উঠুন একজন দুর্দান্ত টেকবাজ!

2 comments

    • আরাফাত বিন সুলতান Post authorReply

      ৩ মাসের মধ্যে কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে। বিকাশ অ্যাপের মধ্যেই বিস্তারিত পাবেন সেক্ষেত্রে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.