ফেসবুকে নতুন সুবিধা: ফেসবুকেই হবে দোকান ও কেনাকাটা

ফেসবুকে যুক্ত হলো শপস নামের নতুন একটি ফিচার। এই ফিচার দ্বারা ফেসবুক এবং ইন্সটাগ্রাম পেজগুলি ডিজিটাল স্টোরে পরিণত হবে। ফেসবুকের মতে, এই ফিচারটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে ছোট ব্যবসাগুলোকে বড় হতে সাহায্য করা।

সম্প্রতি একটি লাইভ ভিডিওতে ফেসবুকের সিইও, মার্ক জাকারবার্গ ফিচারটির কথা প্রকাশ করেন। এর মাধ্যমে মূলত পেজ এবং প্রোফাইলে অনলাইন শপ যুক্ত হবে, যেখান থেকে গ্রাহকগণ তাদের পছন্দের পণ্যগুলি দেখতে এবং কিনতে পারবেন।

একটি ব্যবসা চাইলে সম্পূর্ণভাবে ফেসবুকে নিয়ে আসার সমর্থন যুক্ত হবে এই ফিচারটির মাধ্যমে। এছাড়াও শপস ফিচারটিতে শপিফাই, বিগ-কমার্স, ওয়ার্ডপ্রেসের জনপ্রিয় উকমার্স এর মত থার্ড পার্টি সাপোর্ট থাকবে। আরো থাকছে কাস্টমার লয়্যালটি প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের সুবিধা।

ফেসবুকের ভাষ্যমতে, একটি দোকান স্থাপন অপেক্ষা একটি ফেসবুক শপ তৈরী অনেকটাই সহজ এবং বিনামুল্যও বটে। ব্যবসায়গুলি তাদের ইচ্ছাক্রমে যেকোনো পণ্য ফেসবুক শপে যুক্ত করতে পারবে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের একসেন্ট এর সাথে মিলিয়ে সিলেক্ট করা যাবে কভার ফটো এবং শপ কালার।

অর্থাৎ, ছোট হোক কিংবা বড়, প্রত্যেক ব্যবসাই চাইলে তাদের পণ্যগুলোকে ফেসবুক শপ এর মাধ্যমে গ্রাহকদের নিকট পৌছে দিতে পারবে।

ইন্সটাগ্রামেও আসছে শপিং ফিচারটি, কিছুদিনের মধ্যে অ্যাপে যুক্ত হবে শপিং ট্যাব। এই ফিচারটি নিয়ে ফেসবুকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার এবং ইন্সটাগ্রাম ডিরেক্ট- অ্যাপগুলোকে একই ছাদের নিচে নিয়ে এসে ব্যবসাগুলোকে একটি ই-কমার্স প্লেস প্রদান করা।

কভিড-১৯ এর জন্য চলমান লকডাউনের ফলে যেসব ছোট ব্যবসায়ী নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে রীতিমত লড়াই করছেন, তাদের সহায়তার অংশ হিসেবে এই ফিচারটি যুক্ত করেছে ফেসবুক।

ওই লাইভস্ট্রিমের সময় মার্ক জাকারবার্গ বলেন, ফিচারটি এই ধরনের দোকানগুলোর আয়ের উপায় নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে সাহায্য করবে এবং লকডাউন শেষে নিজেদের দোকান পুনরায় চালু করার সাহস এবং শক্তি যোগাবে। ফেসবুকের একটি জরিপে দেখা গেছে এক তৃতীয়াংশ ছোট ব্যবসাই লকডাউনের পর আয়ের অভাবে দোকান পুনরায় খুলতে পারবে না। এছাড়াও অর্ধেকেরও বেশি ব্যবসা এটি বলেছিল যে তারা তাদের আগের কর্মচারীদের পুনরায় নিয়োগে ব্যর্থ হবে।

কভিড-১৯ এর কারণে চলমান লকডাউনে শপস ফিচারটি আবার ছোট ব্যবসাগুলোর আয়ের পথ খুলে দিবে। হয়ত ফিচারটির মাধ্যমে আয়ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে সচল করতে পারবেনা, তবে এটি ব্যবসাগুলোর অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা হলেও লাঘব করবে।

ফেসবুক আগেও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম তৈরির চেষ্টা করেছে, লাইভস্ট্রিমের সময় ব্যাপারটি নিজেই স্বীকার করেন মার্ক জাকারবার্গ। কিছুদিনের মধ্যেই শপস ফিচারটি পেয়ে যাবেন সমস্ত ব্যবহারকারীগণ।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 7,613 other subscribers

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.