বিজয় দিবসে মানবপতাকার বিশ্ব রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ!

worlds biggest human flag১৬ই ডিসেম্বর ২০১৩ সোমবার দুপুরে সবচেয়ে বড় ‘মানব-পতাকা’ তৈরির বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ‘লাল সবুজের বিশ্বজয়’ শিরোনামে মোবাইল ফোন সেবাদাতা রবির আয়োজনে ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক সহযোগিতায় এই পতাকা নকশায় অংশ নেন ২৭ হাজার ১১৭ জন স্বেচ্ছাসেবী। দৃষ্টিনন্দন এই প্রচেষ্টা এখন গিনেস বুক অব রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

আপডেটঃ বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানব পতাকা গড়ে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। ৪ জানুয়ারি ২০১৪, শনিবার গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুমোদন দিয়েছে বলে জানিয়েছে প্রথম আলো।

এর আগে এরকম বিশাল মানবপতাকার রেকর্ড গড়েছিল- ২০১৩ সালের ৮ জুলাই রাশিয়া (২৬,৯০৪ জন), ২০১২ সালের অক্টোবরে পাকিস্তান (২৪,২০০ জন) ও হংকং (২১,৭২৬ জন);

worlds largest human flagছয় মিনিট ১৬ সেকেন্ড ধরে লাল-সবুজ রঙের প্ল্যাকার্ড উঁচু করে ধরে ২৭ হাজার মানুষ যখন পতাকাটি প্রদর্শন করেন তখন আকাশে হেলিকপ্টারে চক্কর মারছিলেন গিনেস বুকস অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের একদল মনোনীত পর্যবেক্ষক। তাদের প্রতিনিধিরা কেউ কেউ মঞ্চেও উপস্থিত ছিলেন।

পতাকা প্রদর্শন শেষে তারা বলেন এই জাতীয় পতাকাই এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবসৃষ্ট পতাকা। পর্যবেক্ষকদলের একজন শাকিলা ফারজানা বলেন গিনেস বুকে নাম লিপিবদ্ধ করার জন্য তারা এখন প্রয়োজনীয় দলিলপত্র পাঠিয়ে দেবেন।

সকাল সাড়ে ১১টায় এই আয়োজন শুরু হলেও বেলা ১টা ৩৫ মিনিটে শুরু হয় রেকর্ড ভাঙ্গা-গড়ার পালা। ১টা ৪৩ মিনিটে সফলভাবে মানবপতাকা প্রদর্শন করে উল্লাসে মুখরিত হয়ে পড়েন উপস্থিত সর্বস্তরের মানুষ। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন নাট্য ব্যক্তিত্ব আফজাল হোসেন ও অপি করিম।

এবছর বিজয় দিবসে আরেকটি অভিনব আয়োজন ছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরের যে সময়টিতে এখানে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিলো, ঠিক সেই সময়ে অর্থাৎ বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে সেখানে ৩ লাখের বেশি কণ্ঠে বেজে ওঠে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। উপস্থিত জনতা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে থাকা বাঙালিদের সাথে একযোগে গেয়ে ওঠেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’।

বাংলানিউজ২৪ ডটকম লিখছে, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ একই সময়ে এত সংখ্যক কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ায় বিশ্ব রেকর্ড গড়ল। এর আগের রেকর্ডটি ছিল ভারতের।

সম্মিলিতভাবে এই উত্সব পালন করছে বিজয় ২০১৩ উদযাপন জাতীয় কমিটি, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, গণজাগরণ মঞ্চ, বিজয় ৪:৩১ মঞ্চ এবং মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বাস্তবায়ন কমিটি।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 7,613 other subscribers

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.