এমএসইঃ উইন্ডোজের জন্য মাইক্রোসফটের ফ্রি এবং নির্ভরযোগ্য এন্টিভাইরাস

windows deenderইন্টারনেটে প্রতিনিয়তই নতুন নতুন ভাইরাস/ ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে পড়ছে। এগুলো থেকে নিরাপদ থাকতে অনেকেই অনেক ব্র্যান্ডের এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু এদের ফ্রি এবং প্রিমিয়াম উভয় ভার্সন থাকার ফলে কেউ কেউ ফ্রি এন্টিভাইরাস ইনস্টল করেন যার কিছু কিছু ফিচার বন্ধ থাকে। এক্ষেত্রে মাইক্রোসফটের পুরস্কার বিজয়ী ফ্রি এন্টিভাইরাস প্রোগ্রাম এমএসই (মাইক্রোসফট সিক্যুরিটি এসেনসিয়ালস) হতে পারে আপনার কম্পিউটারের এন্টি-ম্যালওয়্যার সফটওয়্যার।

এটি হালকা এবং দ্রুত। অন্যান্য এন্টিভাইরাস যেমন এভিরা, এভিজির তুলনায় আমার কাছে মাইক্রোসফট সিক্যুরিটি এসেনসিয়ালস বেশ সুবিধাজনক মনে হয়েছে। এমনকি ইনটেল এটম প্রসেসরযুক্ত ছোট্ট নেটবুকেও সফটওয়্যারটি স্বচ্ছন্দে চলতে দেখেছি। আর ডেস্কটপ/ ল্যাপটপেও এমএসই চালিয়েছি। নিয়মিত ইন্টারনেট এবং ইউএসবি ড্রাইভ ব্যবহার করার পরও এখন পর্যন্ত কোন ডিভাইসেই ভাইরাস আক্রমণ হয়নি।

কীভাবে পাবেন মাইক্রোসফট সিক্যুরিটি এসেনসিয়ালস?

আপনি যদি উইন্ডোজ ৮ বা আরটি সার্ফেস ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে এর মধ্যে বিল্ট-ইন যে উইন্ডোজ ডিফেন্ডার দেয়া আছে সেটিই একাধারে ভাইরাস এবং স্পাইওয়্যার প্রোটেকশনের কাজ করবে। অর্থাৎ আলাদাভাবে আর এমএসই দেয়ার দরকার হবেনা। এক্ষেত্রে উইন্ডোজ ডিফেন্ডার নিয়মিত আপডেট করে রিয়েল টাইম স্ক্যানিং চালু রাখলেই অনেকটা নিশ্চিন্ত থাকা যাবে। অন্তত আমার উইন্ডোজ ৮ পিসি এভাবে ভালই চলছে।

আর আপনার কম্পিউটারে যদি উইন্ডোজ সেভেন, ভিসতা বা এক্সপি ইনস্টল করা থাকে, সেক্ষেত্রে আলাদাভাবে এমএসই (মাইক্রোসফট সিক্যুরিটি এসেনসিয়ালস) ইনস্টল করে নিতে হবে। এজন্য কম্পিউটার কত বিট (৩২ নাকি ৬৪) সে অনুযায়ী এই অফিসিয়াল লিংক থেকে এমএসই সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে নিন। এমএসই ইনস্টল ফাইলটি ১০-১২ মেগাবাইটের মত হতে পারে।

এত ছোট একটি প্রোগ্রাম দেখে অবাক হওয়ার কিছুই নেই। কেননা, এটি হচ্ছে শুধুমাত্র সফটওয়্যারটির ফ্রেমওয়ার্ক। এর মধ্যে ভাইরাস ডেফিনিশন (সোজা কথায় আপডেট ফাইল) সিগনেচার নেই। যাইহোক, ডাউনলোড হয়ে গেলে সেই ১০-১২ মেগাবাইট এমএসই সফটওয়্যারটি কম্পিউটারে ইনস্টল করুন।

এবার ইন্টারনেটে সংযুক্ত থাকা অবস্থায় এন্টিভাইরাসটি ওপেন করে “আপডেট” ট্যাবে ক্লিক করে আপডেট নিন। এতে ৭৫+ মেগাবাইট ডেটা খরচ হবে।

এছাড়া আপনি চাইলে এমএসই  অথবা উইন্ডোজ ডিফেন্ডারের জন্য ভাইরাস ডেফিনিশন আপডেট ফাইলটি আলাদাভাবেও ডাউনলোড করে নিতে পারেন। ফাইল ডাউনলোড হয়ে গেলে তাতে ডাবল ক্লিক করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন, একটু পরেই আপনার এমএসই বা ডিফেন্ডারে সবুজ সংকেত দেখতে পাবেন। এরপর চাইলে স্ক্যান সেরে নিন।

সতর্কতাঃ মাইক্রোসফট সিক্যুরিটি এসেনসিয়ালস ইনস্টল এবং প্রথমবার আপডেট হওয়ার পর প্রোগ্রামটি উইন্ডোজের অটোম্যাটিক আপডেট অন করে দেয়। আপনি যদি মূল উইন্ডোজের অটোম্যাটিক আপডেট বন্ধ রাখতে চান, তাহলে সফটওয়্যারটি ইনস্টল এবং প্রথমবার আপডেট করার সাথে সাথেই কনট্রোল প্যানেলে গিয়ে অটোম্যাটিক আপডেট অফ করে রাখুন। আর হ্যাঁ, উইন্ডোজ অটো আপডেট কখন/কেন বন্ধ রাখা হয় সেটা নিশ্চয়ই জানেন। আরও জিজ্ঞাসা থাকলে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন। ধন্যবাদ।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 5,568 other subscribers

[★★] প্ৰযুক্তি নিয়ে লেখালেখি করতে চান? এক্ষুণি একটি টেকবাজ একাউন্ট খুলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে পোস্ট করুন! techbaaj.com ভিজিট করে নতুন একাউন্ট তৈরি করুন। হয়ে উঠুন একজন দুর্দান্ত টেকবাজ!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.