ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়েছিল কিভাবে?

Dinosaurs-dinosaurs-650

“ডাইনোসর” নামটি মনে আসলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিশালদেহী ভয়ঙ্কর কিছু প্রাণী। সিনেমা বা প্রামাণ্য চিত্রের বাইরে দানবাকৃতির এই প্রাগৈতিহাসিক অধিবাসী বাস্তবে কেউ না দেখলেও এর প্রাপ্ত দেহাবশেষ থেকে প্রাণীটি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে আবিষ্কার করেছেন, ডাইনোসররা পৃথিবীতে প্রায় ১৬০ মিলিয়ন বছর ধরে দাপিয়ে বেড়িয়েছে।

প্রায় ২৩০ মিলিয়ন বছর পূর্বে প্রথম ডাইনোসর আলোর মুখ দেখে বলে জানা যায়। এখন থেকে প্রায় ৬৫ মিলিয়ন বছর আগেই কোন এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় ধ্বংস করে দিয়েছিল ডাইনোসরদের প্রভাব। বর্তমানে ধারণা করা হয়, থেরোপোড প্রজাতির ডাইনোসররাই আধুনিক পাখিদের পূর্বপুরুষ।

অতিকায় এই প্রাণী কিভাবে বিলুপ্ত হয়েছিল সেটি নিয়ে জল্পনা কল্পনার শেষ নেই। উনবিংশ শতকের শুরুর দিকে প্রথমবারের মত ডাইনোসরের জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়। বিভিন্ন শিলা ও পর্বতের অভ্যন্তরে আটকে থাকা ডাইনোসরের অস্থি সমাবেশ এদের দৈহিক গঠন জানান দেয়। কেউ কেউ ডাইনোসরদের সরীসৃপ ভাবতেও পছন্দ করেন, যদিও সেগুলোর পক্ষে যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায়না।

গবেষকরা বহুদিন যাবৎ তত্ব দিয়ে আসছেন যে, বড় ধরণের একটি গ্রহাণুর আঘাতে পৃথিবীতে ডাইনোসর অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটেছিল। কিন্তু এধরণের মারাত্নক বিপর্যয় হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে মতভেদ থাকায় সেসব তত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। অবশেষে মার্কিন এবং ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে গঠিত একদল গবেষক সম্প্রতি প্রকাশিত একটি থিসিসে গ্রহাণু বিপর্যয়ের পক্ষে বেশ কিছু ধারণা প্রকাশ করেছেন।

বছরের পর বছর গবেষণার ফলে ভূতাত্বিক গ্লেন পেনফিল্ড মেক্সিকোর খিক্সিলওব শহরের কাছাকাছি স্থানে একটি বড় ধরণের আগ্নেয়গিরি জ্বালামুখের সন্ধান পান, যা ১১০ মাইলেরও বেশি বিস্তৃত। এটি কথিত মহাজাগতিক বিপর্যয়ের অনুকূলে স্বাক্ষী দেয়। তিনি বর্ণনা করেন, উক্ত আগ্নেয়গিরির বিষ্ফোরণ হিরোশিমা-নাগাসাকির বোমার তুলনায় এক বিলিয়ন গুণ শক্তিশালী।

একই বিষয়ের ওপর অতীতের বিশ্লেষণসমূহ দাবী করত খিক্সিউলব আগ্নেয়গিরিটি ডাইনোসরদের তিরোধানের প্রায় ৩০০,০০০ বছর আগেই শান্ত হয়ে গিয়েছিল, যা পুরো বিষয়টি আরও অস্পষ্ট করে দেয়। কিন্তু সম্প্রতি এর নিকটস্থ ধ্বংসাবশেষের নমুনা নিয়ে অত্যাধুনিক রেডিওমেট্রিক পদ্ধতিরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এটাই বলতে চাইছেন যে, ডাইনোসর বিলুপ্তির পেছনে মূলত গ্রাহাণুর প্রচণ্ড আঘাত এবং তা থেকে সৃষ্ট দুর্যোগই দায়ী। সেই সাথে পৃথিবীর জলবায়ুগত প্রতিকূলতাকেও দায়ী করেছেন তারা।

এখন পর্যন্ত ডাইনোসর যুগের উপসংহার নিয়ে এটাই সর্বশেষ মতবাদ। হারিয়ে যাওয়া এই প্রাণীদের নিয়ে আপনার কি চিন্তাভাবনা? মন্তব্যের মাধ্যমে সবার সাথে ভাগাভাগি করে নেয়ার আমন্ত্রণ রইল। ধন্যবাদ।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 7,268 other subscribers

[★★] প্ৰযুক্তি নিয়ে লেখালেখি করতে চান? এক্ষুণি একটি টেকবাজ একাউন্ট খুলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে পোস্ট করুন! techbaaj.com ভিজিট করে নতুন একাউন্ট তৈরি করুন। হয়ে উঠুন একজন দুর্দান্ত টেকবাজ!

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.