ফ্রিল্যান্সিং করে যে কাজে বেশি টাকা আয় করতে পারবেন

প্রায় যেকোনো ধরনের কাজকে কেন্দ্র করে ফ্রিল্যান্সিং করা যেতে পারে। অনেকে জিজ্ঞেস করেন কোন কাজগুলো নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করে সর্বোচ্চ আয় করা যায়। এই পোস্টে ফ্রিল্যান্সিং করে যে কাজে বেশি টাকা আয় করতে পারবেন সেসব কাজ সম্পর্কে জানবেন। এখানে আপওয়ার্ক থেকে প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।

কপিরাইটিং

একজন ফ্রিল্যান্স কপিরাইটার নিউজলেটার, বিজ্ঞাপন, ইমেইল, ই-বুক, আর্টিকেল বা অন্য যেকোনো ধরনের আকর্ষণীয় কপি বা লেখা লিখে থাকেন। যদিওবা কপিরাইটিং গিগ থেকে আয়ের পরিমাণ স্থানভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে, তবে একজন কপিরাইটার ঘন্টায় ১৯ ডলার থেকে ৪৫ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারেন। এই পরিমাণ আরও কম কিংবা বেশি হতে পারে অভিজ্ঞতা অনুযায়ী। 👉টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় বাংলাদেশে

ওয়েব ডিজাইনিং

প্রায় সকল ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট এর প্রয়োজন হয়, আর আপনি যদি একজন ওয়েব ডিজাইনার হোন তবে আয়ের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। ওয়েবসাইট ডিজাইনের ক্ষেত্রে একাধিক দক্ষতা থাকা জরুরি। একজন ওয়েব ডিজাইনার ঘণ্টায় কমবেশি ১৫ডলার থেকে ৩০ডলার বার আরও বেশি আয় করে থাকেন। ২০৩০সালের মধ্যে ওয়েব ডিজাইনার ও ডেভলপারের চাহিদা বাড়বে ১৩শতাংশ, তাই আপনি যদি একজন ওয়েব ডিজাইনার হোন, তবে আপনার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বেশ ভালো অংকের অর্থ আয় করতে পারবেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং

একজন ডিজিটাল মার্কেটার এর কাজ হলো ব্যবসা বা ব্যক্তির অনলাইন প্রেজেন্স বৃদ্ধি করে লিড জেনারেট করে সেলস বাড়ানো। এসইও, ইমেইল মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, কনটেন্ট মার্কেটিং, অনলাইন বিজ্ঞাপন, ইত্যাদি বিষয় একজন ডিজিটাল মার্কেটিং ম্যানেজার হওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা। একজন ডিজিটাল মার্কেটার ঘন্টায় কমবেশি ১৫ ডলার থেকে ৪৫+ ডলার আয় করতে পারেন।

কপি এডিটিং

একজন এডিটর বিভিন্ন লেখা রিভিউ ও রিভাইস করেন। লেখার বিভিন্ন দিক, যেমনঃ সিনট্যাক্স, পাংচুয়েশন, ফ্লো,স্টাইল, ইত্যাদি দেখার পাশাপাশি প্রদত্ত তথ্য সঠিক আছে কিনা তা একজন এডিটর চেক করেন। হাই-কোয়ালিটি কনটেন্ট তৈরিতে একজন এডিটর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একজন এডিটর হতে গেলে অবশ্যই অন্য সকল রাইটার এর চেয়ে বেশ দক্ষ হওয়া প্রয়োজন। একজন এডিটর ঘন্টায় ২০ডলার থেকে ৪০ডলার পর্যন্ত আয় করে থাকেন। 👉 বাংলাদেশের জন্য সেরা ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট

ওয়েব ডেভলপমেন্ট

একজন ওয়েব ডেভলপার তার এডভান্সড প্রোগ্রামিং স্কিল ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরী করেন। এসব ফ্রিল্যান্সিং কাজ করতে সাধারণত ফ্রন্ট-এন্ড বা ব্যাক-এন্ড অথবা ফুল-স্ট্যাক (উভয়) ডেভলপার হতে হয়। ফ্রন্ট-এন্ড ডেভলপার ওয়েবসাইটের বাহ্যিক দিক, যেমনঃ ডিজাইন ও ভিজ্যুয়াল ইত্যাদি দেখাশোনা করেন। অন্যদিকে ব্যাক-এন্ড ডেভলপার ওয়েবসাইটের ভেতরের বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করেন। আর একজন ফুল-স্ট্যাক ডেভলপার উভয় বিষয়ে পারদর্শী। একজন ওয়েব ডেভলপার ঘন্টায় ১৫ থেকে ৩০+ ডলার আয় করে থাকেন।

