২০১৫ সাল নাগাদ বন্ধ হয়ে যাবে নেটবুক বাজার?

বৈশ্বিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএইচএস আইসাপ্লাই সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলেছে, এই মুহুর্তে নেটবুক কম্পিউটার বাজার মূলত “লাইফ সাপোর্ট” নিয়ে বেঁচে আছে এবং ২০১৫ সালের মধ্যেই পণ্যটির উৎপাদন ও বিক্রি কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে যাবে

প্রতিষ্ঠানটি ধারণা করছে, ২০১৪ সালে মাত্র ২৬৪,০০০টি নেটবুক বিক্রি হবে। এর আগে, ২০১৩তে ডিভাইসগুলোর সম্ভাব্য শিপমেন্ট ৩.৯৭ মিলিয়ন ইউনিটে অবনমিত হতে পারে, যা ২০১২ সালে বিক্রি হওয়া ১৪.১৩ মিলিয়নের তুলনায় ৭২% কম। ২০১০এ নেটবুক পিসি বিক্রিতে ৩২.১৪ মিলিয়ন ইউনিটের রেকর্ড অর্জিত হয়।

নেটবুকের একসময়কার জনপ্রিয়তা অর্জনের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। এটি ছোট, হালকা এবং দামেও কম (২০-২১ হাজার টাকা বা এর কম মূল্যে শুরু); অপরদিকে, ডিভাইসটিতে সচরাচর ডেস্কটপ কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেমই চালানো যায়।

এর ছোট্ট (সাধারণত ১০.১ ইঞ্চি) স্ক্রিনে মুভি দেখা একটু অসুবিধাজনক হলেও ল্যাপটপের তুলনায় বেশি ব্যাটারি ব্যাকআপ থাকায় জরুরী প্রয়োজনে নেটবুক বেশ কাজে দেয়। কিন্তু এতকিছুর পরেও এর প্রসেসিং ক্ষমতা, র‍্যাম এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ ব্যবহারে অভ্যস্ত ব্যক্তির কাছে নেটবুক কখনো কখনো বিরক্তির কারণও হতে পারে। নামের সাথে “নেট” থাকলেও একটু ভারী ওয়েবসাইট ব্রাউজ করতে গেলে স্বল্প স্পেসিফিকেশনের এই মেশিনটি ফ্রিজি আচরণ করে থাকে। অবশ্য, একটু বেশি দাম দিয়ে কিনলে এসব সমস্যা কম চোখে পরবে।

নেটবুকের জায়গা দখল করে নিচ্ছে ট্যাবলেট এবং আল্ট্রাবুক। কিছু কিছু ট্যাবলেট কম্পিউটারে একই সাথে মোবাইল ফোনের সুবিধাও পাওয়া যায়। আর টাচস্ক্রিন থাকায় এগুলোর ব্যবহার সুবিধাজনক। আল্ট্রাবুকের দাম একটু বেশি হলেও কাজের প্রয়োজনে লোকজন ঠিকই তা কিনে নেয়।

যাই হোক, এখন দেখা যাক আইসাপ্লাইয়ের পূর্বাভাস কতটা বাস্তব হয়। আপনি কী মনে করেন? নেটবুকের দিন কি ২০১৫ সালেই শেষ হয়ে আসছে? নাকি এর আগে/ পরে?

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 7,840 other subscribers

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.