ইউটিউবে আয় করতে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলা উচিৎ

মাসিক ১.৭ বিলিয়নের মত ভিজিটর সমৃদ্ধ ওয়েবসাইট ইউটিউব যে কতটা সফল সে সম্পর্কে কারো সন্দেহ থাকার কথা না। তবে এর অসংখ্য ভিডিওর ভিড়ে জায়গা করে নেওয়া একজন নতুন ইউটিউবারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে আপনি যদি ইউটিউব থেকে ইনকাম করতে চান তাহলে তো কথাই নেই! এই পোস্টে জানবেন ইউটিউবিং এর ক্ষেত্রে কিছু ভুল সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত যেগুলো আপনার ভিউ এবং আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

যথেষ্ট ভিডিও আপলোড না করা

অধিকাংশ নতুন ইউটিউবার যে ভুল করেন, সেটি হলো তাদের চ্যানেলে যথেষ্ট পরিমাণ কনটেন্ট না রাখা। ইউটিউবে যাত্রার শুরুতে কমপক্ষে তিনটি ভিডিও চ্যানেলে রাখার চেষ্টা করুন, এর অনেক সুবিধা রয়েছে। ধরুন, আপনি আপনার চ্যানেলে প্রথম ভিডিও আপলোড করলেন ও কেউ সেই ভিডিও দেখে পছন্দ করলো। এখন স্বাভাবিকভাবে উক্ত ব্যক্তি আপনার চ্যানেলে প্রবেশ করবে ও আপনার অন্য কনটেন্ট দেখতে চাইবে যা আমরা কমবেশি সবাই করে থাকি।

এমন অবস্থায় চ্যানেলে প্রবেশ করে যথেষ্ট কনটেন্ট না থাকলে একজন ভিউয়ার এর হতাশ হওয়া স্বাভাবিক। এমনকি কনটেন্ট এর অভাবে সম্ভাব্য নতুন সাবস্ক্রাইবার ও হারাতে পারেন। তাই একদম শূন্য থেকে ইউটিউব চ্যানেল শুরু না করে বরং প্রথমে কয়েকটি কনটেন্ট তৈরী করুন ও এরপর একসাথে ভিডিওগুলো চ্যানেলে আপলোড করুন।

খারাপ অডিও

কথায় আছে “Sound is Half the Experience” অর্থাৎ যেকোনো বিষয় দেখার পাশাপাশি ভালোভাবে শোনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ইউটিউবে আপলোড করা কনটেন্ট এর ভিডিও কোয়ালিটির সাথে সাথে অডিও কোয়ালিটিও কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক নতুন ইউটিউবার অডিওকে তেমন একটা গুরুত্ব দেন না, যা সম্পূর্ণ ভূল একটি পদক্ষেপ। তাই ভিডিও এর পাশাপাশি অডিও যাতে ভালো কোয়ালিটির হয়, সেই বিষয়ে নজর দেওয়া অত্যন্ত দরকার।

সাবস্ক্রাইব করতে না বলা

ভিডিও এর মধ্যে ভিউয়ারদের সাবস্ক্রাইব বা কমেন্ট করতে না বলাও কিন্তু একটি ভুলের মধ্যে পড়ে। ভিডিও এর ভিউয়ারগণ কিন্তু সাধারণ দর্শক, তাই চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব বা ভিডিওতে লাইক দেওয়া, কিংবা কমেন্ট করার বিষয়টি মনে করিয়ে দেওয়া একজন ইউটিউবার এর দায়িত্ব। তাই অবশ্যই প্রতিটি ভিডিওতে ভিউয়ারদের সাবস্ক্রাইব, লাইক ও কমেন্ট করতে বলার কথা ভুলবেন না।

যা ইচ্ছা আপলোড করা

ইউটিউব চ্যানেল খুলে বেশি আপলোড করলে বেশি ভিউস পাওয়া যাবে, বিষয়টি সত্য। কিন্তু তাই বলে একটি চ্যানেলে যা ইচ্ছা তা আপলোড করা কিন্তু ঠিক নয়। চ্যানেলের নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্যাটাগরি রাখা উচিত যার উপর ভিত্তি করে চ্যানেলের ভিডিওগুলো নির্মিত হবে। ধরুন আপনি আজকে গেমিং ভিডিও আপলোড করছেন আর কালকে কুকিং টিউটোরিয়াল। এখন দুই ধরনের ভিডিও এর ভিউয়ার দুই রকম, তাই চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবারদের জন্য ব্যাপারটি অনেকটা জগাখিচুড়ির মত হয়ে যায়।

তাই চ্যানেলের কনটেন্টগুলো নির্দিষ্ট কয়েকটি সম্পর্কযুক্ত বিষয়ের উপর হওয়াই উত্তম। যেমনঃ একটি নিউজ চ্যানেলে ডকুমেন্টারি ভিডিও পোস্ট করা যেতে পারে। আবার একটি কুকিং চ্যানেলে লাইফস্টাইল কনটেন্ট পোস্ট করা যেতে পারে। এভাবে কনটেন্ট এর মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখা খুবই প্রয়োজনীয়।

