সিম্বিয়ান বাদ দিয়ে এন্ড্রয়েড এড়িয়ে কেন উইন্ডোজ ফোন বেছে নিয়েছিল নকিয়া?

nokia msনকিয়া সম্বন্ধে একটি প্রশ্ন ঘুরেফিরে সবসময়ই আসে, তা হল- সিম্বিয়ান বাদ দিয়ে এন্ড্রয়েড বেছে না নিয়ে কেন উইন্ডোজ ফোন ওএস এর দিকে হাত বাড়ায় এই ফিনিশ কোম্পানি? ২০১০ সালের শেষ দিকে এরকম একটি কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়েছিল এক সময়কার মোবাইল জায়ান্ট নকিয়া। সাধারণ ভোক্তাবাজারে এটি এখনও একটি রহস্যের বিষয়। অনেকেই মনে করেন, নকিয়া তাদের খামখেয়ালিপনার কারণেই গুগল এন্ড্রয়েডকে স্মার্টফোন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এড়িয়ে গিয়েছে। আসলে কি তাই?

বাস্তবতা হচ্ছে, সিম্বিয়ান ছেড়ে নতুন মোবাইল ওএস হিসেবে এন্ড্রয়েড ব্যবহারের ধারণাটি গুগলের সাথে আলোচনা করেছিল নকিয়া। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি সাফল্যের মুখ দেখেনি। আর এজন্যই গুগল কর্মকর্তা ভিক গান্দোত্রা নকিয়া ও মাইক্রোসফটকে উদ্দেশ্য করে তিরস্কারমূলক একটি টুইট দিয়েছিলেন।

২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নকিয়া-উইন্ডোজ ফোন চুক্তির ঘোষণা আসার ঠিক আগে মিঃ ভিক এক টুইট বার্তায় বলেন “দুটি টার্কি (টার্কিঃ পাখি বিশেষ) একটি ঈগল তৈরি করতে পারেনা”; অর্থাৎ, তিনি বোঝাতে চেয়েছেন নকিয়া এবং উইন্ডোজ ফোন ওএসের মত ব্র্যান্ড একসাথে কখনোই ভাল/বৃহৎ কিছু আনতে পারবে না।

ঐ টুইটের পর ভিকের টুইটার ব্যবহারের ওপর গুগলের উচ্চপর্যায় থেকে নিষেধাজ্ঞাও এসেছিল।

কিন্তু এন্ড্রয়েড বেছে নেয়ার ব্যাপারে নকিয়ার অনাগ্রহের কারণ কী ছিল? কোম্পানিটির সিইও স্টিফেন ইলপ সম্প্রতি এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। যুক্তরাজ্যে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন প্রশ্নেরও সম্মুখীন হয়েছেন যে, এন্ড্রয়েড না নেয়ার কারণে ইলপ কখনো মনে মনে আফসোস করেছেন কিনা।

উত্তরে মিঃ ইলপ বলেন, তিনি ২০১০ সালের ঐ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বেশ খুশী। অর্থাৎ, এন্ড্রয়েড এড়িয়ে যাওয়ার কারণে তারা মোটেই দুঃখিত না।

স্টিফেন ইলপ যোগ করেন, তারা এন্ড্রয়েডে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির একচেটিয়া আধিপত্যের আশঙ্কা করেছিলেন। বোঝাই যায়, তিনি স্যামসাংয়ের দিকে ইঙ্গিত দিয়েছেন। এবং দুই বছর পরে আজ সেটিই সত্যি হয়েছে। স্যামসাং এখন এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম চালিত ডিভাইস নিয়ে সারা বিশ্বে সফলভাবে ব্যবসা করছে। আর এই প্রতিযোগিতায় ভিন্নভাবে অংশ নিতেই উইন্ডোজ ফোন ওএস বেছে নেয় নকিয়া। কেননা স্যামসাংয়ের জনবল ও উৎপাদনকেন্দ্র সম্পর্কিত সুযোগ-সুবিধার সামনে অন্য যেকোন কোম্পানি এন্ড্রয়েড নিয়ে গ্যালাক্সি ডিভাইসের সাথে লড়তে বেশ সমস্যার সম্মুখীন হবে। (উদাহরণস্বরূপ, তাইওয়ানিজ কোম্পানি এইচটিসি’র স্মার্টফোন ব্যবসা ক্রমেই অবনমনের দিকে ধাবিত হচ্ছে);

আর তাই স্মার্টফোন মার্কেটে অ্যাপল স্যামসাংয়ের পরে একটি তৃতীয় বিকল্প হিসেবে আবির্ভুত হওয়াই ছিল লুমিয়া নির্মাতার লক্ষ্য। এজন্য উইন্ডোজ ফোন ওএস ছাড়া আর কোন ভাল বিকল্প প্রকৃতপক্ষেই তাদের সামনে ছিলনা।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 5,052 other subscribers

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.