বিকাশ ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ফেইস লগইন সম্পর্কে যা সবার জানা দরকার

বিকাশ অ্যাপে বায়োমেট্রিক লগিন ফিচারটি এসেছে অনেকদিন হলো। কিন্তু অনেকেই হয়ত এখনো এটা সম্পর্কে খুব একটা ধারণা রাখেন না। এই পোস্টে জানবেন বিকাশ বায়োমেট্রিক লগইন সম্পর্কে যেসব তথ্য আপনার জানা দরকার সে সম্পর্কে বিস্তারিত।

বায়োমেট্রিক লগইন কি? বায়োমেট্রিক লগিন পদ্ধতিগুলো কি?

বিকাশ বায়োমেট্রিক লগিন হলো ফিংগারপ্রিন্ট বা ফেস আনলক এর মাধ্যমে বিকাশ অ্যাপে লগিন করার ফিচার। এই সার্ভিস ব্যবহার করে বিকাশ পিন প্রদানের পরিবর্তে ফিংগারপ্রিন্ট বা ফেস আইডি দিয়ে বিকাশ অ্যাপে প্রবেশ করা যাবে। যে সকল ফোনে ফিংগারপ্রিন্ট ও ফেস আনলক সুবিধা রয়েছে, সেসব ফোনে এই ফিচার ব্যবহার করা যাবে।

বিকাশ বায়োমেট্রিক লগিন ফিচার ব্যবহার করার মাধ্যমে বিকাশ অ্যাপে লগিন করার সময় আপনার পরিচয় নিশ্চিত করতে একটি বিকল্প সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত হবে। বিকাশ একাউন্টের পিন প্রদান করার পরিবর্তে ফেস আইডি বা ফিংগারপ্রিন্ট ব্যবহার করেই বিকাশ অ্যাপে প্রবেশ করা যাবে।

যেকোনো বৈধ ও একটিভ বিকাশ একাউন্টে এই ফিচার ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া অবশ্যই আপনার মোবাইল ডিভাইসে বিকাশ অ্যাপের এই ফিচার সাপোর্ট করতে হবে। মোবাইল ডিভাইসে ফিংগারপ্রিন্ট বা ফেস আইডি ফিচার থাকলে উপযুক্ত ডিভাইসে এই বিকাশ ফিচার চালু করা যাবে ও ব্যবহার করা যাবে।

এটা কতটা নিরাপদ?

বিকাশ অ্যাপে প্রবেশ করার জন্য বায়োমেট্রিক লগিন ফিচার চালু করতে আপনার বিকাশ পিন ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সফলভাবে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর ফেস আইডি বা ফিংগারপ্রিন্ট ব্যবহার করে অ্যাপে লগিন করা যাবে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে বিকাশ বায়োমেট্রিক লগিন ফিচারটি কতটুকু নিরাপদ? বিকাশ বায়োমেট্রিক লগিন এর নিরাপত্তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে আপনার ডিভাইসের উপর। আপনার ডিভাইসের বায়োমেট্রিক লগিন ফিচার যতটুকু নিরাপদ, ততটুকুই সুরক্ষা প্রদান করবে এই লগিন ফিচার।

আপনার ডিভাইস ব্যবহার করে নিশ্চয় আপনার এই সম্পর্কে অভিজ্ঞতা থাকার কথা যে ফিংগারপ্রিন্ট ও ফেস আইডির মধ্যে কোনটি আপনার ডিভাইসে অধিক নিরাপদ। আইফোনে ফেস আইডি বা টাচ আইডি হার্ডওয়্যার-ভিত্তিক হওয়ায় সেগুলোকে বেশ নিরাপদ বলেই বিবেচনা করা হয়।

কিন্তু অনেক বাজেট ফোনেই ফিংগারপ্রিন্ট নিরাপদ হলেও ফেস আনলক তেমন একটা নিরাপদ বলা যায়না, কেননা অনেক সময় দেখা যায় যে কারো ফেস দিয়েই ফোন আনলক হয়ে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে এই সিস্টেম ব্যবহার করে বিকাশ বায়োমেট্রিক লগিন সেটাপ না করার পরামর্শ থাকবে।

এন্ড্রয়েড ভার্সন ৯ বা তার উপরে, এবং আইওএস অপারেটিং সিস্টেম ১৩ বা তার উপরের ভার্সন চালিত যেকোনো স্মার্টফোনে যদি ফেস আইডি বা ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর থাকে, তবে এই ফিচার ব্যবহার করা যাবে।

বিকাশ পরামর্শ দেয় যে আপনার মোবাইল ডিভাইসে শুধু আপনার ফিংগারপ্রিন্ট বা ফেস আইডি সেভ করা আছে কিনা সে বিষয় নিশ্চিত করতে। এরপরেই বিকাশ বায়োমেট্রিক লগিন ফিচার চালু করতে। কেননা একবার বিকাশ বায়োমেট্রিক লগিন সেটাপ করলে আপনার ফোনে সংরক্ষিত থাকা যেকোনো ফিংগারপ্রিন্ট বা ফেস আইডি দ্বারা বিকাশ অ্যাপ অ্যাকসেস করা যাবে, তাই এই বিষয়টি মনে রাখা বেশ জরুরি।

bkash biometric illustration

🔥🔥 গুগল নিউজে বাংলাটেক সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন 🔥🔥

তাহলে কি পিন কোড দরকার নেই?

