উইন্ডোজ কম্পিউটারে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ব্যবহারের উপায়

অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপসমূহে বড় স্ক্রিনের সুবিধা পেতে বা অ্যান্ড্রয়েডের কোনো নির্দিষ্ট ফিচার কম্পিউটারে ব্যবহার করতে চান? উইন্ডোজ কম্পিউটারে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ব্যবহারের একাধিক উপায় রয়েছে। উইন্ডোজ কম্পিউটারে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ব্যবহার করতে মাইক্রোসফট এর পাশাপাশি থার্ড পার্টি সল্যুশন ও রয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক উইন্ডোজ পিসিতে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত।

ফোন মিরর করা

ফোনে ইন্সটল থাকা অ্যাপসমূহ বড় স্ক্রিনে চালাতে চাইলে মাইক্রোসফট এর Your Phone অ্যাপ ব্যবহার করে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল উইন্ডোজ কম্পিউটারের সাথে কানেক্ট করে অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে, নোটিফিকেশন, ছবিসহ সকল মিডিয়া দেখা যাবে, মেসেজ পাঠানো যাবে। এছাড়াও পছন্দের অ্যাপ Favorites হিসেবে এড করে রাখা যাবে। এমনকি সরাসরি উইন্ডোজ টাস্কবারেও পিন করে রাখার সুযোগও থাকছে।

ফোনের স্ক্রিন সরাসরি কম্পিউটারে মিরর করতে চাইলে Your Phone ডেস্কটপ অ্যাপে প্রবেশ করে ফোন স্ক্রিন ইমেজে ক্লিক করুন। এরপর ফোনের অ্যাপে প্রয়োজনীয় সকল পারমিশন প্রদান করুন, এরপর ফোনের স্ক্রিন উইন্ডোজ কম্পিউটারে দেখতে পাবেন। এরপর ফোনের স্ক্রিন সরাসরি মাউসের মাধ্যমে কম্পিউটার থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

Your Phone অ্যাপের সাহায্যে প্রায় সকল অ্যান্ড্রয়েড ফোনের স্ক্রিন কম্পিউটারে শেয়ার করা যায়। বিশেষ করে, স্যামসাং ব্র‍্যান্ডের ফোনগুলোতে এই ফিচারটি সবচেয়ে ভালো কাজ করে।

তবে উইন্ডোজ ১০ এর মে ২০২০ আপডেট বা তার পরের আপডেট যাদের আছে, ৮জিবি র‍্যাম ও অ্যান্ড্রয়েড ১১ আছে, এমন ডিভাইসসমূহের সাথে কোনো সমস্যা ছাড়া Your Phone অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে। অবশ্য গেম খেলার ক্ষেত্রে এই সমাধানটি আদর্শ নয়।

ইওর ফোন অ্যাপ সেটাপ করার নিয়ম

  • অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস থেকে www.aka.ms/yourpc লিংকে প্রবেশ করলে সরাসরি প্লে স্টোরে প্রবেশ করবে, সেখান থেকে Your Phone অ্যাপটি ডাউনলোড করুন
  • ডাউনলোড করার পর অ্যাপটি ওপেন করুন ও মাইক্রোসফট একাউন্ট দ্বারা লগিন করুন
  • উল্লেখ্য যে Your Phone অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে ফোনে ও কম্পিউটারে একই মাইক্রোসফট একাউন্টে লগিন থাকতে হবে
  • এরপর কম্পিউটারে Your Phone অ্যাপে প্রবেশ করুন ও Android phone সিলেক্ট করুন
  • এরপর অটোমেটিকালি দুইটি ডিভাইস কানেক্ট হওয়ার কথা। অটোমেটিক কানেক্ট না হলে কিউআর কোড স্ক্যান করে ডিভাইস দুইটি কানেক্ট করুন
  • এরপর ফোনের পারমিশন চেয়ে নোটিফিকেশন আসলে পারমিশন Allow করে দিন

উল্লেখিত প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সঠিকভাবে অনুসরণ করে থাকলে ফোনের সকল নোটিফিকেশন, মেসেজ, ফটো, ফোনের স্ক্রিন, কল, ইত্যাদি কম্পিউটার স্ক্রিনে দেখতে পাবেন।

মাইক্রোসফট ইয়োর ফোন অ্যাপ

এমুলেটর ব্যবহার করা

আপনি যদি শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ বা গেম কম্পিউটারে ব্যবহার করতে চান, সেক্ষেত্রে ব্লুস্ট্যাক এর মতো একটি অ্যান্ড্রয়েড এমুলেটর ব্যবহার করতে পারেন। এমুলেটর হচ্ছে সফটওয়্যার যা ভার্চুয়ালি বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম চালাতে পারে। কম্পিউটারে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ব্যবহার বা অ্যান্ড্রয়েড গেম খেলার জন্য ব্লুস্ট্যাক বেশ পরিচিত একটি এমুলেটর।

কম্পিউটারে ব্লুস্ট্যাক অন্য দশটি অ্যাপের মতোই কাজ করে। এই সফটওয়্যারের লেটেস্ট ভার্সন BlueStacks 5 কম্পিউটারে ৫জিবি স্টোরেজ দখল করে। আর ব্লুস্ট্যাক অ্যাপের মধ্যে ইন্সটল করা অ্যাপসমূহের স্টোরেজও পিসি থেকে ব্যবহৃত হয়। কম্পিউটারের মধ্যে একটি আলাদা ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা প্রদান করে এই অ্যাপ।

ব্লুস্ট্যাক অ্যাপ সম্পূর্ণভাবে ইন্সটল করার পর একটি কাস্টম হোম স্ক্রিন দেখতে পাবেন। গুগল একাউন্টে লগিন করে সাধারণভাবে যেকোনো অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ বা গেম ডাউনলোড করা যাবে। কোনো অ্যাপ বা গেম ডাউনলোডের পর ব্লুস্ট্যাক হোমস্ক্রিনে উক্ত অ্যাপের আইকন দেখতে পাবেন। এছাড়াও কম্পিউটারের ডেস্কটপ স্ক্রিনেও অ্যাপের শর্টকাট দেখতে পাবেন।

🔥🔥 গুগল নিউজে বাংলাটেক সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন 🔥🔥

যেসব অ্যাপের ডেস্কটপ ভার্সন নেই, সেসব অ্যাপ ব্যবহারে ব্লুস্ট্যাক বেশ কাজে আসে। তবে গেমিং এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কাজে আসে এই অ্যান্ড্রয়েড এমুলেটর। এটিতে থাকা মাউস ও কিবোর্ড এর জন্য বিল্ট-ইন ম্যাপিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েড গেমসমূহ খেলা বেশ সহজ করে দেয়।

এছাড়া গেমের রেজ্যুলেশন, ডিপিআই, এফপিএস, এমনকি এমুলেটরের জন্য বরাদ্দকৃত সিপিইউ ও র‍্যাম এর পরিমাণ আলাভাবে সেট করা যায়। কম্পিউটারে অ্যান্ড্রয়েড গেম খেলতে চাইলে ব্লুস্ট্যাক এর চেয়ে সেরা কোনো অপশন নেই। এছাড়াও ব্রাউজারে ক্লাউড গেমিং করার ফিচার নিয়ে কাজ করছে ব্লুস্ট্যাক। 👉 ব্লুস্ট্যাক ডাউনলোড করুন

অ্যামাজন অ্যাপস্টোর ব্যবহার

উইন্ডোজ ১১ তে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপসমূহের জন্য বিল্ট-ইন সাপোর্ট যুক্ত করেছে মাইক্রোসফট। এই ফিচারটি উইন্ডোজ সাবসিস্টেম ফর উইন্ডোজ ও অ্যামাজন অ্যাপস্টোর ব্যবহার করে চলবে। চলুন সংক্ষেপে জেনে নেওয়া যাক কিভাবে অ্যামাজন অ্যাপস্টোর এর মাধ্যেম অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ উইন্ডোজে ব্যবহার করা যাবে।

ধাপ ১ – উইন্ডোজ সাবসিস্টেম ফর এন্ড্রয়েড ইন্সটল

উইন্ডোজ সাবসিস্টেম ফর এন্ড্রয়েড এর সাহায্যে অ্যামাজন অ্যাপস্টোর থেকে অ্যাপ ইন্সটল করে কম্পিউটারে ব্যবহার করতে প্রথমে উইন্ডোজ ১১ তে আপডেট করতে হবে। এরপর মাইক্রোসফট স্টোরে প্রবেশ করে “Amazon Appstore” লিখে সার্চ করুন ও অ্যামাজন অ্যাপস্টোর খুঁজে নিন, ইন্সটল করুন ও তারপর Set Up এ ক্লিক করুন।

এরপর Windows Subsystem for Android ডাউনলোড করতে বলা হবে। Download এ ক্লিক করুন ও ইন্সটল সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষা করুন। ডাউনলোড শেষে Restart এ ক্লিক করে কম্পিউটার রিস্টার্ট করুন। রিস্টার্ট শেষে কম্পিউটারে অ্যামাজন অ্যাপস্টোর দেখতে পাবেন।

