ফোনের মধ্যেই কি পাওয়ার ব্যাংক দিবে স্যামসাং? ২০,০০০ mAh ব্যাটারি!

স্মার্টফোন যত আধুনিক হচ্ছে, ব্যবহারকারীদের দুশ্চিন্তাও তত বাড়ছে। ক্যামেরা উন্নত, প্রসেসর শক্তিশালী, ডিসপ্লে বড়, সবকিছু থাকা সত্ত্বেও দিনের মাঝামাঝি এসে চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া এখনো বড় সমস্যা। এই বাস্তবতায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে স্যামসাং-এর একটি ব্যাটারি পরীক্ষা, যেখানে প্রতিষ্ঠানটি ২০,০০০ mAh ক্ষমতার ব্যাটারি নিয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

স্যামসাং বর্তমানে এই বিশাল ব্যাটারি নিয়ে পরীক্ষামূলক কাজ চালাচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। যদিও এখনো এটি কোনো নির্দিষ্ট স্মার্টফোনে ব্যবহারের জন্য চূড়ান্ত হয়নি, তবুও এই খবর স্মার্টফোন ব্যাটারির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

কেন ২০ হাজার mAh ব্যাটারি নিয়ে এত আলোচনা?

বর্তমান সময়ে বাজারে থাকা বেশিরভাগ স্মার্টফোনেই ৫০০০mAh ব্যাটারি দেখা যায়। কিছু গেমিং ফোনে ৬০০০mAh বা তার একটু বেশি ব্যাটারি থাকলেও ২০০০০mAh একেবারেই ভিন্ন স্তরের বিষয়। এই পরিমাণ ব্যাটারি সাধারণত আমরা পাওয়ার ব্যাংক বা বড় ডিভাইসের সঙ্গে তুলনা করি।

স্যামসাংয়ের এই পরীক্ষার মূল কারণ হলো স্মার্টফোনের বিদ্যুৎ চাহিদা দ্রুত বেড়ে যাওয়া। উচ্চ রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে, সারাক্ষণ ইন্টারনেট সংযোগ, ভিডিও স্ট্রিমিং, অনলাইন গেমিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ফিচার। সব মিলিয়ে এখন একটি ফোন আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তি ব্যবহার করে।

এই ব্যাটারি কি সরাসরি স্মার্টফোনে ব্যবহার হবে?

অনেকের মনেই প্রথম প্রশ্ন আসে, এত বড় ব্যাটারি কি সত্যিই স্মার্টফোনে ব্যবহার করা সম্ভব? কোনো প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়নি যে এই ২০০০০mAh ব্যাটারি সরাসরি কোনো গ্যালাক্সি ফোনে ব্যবহার করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, স্যামসাং প্রথমে বিভিন্ন ধরনের ডিভাইসে এই প্রযুক্তি পরীক্ষা করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুরুতে এই ব্যাটারি ট্যাবলেট, ল্যাপটপ কিংবা বিশেষ শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত ডিভাইসে ব্যবহার হতে পারে। স্মার্টফোনে আনতে হলে ব্যাটারির আকার, ওজন এবং তাপ নিয়ন্ত্রণ – এই তিনটি বিষয় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

samsung 20000 mah battery

🔥🔥 গুগল নিউজে বাংলাটেক সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন 🔥🔥

ব্যাটারি প্রযুক্তিতে স্যামসাংয়ের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

স্যামসাং দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাটারি প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করে আসছে। শুধু ব্যাটারির ক্ষমতা বাড়ানো নয়, একই জায়গায় আরও বেশি শক্তি ধরে রাখার দিকেও তাদের নজর রয়েছে। এজন্য উন্নত সেল ডিজাইন এবং নতুন ধরনের উপাদান ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

২০০০০mAh ব্যাটারি মানেই ফোন মোটা ও ভারী হয়ে যাবে, এই ধারণা ভাঙতেই স্যামসাংয়ের এই গবেষণা। যদি ব্যাটারির শক্তি ধারণক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো যায়, তাহলে তুলনামূলকভাবে পাতলা ডিজাইন বজায় রেখেও বড় ব্যাটারি ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে।

চার্জিং স্পিড নিয়ে বাস্তব চিন্তা

এত বড় ব্যাটারির ক্ষেত্রে চার্জিং সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি একটি ডিভাইস সম্পূর্ণ চার্জ হতে ৪ বা ৫ ঘণ্টা সময় নেয়, তাহলে সেটি ব্যবহারকারীদের জন্য খুব একটা সুবিধাজনক হবে না।

স্যামসাং ইতিমধ্যেই দ্রুত চার্জিং প্রযুক্তিতে অনেক দূর এগিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ধরনের ব্যাটারির সঙ্গে ১০০ ওয়াট বা তার বেশি ক্ষমতার চার্জিং সাপোর্ট যুক্ত করা হতে পারে, যাতে চার্জিং সময় বাস্তবসম্মত পর্যায়ে রাখা যায়।

👉 স্যামসাং স্মার্টফোন হারিয়ে গেলে খুঁজে পেতে করনীয়

ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতায় কী পরিবর্তন আসতে পারে?

একবার চার্জ দিয়ে যদি একটি স্মার্ট ডিভাইস টানা ৩ বা ৪ দিন ব্যবহার করা যায়, তাহলে ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাই বদলে যাবে। পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে রাখা বা বারবার চার্জারের খোঁজ করা, এই অভ্যাসগুলো ধীরে ধীরে কমে আসবে।

বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে অনেক এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয়, সেখানে বড় ব্যাটারির ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সুবিধা হতে পারে। দীর্ঘ ভ্রমণ, আউটডোর কাজ কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে ফোনের চার্জ নিয়ে আলাদা করে ভাবতে হবে না।

বাজারে স্যামসাংয়ের কৌশল

স্যামসাং সাধারণত নতুন প্রযুক্তি বাজারে আনার আগে দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা চালায়। ২০০০০mAh ব্যাটারি নিয়ে এই উদ্যোগ দেখাচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতের শক্তিনির্ভর ডিভাইসগুলোর জন্য আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সব পরীক্ষাই যে সরাসরি ভোক্তা পণ্যে রূপ নেবে, এমন নয়। তবে এই গবেষণার ফলাফল ভবিষ্যতে ছোট আকারের উন্নত ব্যাটারির মাধ্যমে স্মার্টফোনে প্রভাব ফেলতে পারে। এতে করে অন্যান্য নির্মাতারাও বড় ব্যাটারি ও দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে বাধ্য হবে।

👉 এন্ড্রয়েড ফোনের চার্জ দীর্ঘস্থায়ি করার জন্য কিছু টিপস

শেষ কথা

এই মুহূর্তে ২০০০০mAh ব্যাটারি কেবল পরীক্ষামূলক পর্যায়েই রয়েছে। এটি কবে বাজারে আসবে বা আদৌ স্মার্টফোনে ব্যবহার করা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে স্যামসাংয়ের এই উদ্যোগ স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ভবিষ্যতে স্মার্টফোন উন্নয়নের অন্যতম বড় বিষয় হতে যাচ্ছে ব্যাটারি লাইফ।

যারা চার্জ টেনশন ছাড়া দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করতে চান, তাদের জন্য এই খবর নিঃসন্দেহে আশার আলো।

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 8,351 other subscribers

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *