আপনার কম দেখা ছবিগুলো “হিমাগারে” রাখবে ফেসবুক!

facebook data centerবর্তমানে ফেসবুক সার্ভারে ২৪০ বিলিয়নের বেশি ছবি সংরক্ষিত আছে। প্রতিদিন গড়ে আরও ৩৫০ মিলিয়ন নতুন ফটো আপলোড করছে ব্যবহারকারীরা। কিন্তু এই ছবিগুলোর সবই কি নিয়মিত ভিজিট করা হয়? আপনার ফেসবুক একাউন্টের কথাই চিন্তা করে দেখুন, বছরখানেক আগে ফেসবুকে শেয়ার করা জন্মদিন অনুষ্ঠানের মুহুর্তগুলো কি আজও ওপেন করে চেয়ে থাকেন?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাইটটির পুরাতন ফটো কম ভিজিট করা হয়। ফেসবুক ডেটা সেন্টার সমস্ত ছবিকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে এমনভাবে প্রস্তুত রাখে যাতে যেকোন সময় এতে দ্রুত এক্সেস পাওয়া যায়।

কিন্তু জেনে হয়ত অবাক হবেন, পুরো ফেসবুক ট্রাফিকের ৮২ শতাংশই খরচ হয় মাত্র ৮ শতাংশ ছবির পেছনে! অর্থাৎ লোকজন খুব কম সংখ্যক ইমেজ নিয়মিত দেখে থাকে। সুতরাং বাকী ছবিগুলো মূল সার্ভারে না রেখে অপেক্ষাকৃত কম শক্তিক্ষয়ী ডেটা সেন্টারে সংরক্ষণ করতে পারলে অর্থ ও পরিবেশ উভয়ের জন্যই মঙ্গলজনক হবে। এজন্যই কোম্পানিটি এমন কোন উপায় খুঁজছে যাতে ব্যবহারকারীর ফেসবুক অভিজ্ঞতার কোন অবনতি না ঘটিয়েই ব্যয় সঙ্কোচন করতে পারে।

সামাজিক যোগাযোরে এই সাইটটি সম্প্রতি “কোল্ড স্টোরেজ” ডেটা সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসব সার্ভার সাধারণ স্টোরেজগুলোর চেয়ে ৮ গুণ বেশি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এবং ৫ গুণ অধিক শক্তি সাশ্রয়ী হবে। এগুলো বানাতে ফেসবুকের বর্তমান ডেটা সেন্টারের তুলনায় মাত্র একতৃতীয়াংশ অর্থ খরচ হবে। এতে ব্যবহৃত কম্পিউটারের একটা বেশিরভাগ অংশ স্লিপ মুডে থাকবে। আর কিছু সিস্টেম জেগে থেকে ব্যবহারকারীদের কমান্ড এক্সিকিউট করবে।

কোল্ড স্টোরেজ সার্ভারগুলোতে সংরক্ষিত ছবি এক্সেস করতে গেলে সাম্প্রতিক অথবা সচরাচর দেখা হয় এমন ফটো আলবামের চেয়ে পুরাতন বা কম ভিজিট করা ছবিতে কয়েক সেকেন্ড অথবা মিলিসেকেন্ড সময় বেশি অপেক্ষা করতে হবে, যা অনেকে হয়ত খেয়ালই করবেন না। অথচ এরই মধ্যে আপনি কিন্তু চলে যাবেন ফেসবুকের সামাজিক হিমাগারে!

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 3,716 other subscribers

Comments