আপনার বিকাশ অ্যাপের মূল সুরক্ষাকবজ কিন্তু আপনার বিকাশ একাউন্টের পিন। এই বায়োমেট্রিক লগিন ফিচারটি শুধুমাত্র ডিভাইসেই সেভ থাকে, কোনো ধরনের অনলাইন পেমেন্ট করতে গেলে সেক্ষেত্রে এটি কাজে আসবেনা। বায়োমেট্রিক লগিন ফিচার শুধুমাত্র বিকাশ অ্যাপে প্রবেশ করতে কাজ করবে। অ্যাপ থেকে লেনদেন করতে আগের মতই বিকাশ পিন নম্বর দরকার হবে।

বিকাশ বায়োমেট্রিক লগিন ফিচার চালু করার পরেও পূর্বের মতই আপনার বিকাশ পিন ব্যবহার করে বিকাশ অ্যাপে প্রবেশ করতে পারবেন। এছাড়া বিকাশ ইউএসএসডি কোড *২৪৭# ডায়াল করে বিকাশ ব্যবহার করলে সেক্ষেত্রে পিন দরকার হবে।

তাই বিকাশ পিন কোড এর প্রয়োজন শেষ হয়ে যাচ্ছে এমন ভাবার কোনো কারণ নেই।

বিকাশ বায়োমেট্রিক কীভাবে এক্টিভ বা বন্ধ করব?

বিকাশ বায়োমেট্রিক লগিন ফিচার চালু কিংবা বন্ধ করা যাবে বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে বেশ সহজে। বিকাশ অ্যাপে প্রবেশ করে “মাই প্রোফাইল”সেকশন থেকে এই ফিচার চালু বা বন্ধ করা যাবে। নিচে লিংক করা পোস্ট ঘুরে আসুন কিভাবে বিকাশ বায়োমেট্রিক লগিন ফিচার চালু বা বন্ধ করতে হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে।

👉 বিকাশে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস আইডি লগিন চালু করার নিয়ম

আরও কিছু ব্যাপার

বিকাশ বায়োমেট্রিক লগিন ফিচার সম্পর্কে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে রাখা বেশ জরুরি।

বিকাশ অ্যাপে যতবার ফেস আইডি বা ফিংগারপ্রিন্ট দ্বারা লগিন সনাক্ত করা হবে ও এরপর কোনো ধরনের লেনদেন করা হবে, বিকাশ ধরে নিবে লেনদেন বা লগিন উভয়ই আপনি অর্থাৎ বিকাশ অ্যাপের মালিক করেছেন। এটি বলার কারণ হলো আপনার ফোনে আপনি ব্যতিত অন্য কারো ফিংগারপ্রিন্ট বা ফেস আইডি এড করা থাকলে তারাও কিন্তু বিকাশ অ্যাপ অ্যাকসেস করতে পারবে।

বিকাশ বায়োমেট্রিক অর্থাৎ ফিংগারপ্রিন্ট বা ফেস আনলক ফিচার এর মাধ্যমে বিকাশ পিন রিসেট, পরিবর্তন বা আনলক ইত্যাদি প্রক্রিয়া ব্যবহার করা যাবেনা। এই ফিচারটি ব্যবহার করার সম্পূর্ণ দায় কিন্তু আপনি অর্থাৎ গ্রাহকের নিজের। ডিভাইসের এনক্রিপটেড তথ্য ব্যবহার করে বিকাশ অ্যাপে বাড়তি সুরক্ষা যুক্ত হবে, যার কোনো তথ্য বিকাশ সংরক্ষণ করবেনা। এই পুরো প্রক্রিয়াটি অন-ডিভাইস পরিচালনা হবে।

সেট করা বায়োমেট্রিক লগিন অর্থাৎ ফেস আইডি বা ফিংগারপ্রিন্ট রিসেট হয়ে যাবে যদি পিন রিসেট, পরিবর্তন, কিংবা লক হয়ে যায়। এছাড়া বিকাশ অ্যাপ আন-ইন্সটল করলে, নতুন ডিভাইসে বিকাশ অ্যাপ ইন্সটল বা লগিন করলে, সেসব ক্ষেত্রেও বিকাশ বায়োমেট্রিক লক রিসেট হয়ে যাবে ও পুনরায় সেট করতে হবে।

এছাড়া প্রতিবার বায়োমেট্রিক লগিন সেটাপের ৩৬৫ দিন পর এটি রিসেট হয়ে যাবে ও পুনরায় আবার সেট করতে হবে। উল্লেখ্য যে বিদেশ থেকে বিকাশ অ্যাপ ব্যবহারকারীদের একাউন্টে এই ফিচার ব্যবহারযোগ্য নয়।

এই বিকাশ ফিচার ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনার ডিভাইসের ফিংগারপ্রিন্ট বা ফেস আইডি যাচাই এর ক্ষেত্রে বিকাশ কোনো ধরনের তথ্য সংরক্ষণ করেনা। আবার আপনার ডিভাইসে এসব ফিচার সঠিকভাবে কাজ করে কিনা সে বিষয়েও বিকাশ কোনো ধরনের নিশ্চয়তা বা ওয়ারেন্টি দেয়না। এর মানে এই ফিচারটি আপনি সম্পূর্ণ নিজের সম্মতিক্রমে ব্যবহার করতে হবে। আরও জানতে পারেন বিকাশের অফিসিয়াল পেজ থেকে

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 8,572 other subscribers

1 Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *