অ্যাপল আইপ্যাড কি? এর জনপ্রিয়তার কারণ কি?

আইপ্যাড হলো অ্যাপল এর তৈরী টাচস্ক্রিন ট্যাবলেট কম্পিউটার। প্রথম আইপ্যাড মুক্তি পেয়েছিলো ২০১০সালে। আইপ্যাড লাইন-আপে অ্যাপল এর বেশ কয়েকটি প্রোডাক্ট রয়েছে যেমন আইপ্যাড, আইপ্যাড এয়ার, আইপ্যাড মিনি ও আইপ্যাড প্রো। সকল মডেল সিলভার, গ্রে ও গোল্ড কালারে পাওয়া যায়। আইপ্যাড বর্তমানে অ্যাপল এর এম১ চিপ দ্বারা চলে ও এতে ৪জি সুবিধাও রয়েছে। আধুনিক আইপ্যাডগুলো আইপ্যাড ওএস ব্যবহার করে; অতীতে আইপ্যাডে আইওএস ব্যবহৃত হত।

বিশ্বব্যাপী ট্যাবলেট কম্পিউটারের মার্কেট একাই বেশিরভাগ দখল করে আছে আইপ্যাড। তবে এর কারণ এই নয় যে শুধুমাত্র অ্যাপল ট্যাবলেট তৈরী করে। অন্যান্য কোম্পানি ট্যাবলেট তৈরী করলেও বাজারের সকল ট্যাবলেট থেকে অনেক গুণে এগিয়ে রয়েছে আইপ্যাড।

আইপ্যাড এর “Yeah, it does that” স্লোগান কিন্তু মিথ্যা নয়। আইপ্যাড অসংখ্য পরিস্থিতিতে মোবাইল ও কম্পিউটারের বিকল্প হিসেবে কাজ করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক আইপ্যাড এত জনপ্রিয় হওয়ার কিছু মূল কারণ সম্পর্কে। 

পোর্টেবল

বহনযোগ্য ল্যাপটপ কম্পিউটার এর মূল সমস্যা হলো এর ওজন। ভ্রমণ বা আউটডোরে ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়া এর ওজন বিবেচনায় বেশ বিরক্তিকর একটি বিষয়। আর এই বিষয়ের ফায়দা তুলেছে আইপ্যাড।

ওজনে বেশ হালকা আইপ্যাড ক্যারি করা যায় পার্স থেকে শুরু করে হ্যান্ডব্যাগে পর্যন্ত। অর্থাৎ কোথাও গেলে আপনার বিশালদেহী ল্যাপটপকে বাদ দিয়ে আইপ্যাড নিয়ে যেতেই পারেন। আইপ্যাড এর দারুণ বহনযোগ্যতার কারণে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। 

ব্যাটারি লাইফ

ল্যাপটপ এর বহনযোগ্যতার কথা যখন হচ্ছে, তখন এর দীর্ঘ চার্জিং ক্যাবল ও ব্যাটারি লাইফের কথা তো তুলতেই হয়। ল্যাপটপের পাশাপাশি এর চার্জার ক্যারি করতে হয় অধিকাংশ সময়। অন্যদিকে আইপ্যাড চার্জ করতে কোনো ধরণের বাড়তি চার্জার এর প্রয়োজন নেই। আপনার কাছে যদি আইফোন বা অন্য কোনো অ্যাপল ডিভাইসের চার্জার থাকে, তবে উক্ত চার্জার ব্যবহার করেই আইপ্যাড চার্জ করা যাবে।

আবার ব্যাটারি ব্যাকাপের দিক দিয়েও আইপ্যাড বাজারের অন্যসব ডিভাইস থেকে অনেক এগিয়ে থাকবে। ওয়েব সার্ফিং হোক বা মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট ওয়াচিং বা গেমিং, আইপ্যাড থেকে সলিড ব্যাটারি ব্যাকাপ পাওয়া যায় যা এর জনপ্রিয়তার অন্যতম আরেকটি কারণ।

👉 অ্যান্ড্রয়েড থেকে আইফোনে ডাটা কপি করার উপায়

ব্যবহার সহজ

আইপ্যাড ব্যবহার করতে অসাধারণ প্রযুক্তিগত দক্ষতার কোনো প্রয়োজন নেই। আইপ্যাড এমন একটি ডিভাইস, যা বৃদ্ধ থেকে বাচ্চা, সকলে বেশ সহজে ব্যবহার করতে পারে। স্ক্রিন বড় হওয়ার কারণে বাচ্চারা ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারে, আবার বৃদ্ধরা দেখার সুবিধার্থে জুম ইন ও করতে পারে। অর্থাৎ যে বয়সের ব্যবহারকারী হোক না কেনো, আইপ্যাড ইউজার ফ্রেন্ডলি হওয়ায় এটি ব্যবহার বেশ সহজ হয়। 

বড় স্ক্রিন

ট্যাবলেট হওয়ার কারণে আইপ্যাডে রয়েছে বিশাল স্ক্রিন, আর এই স্ক্রিন আইপ্যাড এর জনপ্রিয়তার পেছনে অন্যতম একটি কারণ। এই বড় ডিসপ্লের কারণে আইপ্যাডে গেম খেলা, ছবি বা ভিডিও দেখার মত সাধারণ একটিভিটিও বেশ অসাধারণ লাগে। নেটফ্লিক্সে লেটেস্ট কোনো শো দেখা হোক কিংবা বন্ধুদের সাথে গ্রুপ ভিডিও কল, সকল ক্ষেত্রে আইপ্যাড এর বিশাল স্ক্রিন বেশ কাজে আসে। বিশেষ করে এই বড় স্ক্রিন বাচ্চাদের ব্যবহারে অধিক সহজ, যার ফলে আইপ্যাড এর বিশাল সংখ্যক ব্যবহারকারী হলো বাচ্চারা।

প্রফেশনাল ব্যবহার

আইপ্যাড শুধুমাত্র ঘরে ভিডিও দেখা বা কল করার ডিভাইস মনে করলে কিন্তু ভুল হবে। আইপ্যাড অত্যন্ত পাওয়ারফুল একটি ডিভাইস যা অফিস থেকে শুরু করে মিডিয়া এডিটিং এর কাজে পর্যন্ত ব্যবহার করা আবে। যেকোনো স্থানে বসে ওয়ার্ড ডকুমেন্ট, স্প্রেডশিট বা প্রেজেন্টেশন তৈরি ও তা বেশ সাবলীলভাবে এডিট করার সুবিধা রয়েছে আইপ্যাডে। আবার ছবি বা ভিডিও এডিটিং এর ক্ষেত্রেও আইপ্যাড দারুণ কাজ করে। অর্থাৎ সাধারণ ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে প্রফেশনাল পর্যন্ত, সকল ক্ষেত্রে আইপ্যাড ব্যবহার করা যায় বলে এর জনপ্রিয়তা এত বেশি।

🔥🔥 গুগল নিউজে বাংলাটেক সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন 🔥🔥

অ্যাপল আইপ্যাড কি? এর জনপ্রিয়তার কারণ কি?

মাল্টিটাস্কিং

আইপ্যাড এর জনপ্রিয়তার পেছনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা যে বিষয়টি পালন করেছে, সেটি হলো এর অসাধারণ মাল্টিটাস্কিং সুবিধা। অন্য অ্যাপে প্রবেশ করতে একটি অ্যাপ ক্লোজ করার প্রয়োজন নেই আইপ্যাডে। কম্পিউটারের মত একাধিক অ্যাপ একইসাথে স্ক্রিনে ব্যবহার করা যায় আইপ্যাডে।

টুইটার স্ক্রল করতে গিয়ে কোনো কিছু দেখলেন আর তা ফেসবুকে পোস্ট করতে চান? টুইটার অ্যাপ থেকে বের হওয়ার দরকার নেই, সরাসরি ফেসবুক অ্যাপ অন্য ট্যাবে ওপেন করে উক্ত টুইটের বিষয়টি স্ক্রিন থেকে ফলো করে ফেসবুক স্ট্যাটাস পোস্ট করা যাবে আইপ্যাডে।

আবার ধরুন ভিডিও এডিটিং এর সময় কোনো ছবি বা ভিডিও আনতে চান ভিডিও এডিটরে, বেশ সহজ! ভিডিও এডিটর ওপেন থাকা অবস্থায় প্রবেশ করুন গ্যালারিতে, এরপর গ্যালারি থেকে ছবি বা ভিডিও ড্রাগ করে এনে ছেড়ে দিতে পারেন ভিডিও এডিটরে। আইপ্যাড ব্যবহার করে ঠিক এতোটা সহজভাবেই মাল্টিটাস্কিং করা যায়।

👉 আইফোন আইমেসেজের দারুণ কিছু সুবিধা জেনে নিন

ক্যামেরা

ল্যাপটপ হোক কিংবা এভারেজ ট্যাবলেট, এই দুইটি ডিভাইসের ক্যামেরা বরাবরই বেশ খারাপ ছিলো সবসময়। তবে এই বিষয়টি আইপ্যাড এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নেই। আইপ্যাডে রয়েছে অপেক্ষাকৃত ভালো ক্যামেরা সেটাপ যা ব্যবহার করে পরিবারের সাথে ভিডিও কল থেকে শুরু করে অফিসের মিটিং পর্যন্ত সারা যায় কোনো সমস্যা ছাড়াই।

দাম

আইপ্যাড এর জনপ্রিয়তার আরেকটি প্রধান কারণ হলো এর দাম। ৩০০ থেকে ৬০০ডলার এর এই ডিভাইস একটি ফোন ও ল্যাপটপ এর প্রয়োজনীয়তা মেটাতে পারে একই সাথে। এই দামে যেহেতু ব্যবহারযোগ্য শক্তিশালী ল্যাপটপ ডিভাইসের বেশ অভাব রয়েছে, তারই শূন্যতা যথাযথভাবে পূরণ করেছে আইপ্যাড। আর এই কারণেই প্রচুর পরিমাণে আইপ্যাড বিক্রি হয়ে থাকে।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 7,060 other subscribers

[★★] প্ৰযুক্তি নিয়ে লেখালেখি করতে চান? এক্ষুণি একটি টেকবাজ একাউন্ট খুলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে পোস্ট করুন! techbaaj.com ভিজিট করে নতুন একাউন্ট তৈরি করুন। হয়ে উঠুন একজন দুর্দান্ত টেকবাজ!

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.