👉 অনলাইনে আয় করার সেরা ওয়েবসাইট

মিডিয়া বায়িং 

নির্দিষ্ট বাজেট ও প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে কোনো ব্যবসার এড প্লেসমেন্ট ঠিক করতে সাহায্য করেন একজন মিডিয়া বায়িং এক্সপার্ট। এই এড বা বিজ্ঞাপন হতে পারে ফিজিক্যাল, প্রিন্ট, ডিজিটাল বা ব্রডকাস্ট মিডিয়ার জন্য। একজন মিডিয়া বায়ার এক্সপার্ট তার ক্লায়েন্টের জন্য সেরা বিজ্ঞাপনের সুযোগ খুঁজে দেওয়ার কাজ করে থাকেন। ঘন্টায় ৫০ ডলার থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারেন একজন মিডিয়া বায়িং এক্সপার্ট।

👉 ইন্টারনেট থেকে আয় করার সেরা উপায়সমূহ

ডাটা এনালাইসিস

নাম শুনেই বুঝতে পারছেন একজন ডাটা এনালিস্ট এর কাজ কি হতে পারে। অধিকাংশ কোম্পানির ইন-হাউজ ডাটা এনালিস্ট থাকলেও ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে ডাটা এনালিস্ট এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। একজন ডাটা এনালিস্ট ঘন্টায় ২০ডলার থেকে ৫০ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারেন।

🔥🔥 গুগল নিউজে বাংলাটেক সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন 🔥🔥

ফ্রিল্যান্সিং করে যে কাজে বেশি টাকা আয় করতে পারবেন

👉 অফলাইনে আয় করার কিছু লাভজনক উপায়

বিজনেস কনসালটেন্সি

বিভিন্ন ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিজনেস কনসালটেন্ট হায়ার করে থাকে কোম্পানিগুলো। মূলত একজন বিজনেস কনসাল্ট ব্যবসা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। একজন ফ্রিল্যান্স বিজনেস কনসালটেন্ট ঘন্টায় ২৮ডলার থেকে ৯৮ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারেন।

প্রোগ্রামিং

একজন প্রোগ্রামার সাধারণত কোড লেখার মাধ্যমে কম্পিউটার ও মোবাইলের জন্য বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ তৈরী করে থাকেন। এছাড়া একজন প্রোগ্রামার বিভিন্ন ধরনের মেইনটেইনেন্স রুটিন ও টেকনিক্যাল সমস্যা ঠিক করার কাজও করে থাকেন। প্রোগ্রামিং ফ্রিল্যান্স গিগগুলো থেকে ঘন্টায় ১৫ডলার থেকে ৩০+ ডলার পর্যন্ত আয় করা যেতে পারে। 👉 প্রোগ্রামিং করে টাকা আয় করার উপায়

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স

ডাটা এন্ট্রি, ক্যালেন্ডার অরগানাইজেশন বা ইমেইল কমিউনিকেশন এর মত বিভিন্ন এডমিনিস্ট্রেটিভ কাজ এর জন্য ক্লায়েন্টগণ ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হায়ার করে থাকেন। ক্লায়েন্ট এর পক্ষ থেকে রেস্টুরেন্ট রিসার্ভেশন, মেডিক্যাল এপয়নমেন্ট বা কেনাকাটার মত কাজ করে থাকেন একজন ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট। মূলত ব্যস্ত ব্যবসায়িগণ এই ধরনের কাজের জন্য ফ্রিল্যান্সার নিয়োগ করে থাকেন। একজন ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট ঘন্টায় ১২ ডলার থেকে ২০ ডলার পর্যন্ত আয় করে থাকেন।

পাবলিক রিলেশনস ম্যানেজমেন্ট

একজন পাবলিক রিলেশনস (পিআর) ম্যানেজার কোনো প্রতিষ্ঠানকে কার্যকরী পিআর স্ট্রেটেজি তৈরিতে সাহায্য করেন, যা উক্ত কোম্পানির একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করে। প্রেস রিলিজ তৈরী, গুরুত্বপূর্ণ মিডিয়ার সাথে যোগাযোগ স্থাপন, সংকটপূর্ণ সময় মোকাবেলা, ইত্যাদি একজন পিআর ম্যানেজার এর কাজ। একজন পিআর ম্যানেজার ঘন্টায় ৫০ডলার থেকে ১০০ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারেন।

তো আপনি যদি উপরের কোনো কাজের ক্ষেত্রে দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে আপনার দক্ষতা অনুযায়ী ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করতে পারবেন। আপনার প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা কিংবা মতামত কমেন্টে জানান!

👉 ভিডিওঃ সফল ফ্রিল্যান্সার হওয়ার উপায়

👉 আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করে সাথেই থাকুন। এখানে ক্লিক করে সাবস্ক্রিপশন কনফার্ম করুন!

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 7,408 other subscribers

[★★] প্ৰযুক্তি নিয়ে লেখালেখি করতে চান? এক্ষুণি একটি টেকবাজ একাউন্ট খুলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে পোস্ট করুন! techbaaj.com ভিজিট করে নতুন একাউন্ট তৈরি করুন। হয়ে উঠুন একজন দুর্দান্ত টেকবাজ!

1 Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.