ধাপ ২ – অ্যামাজন অ্যাপস্টোর ইন্সটল

উইন্ডোজ ১১ এর অ্যাপ লিস্ট থেকে অ্যামাজন অ্যাপস্টোরে প্রবেশ করুন। এরপর অ্যাপ একসেস করতে হলে অ্যামাজন একাউন্টের প্রয়োজন হবে, অ্যামাজন অ্যাকাউন্টে লগিন করুন। একাউন্ট না থাকলে একটি নতুন একাউন্ট তৈরী করে নিন। অ্যামাজন একাউন্টে লগিনের পর অ্যামাজন অ্যাপস্টোর থেকে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ইন্সটল করতে পারবেন।

উইন্ডোজ অ্যামাজন অ্যাপস্টোর

ধাপ ৩ – অ্যাপ ইন্সটল

একবার অ্যামাজন অ্যাপস্টোর ডাউনলোড করে সেটাপ করা হয়ে গেলে খুব সহজে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ইন্সটল ও ব্যবহার করা যাবে। অ্যামাজন অ্যাপস্টোরে প্রবেশ করে কাংখিত অ্যাপের নাম লিখে সার্চ করলে উক্ত অ্যাপ খুঁজে নিয়ে ইন্সটল করা যাবে।

ইন্সটলের পর যেকোনো অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ সরাসরি উইন্ডোজ ১১ এর অ্যাপ লিস্টে দেখতে পাবেন। যেকোনো অ্যাপে প্রবেশের পর উক্ত অ্যাপের উইন্ডো সাধারণ উইন্ডোজ অ্যাপের মত মিনিমাইজ বা ফুলস্ক্রিনে নেওয়া যাবে। এছাড়া যেকোনো অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপকে গ্রিডে স্ন্যাপ করে মাল্টিটাস্ক করা যাবে।

👉 ফোনের ফ্লাইট মোড বা এয়ারপ্লেন মোড কি? এর উপকারিতা কি?

অ্যান্ড্রয়েড-এক্স৮৬ ব্যবহার করা

আপনি যদি কম্পিউটারে ফুল-ফিচারড অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহার করতে চান, সেক্ষেত্রে অ্যান্ড্রয়েড-এক্স৮৬ প্রজেক্ট ব্যবহার করে কম্পিউটারেই সরাসরি অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে। Android-x86 হলো একটি ওপেন-সোর্স প্রজেক্ট, যা অ্যান্ড্রয়েডকে এক্স৮৬ প্ল্যাটফর্মসমূহে ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়।

অ্যান্ড্রয়েড-এক্স৮৬ ব্যবহারের একাধিক উপায় রয়েছে। প্রথমত সরাসরি অ্যান্ড্রয়েডকে ডেস্কটপের জন্য অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। সেই ক্ষেত্রে প্রথমে অ্যান্ড্রয়েড এক্স-৮৬ এর আইএসও ডিস্ক ইমেজ ডাউনলোড করে সেটি কোনো ইউএসবি ড্রাইভে বুটেবল করতে হবে। এরপর উক্ত ইউএসবি কম্পিউটারে প্রবেশ করিয়ে বুট মেন্যু থেকে ইউএসবি ড্রাইভ থেকে বুট এর অপশন সিলেক্ট করুন।

অ্যান্ড্রয়েড-এক্স৮৬ ইউএসবি ড্রাইভ থেকে বুট করলে অ্যান্ড্রয়েড লাইভ এনভায়রনমেন্টে চালানো যাব, কম্পিউটারে কোনো ইফেক্ট না ফেলে। এছাড়াও পারমানেন্ট ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ভালো পারফর্মেন্সের জন্য সরাসরি কম্পিউটারের স্টোরেজে ইন্সটল করতে পারেন অ্যান্ড্রয়েড এক্স-৮৬। 

ইতোমধ্যে ইন্সটল থাকা অপারেটিং সিস্টেমের পাশাপাশি অ্যান্ড্রয়েড-এক্স৮৬ ব্যবহার করতে চাইলে ডিস্ক ইমেজ ডাউনলোড করে VirtualBox ব্যবহার করে চালানো যাবে। তবে আপনি যদি VirtualBox এর সাথে পরিচিত না হয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে এই উপায় অনুসরণ না করাই শ্রেয়। 👉 অ্যান্ড্রয়েড-এক্স৮৬ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 6,274 other subscribers

[★★] প্ৰযুক্তি নিয়ে লেখালেখি করতে চান? এক্ষুণি একটি টেকবাজ একাউন্ট খুলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে পোস্ট করুন! techbaaj.com ভিজিট করে নতুন একাউন্ট তৈরি করুন। হয়ে উঠুন একজন দুর্দান্ত টেকবাজ!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.