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার না করা

ইউটিউবে ভিডিও পোস্ট করে বসে থেকে হাজার হাজার ভিউস এর আশা করলে কিন্তু চলবেনা। ইউটিউবে কোনো ভিডিও পোস্ট করার পর তা আপনার সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টে শেয়ার করুন। এভাবে শেয়ার করার ফলে ভিডিও আপলোড করার অল্প সময়ের মধ্যে খুব দ্রুত ভিউ আসে। এই ধরনের কৌশল ইউটিউব এলগরিম ও সার্চ ইঞ্জিনের জন্য বেশ কার্যকর হতে পারে। তাই ইউটিউব এর বাইরে অন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতেও নিজের উপস্থিতি বজায় রাখুন ও ভিডিও শেয়ার করুন।

অনিয়মিতভাবে আপলোড করা

যেকোনো কাজে লক্ষ্যস্থির থাকা একান্ত জরুরি। ইউটিউব এর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নেই। আপনার সাবস্ক্রাইবারগণ আপনার ভবিষ্যৎ কনটেন্ট এর অপেক্ষায় থাকে, তাই তাদের জন্য নিয়মিত কোয়ালিটি কনটেন্ট তৈরী করা আপনার দায়িত্ব। ইউটিউবে ভিডিও আপলোড এর নিয়মিত অভ্যাস করলে তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যে আপনার কনটেন্ট লাইব্রেরি বড় হবে এবং সফলতার সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে।

একটি কনটেন্ট আপলোড করে পরবর্তী মাস দুয়েক এর জন্য হারিয়ে যাবেন না। নিয়মিত কনটেন্ট পোস্ট করার চেষ্টা করুন। ভিউয়ারদের লুপ এর মধ্যে রাখতে অবশ্যই নিয়মিত ভিডিও আপলোড করা উচিত।

🔥🔥 গুগল নিউজে বাংলাটেক সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন 🔥🔥

ইউটিউবে আয় করতে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলা উচিৎ

অন্যের কনটেন্ট কপি করা

কপিরাইটের ক্ষেত্রে ইউটিউব অত্যন্ত সচেতন। তাই অন্যের কনটেন্ট কপি করে আপলোড করলে আপনি কপিরাইট স্ট্রাইক এর সম্মুখীন হতে পারেন। এতে আপনার চ্যানেলের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। তাই কখনো অন্যের কনটেন্ট বেআইনিভাবে ব্যবহার করার মত ভুল করতে যাবেন না। আরো জানুন 👉 ইউটিউব কপিরাইট স্ট্রাইক কি? কিভাবে নিরাপদে থাকা যায়?

সাব ফর সাব বা স্প্যাম ভিউ

সাব ফর সাব বা সাবস্ক্রাইব ফর সাবস্ক্রাইব, বিষয়টি প্রায়ই বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা হতে দেখা যায়। নতুন চ্যানেল খোলার পর আশানুরূপ উন্নতি না দেখে অন্য চ্যানেলের সাথে সাবস্ক্রাইবের বিনিময়ে সাবস্ক্রাইব, ভিউস এর বিনিময়ে ভিউস, লাইকের বিনিময়ে লাইক, কমেন্ট এর বিনিময়ে কমেন্ট, ভিউ কেনা, কাউন্ট বাড়াতে নিজের ভিডিও নিজে বেশি বেশি ভিউ করা ইত্যাদি কাজ করে থাকেন অনেকে। এগুলো করা একদমই ভুল কাজ এবং চ্যানেলের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই ধরনের কাজ করে বেশিদিন আগাতে পারবেন না। দিনশেষে আসল, ভালো ও ইউনিক কনটেন্ট সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে।

👉 ইউটিউবে সফল হতে করণীয়

তাই চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার কম থাকলেও বা এনগেজমেন্ট না থাকলেও এই ধরনের কাজ করবেন না। চেষ্টা করুন অরগানিকভাবে আপনার চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার বাড়াতে যার ফলে আপনার ফ্যান তৈরী হবে যারা আপনার সকল ভিডিও দেখবে। এছাড়া সাব ফর সাব, স্প্যাম ভিউ এগুলো কিন্তু ইউটিউব এর গাইডলাইন বিরোধী। এমনকি এই ধরনের কাজ করার ফলে চ্যানেলে পলিসি ভায়োলেশন নোটিশ আসতে পারে। তাই শর্টকাটে সাফল্য পেতে ইউটিউবের পলিসি অমান্য করলে বিপদ!

👉 বোনাস ভিডিওঃ অনলাইনে টাকা আয় করার সেরা ১০ উপায় জানুন

👉 আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করে সাথেই থাকুন। এখানে ক্লিক করে সাবস্ক্রিপশন কনফার্ম করুন!

কেমন লাগল এই পোস্টটি? কমেন্টে আপনার মতামত জানান!

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 6,957 other subscribers

[★★] প্ৰযুক্তি নিয়ে লেখালেখি করতে চান? এক্ষুণি একটি টেকবাজ একাউন্ট খুলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে পোস্ট করুন! techbaaj.com ভিজিট করে নতুন একাউন্ট তৈরি করুন। হয়ে উঠুন একজন দুর্দান্ত টেকবাজ!

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.