করোনাভাইরাস টিকা নিতে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করার উপায়

করোনাভাইরাস টিকা নিতে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করার উপায়

ভারত থেকে উপহারস্বরুপ পাঠানো, সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২০ লাখ কোভিড ১৯ এর ডোজ টিকা দেশে এসে পৌঁছেছে। এই ২০ লাখ কোভিড ১৯ এর টিকার পাশাপাশি সরকারের কেনা সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে তিন কোটি ডোজ টিকার প্রথম সাপ্লাই ৫০ লাখ ডোজ টিকা ২৫ জানুয়ারি সোমবার দেশে এসেছে

কোভিড-১৯ এর টিকা পাবেন যারা

সারা দেশে এই গণ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে, জানানো হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। ২৭ জানুয়ারি ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের একজন নার্সকে সর্বপ্রথম কোভিড ১৯ এর টিকা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উল্লিখিত প্রক্রিয়াটি উদ্বোধন করবেন।

একই দিনে আরো ২৪জনকে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া হবে। ঢাকার ৫টি হাসপাতালে এর পরেরদিন আরো ৫০০জনকে টিকা দেওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই। তবে এখনো এই টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল না হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী প্রথম দফায় যাদেরকে টিকা দেওয়া হবে, তাদেরকে এক সপ্তাহ অর্থাৎ ৭দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারীর ৮তারিখ হতে দেশব্যাপী কোভিড ১৯ এর টিকাদান কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের।

টিকা পেতে আগ্রহীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। তবে ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামের তালিকা চেয়ে নোটিশ পাঠিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান যে, গত ১৩ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জেলা প্রশাসকদের চিঠি পাঠানো হয়েছে। মোবাইল অ্যাপ চালু হওয়ার পর তালিকা অনুযায়ী নিবন্ধন করা হবে।

কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস টিকার জন্য অনলাইন নিবন্ধন এর নিয়ম

করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ এর টিকা পেতে হলে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করতে হবে www.surokkha.gov.bd ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করে। কিছুদিনের মধ্যেই রেজিস্ট্রেশন করা যাবে অ্যাপ এর মাধ্যমে। শীঘ্রই অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস এর জন্য আসবে অ্যাপটি।

ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নিবন্ধনের পরেই একই ওয়েবসাইট থেকেই জানা যাবে কখন ও কোথায় করোনাভাইরাসের টিকা নেওয়া যাবে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের উপর এখনো অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়নি। তাই ১৮ বছরের কম বয়সীরা টিকার জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন না।

কোভিড ১৯ এর টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন এর ক্ষেত্রে ১৮টি শ্রেনী করা হয়েছে। উল্লিখিত শ্রেণী থেকে স্ব স্ব শ্রেণী সিলেক্ট করার পর জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে নিবন্ধন শুরু করতে হবে।

কোভিড ১৯ এর টিকা প্রদানের রেজিষ্ট্রেশন প্রসেসে উল্লিখিত ১৮টি শ্রেণীসমুহ হলোঃ

  • নাগরিক, যা জনসাধারণের জন্য
  • সরকারি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী
  • অনুমোদিত সকল বেসরকারি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা-কর্মচারী
  • প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত সকল সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা কর্মকর্তা-কর্মচারী
  • বীর মুক্তিযোদ্ধা
  • সম্মুখসারির আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য
  • সামরিক ও আধা সামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী
  • রাষ্ট্র পরিচালনায় অপরিহার্য কার্যালয়ের কর্মীরা
  • সম্মুখসারির গণমাধ্যমকর্মী
  • নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি
  • সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার সম্মুখসারির কর্মকর্তা-কর্মচারী
  • ধর্মীয় প্রতিনিধি (সকল ধর্ম)
  • মৃতদেহ সৎকারে নিয়োজিত ব্যক্তি
  • বিদ্যৎ, পানি, গ্যাস, পয়ঃনিস্কাশন ও ফায়ার সার্ভিসের মত জরুরি সেবার সম্মুখসারির কর্মী
  • রেল স্টেশন, বিমান বন্দর ও নৌ বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী
  • জেলা ও উপজেলায় জরুরি জনসেবায় সম্পৃক্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী
  • ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী
  • প্রবাসী অদক্ষ শ্রমিক

জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ঠিকমত যাচাই করা হয়ে গেলে স্ক্রিনে বাংলা ও ইংরেজিতে নিবন্ধনকারীর নাম দেখানো হবে। তারপর একটি মোবাইল ফোন নম্বর চাওয়া হবে। এই নম্বরে নিবন্ধনকারীকে টিকাদান সংক্রান্ত তথ্য এসএমএস করা হবে।

মোবাইল নাম্বার প্রদানের পর জানতে চাওয়া হবে নিবন্ধনকারীর দীর্ঘমেয়াদী রোগ বা কো মরবিডিটি আছে কি না। থাকলে কোন কোন রোগ আছে তা উল্লেখ করতে হবে। এছাড়াও জানাতে হবে নিবন্ধকারীর পেশা এবং তিনি কোভিড-১৯ সংক্রান্ত কাজে সরাসরি জড়িত কি না।

এর পরের ধাপে নিবন্ধনকারী তার বর্তমান ঠিকানা ও কোন কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে ইচ্ছুক তা নির্বাচন করবেন। সব শেষে ফরম সেভ করলে নিবন্ধনকারীর প্রদত্ত মোবাইল নম্বরে ওটিপি কোড পাঠানো হবে। এরপর ‘স্ট্যাটাস যাচাই’ বাটনে প্রাপ্ত ওটিপি কোড দিয়ে ক্লিক করলে নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গেলে টিকার ডোজের তারিখ ও কেন্দ্রের নাম এসএমএস এর মাধ্যমে নিবন্ধকারীকে জানিয়ে দেওয়া হবে। এরপর জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, জন্ম তারিখ দিয়ে লগ ইন করে এসএমএস এর মাধ্যমে পাওয়া ওটিপি কোড দিয়ে টিকা কার্ড এই ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করতে হবে।  এসএমএস এ প্রদত্ত তারিখে টিকা কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্র সহিত এসএমএস এ উল্লিখিত টিকাদান কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে কোভিড-১৯ এর টিকা নিবেন নিবন্ধনকারী। দুইটি ডোজ শেষ হওয়ার পর টিকা প্রাপ্তির সনদ পাবেন টিকা গ্রহণকারীগণ।

যাদের নিকট ইন্টারনেট কিংবা ইন্টারনেট চালিত ডিভাইসের সুযোগ নেই, কিন্তু কোভিড ১৯ এর টিকা নিতে আগ্রহী, তারা নিকটস্থ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে গিয়ে বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন করোনাভাইরাসের টিকার জন্য।

কোভিড-১৯ বা করোনা ভ্যাকসিন প্রদানের প্রক্রিয়া

কোভিড ১৯ ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে একটি নির্দিষ্ট ৩ধাপের প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। কোভিড ১৯ করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রদানের প্রক্রিয়াটি নিম্নরুপঃ

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 4,883 other subscribers

  • অনলাইনে নিবন্ধনঃ প্রথমে আসল বাংলাদেশি নাগরিকগণ ওয়েব পোর্টাল ব্যবহার করে সঠিক জাতীয় পরিচয়পত্র ও সঠিক মোবাইল নাম্বার প্রদান করে অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করবে
  • এসএমএস নোটিফিকেশনঃ অনলাইনে নিবন্ধনকৃত নাগরিকগণ তথ্য যাচাইপূর্বক পর্যায়ক্রমে টিকা প্রদানের তারিখ ও কেন্দ্রের নাম সম্পর্কিত তথ্য প্রদানকৃত নাম্বারে মোবাইলে মেসেজ পেয়ে যাবেন
  • টিকা কেন্দ্রে টিকা গ্রহণঃ নাগরিকগণ মোবাইলে এসএমএস পাওয়ার পর নির্দিষ্ট তারিখে টিকাদান কেন্দ্রে সশরীরে উপস্থিত হয়ে কোভিড-১৯ এর টিকা গ্রহণ করবে।

প্রয়োজনীয় হটলাইনসমূহ

  •  ৩৩৩ – জাতীয় কল সেন্টার
  • ১৬২৬৩ – স্বাস্থ্য বাতায়ন
  • ১০৬৫৫ – আইইডিসিআর
  • ০৯৬৬৬৭৭৭২২২ – কোভিড-১৯ টেলিহেলথ
  • ০৯৬৬৬৮৮৮৮৮৮ – মা টেলিহেলথ

Comments