ল্যাপটপের ব্যাটারি ব্যাকআপ বেশি পাওয়ার সহজ উপায়

By -

স্মার্টফোনের এই যুগে আমরা মোবাইল নিয়ে যতই মাতামাতি করি না কেন, কাজের সময় ঠিকই কম্পিউটারের কাছে ফিরে যাই। সহজে বহনযোগ্য বলে কম্পিউটার কেনার ক্ষেত্রে ল্যাপটপ বা নোটবুককেই অনেকে বেশি পছন্দ করেন। ল্যাপটপের বাড়তি সুবিধা হচ্ছে, এগুলো সাথে থাকা ব্যাটারিতে দিব্যি ঘন্টার পর ঘন্টা চলতে পারে। তার ওপর লোডশেডিং হলে তো কথাই নেই! কম্পিউটারে জরুরি কাজ কখনোই থামবেনা। কিন্তু আপনার ল্যাপটপের ব্যাটারি ব্যাকআপ যদি কম থাকে, তাহলে আপনি এই সুবিধাগুলো উপভোগ করতে পারবেন না। এই পোস্টে আমরা জানব কীভাবে ল্যাপটপের ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়িয়ে নেয়া যায়। খুবই সহজ নিয়ম। চলুন শুরু করি।

স্ক্রিন ব্রাইটনেস কমিয়ে নিন

আপনি বিশ্বাস করেন বা না করেন, ল্যাপটপ ও ব্যাটারি চালিত অন্যান্য ডিভাইস যেমন মোবাইল, ট্যাবলেট প্রভৃতির ব্যাটারি চার্জের একটা বড় অংশ তাদের স্ক্রিনে ব্যবহৃত হয়। ল্যাপটপের স্ক্রিন বা মনিটরের উজ্জ্বলতা কমিয়ে রেখে আপনি এর বিদ্যুৎ খরচ কমাতে পারেন। ফলশ্রুতিতে ব্যাটারিতে চলার সময় স্ক্রিনের আলো কম থাকায় চার্জ কম খরচ হবে। স্ক্রিনের ব্রাইটনেস ৫০% এ রাখলে তা ব্যাটারি ব্যাকআপ নিশ্চিত বাড়িয়ে দেবে। আর ব্রাইটনেস ২৫% এ নামিয়ে আনলে তো কথাই নেই!

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 2,407 other subscribers

অব্যবহৃত ফিচার বন্ধ করুন

ল্যাপটপের ওয়াইফাই, ব্লুটুথ, এবং গ্রাফিক্স কার্ড যখন আপনার দরকার হয়না তখন এগুলো বন্ধ করে রাখুন। বিভিন্ন ল্যাপটপে ওয়াইফাই এবং ব্লুটুথ বন্ধ করার আলাদা বাটন/শর্টকাট থাকে। এছাড়া উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ল্যাপটপে যখন আপনার ডেডিকেটেড গ্রাফিক্স কার্ড দরকার হয়না, তখন সাময়িকভাবে জিপিইউ ডিজ্যাবল করে রাখা যায়। এমতাবস্থায় সাধারণ কাজ যেমন এমএস ওয়ার্ডে লেখা, ইন্টারনেট ব্রাউজিং প্রভৃতি কোনো প্রকার সমস্যা ছাড়াই চালিয়ে নেয়া যায়। কারণ তখন পিসি তার প্রসেসরের বিল্ট-ইন গ্রাফিক্স চিপ ব্যবহার করে।

অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ রাখুন

আগেকার দিনে যখন পিসিতে ২জিবি র‍্যাম থাকত, তখন খুব বেশি সফটওয়্যার একত্রে চালানো যেতনা- কারণ তাতে কম্পিউটার স্লো হয়ে যেত। কিন্তু এখন ৪জিবি বা তারও বেশি র‍্যাম সচরাচর হয়ে যাওয়ায় আমরা কাজে না লাগলেও বিভিন্ন অ্যাপ চালু করে রাখি। বিভিন্ন ব্রাউজার উইন্ডো, লেখার সফটওয়্যার, স্ক্রিনশট নেয়ার অ্যাপ, মিডিয়া প্লেয়ার, ফটোশপ প্রভৃতি অ্যাপ্লিকেশন প্রায়ই মিনিমাইজ করা থাকে যা চুপচাপ র‍্যাম তো দখল করেই, ব্যাটারিও খরচ করে। সুতরাং যখন আপনার ব্যাটারির চার্জ বাঁচাতে হবে, তখন অপ্রয়োজনে কোনো অ্যাপ চালু রাখবেন না।

পাওয়ার সেভিং মুড চালু করুন

যখন আপনার ল্যাপটপের চার্জ সর্বোচ্চ সময় ধরে রাখার দরকার পড়বে, তখন সোজা এর পাওয়ার সেভিং মুড চালু করে নিন। আপনি যে কোম্পানির/অপারেটিং সিস্টেমের ল্যাপটপ চালান না কেন, এতে পাওয়ার সেভিং/ম্যানেজমেন্ট অপশন অবশ্যই আছে। আপনার কাজ হবে শুধু সঠিক পদ্ধতিটি জেনে নেয়া। ব্যাস, ল্যাপটপের ক্ষমতা অনুযায়ী সর্বোচ্চ সময় ব্যাটারি ব্যাকআপ পাবেন।

এসএসডি স্টোরেজ ব্যবহার করুন

সাধারণ হার্ড ডিস্কের চেয়ে এসএসডি স্টোরেজ দ্রুত কাজ করে এবং কম বিদ্যুৎ খরচ করে। সুতরাং ল্যাপটপের হার্ডডিস্ক বদলে এসএসডি লাগিয়ে নিলেও এর পারফরমেন্স ও ব্যাটারি ব্যাকআপ বৃদ্ধি করতে পারেন।

বেশি ব্যাটারি ব্যাকআপ দিতে সক্ষম এমন ল্যাপটপ কিনুন

আপনি যতই টিপস/ট্রিকস অনুসরণ করুন না কেন, আপনার ল্যাপটপের ব্যাটারিতে যদি ধারণক্ষমতা কম থাকে, তাহলে এর কাছ থেকে দীর্ঘক্ষণ ব্যাকআপ আশা করে কোনো লাভ নেই। সুতরাং আপনার যদি বেশিক্ষণ ব্যাটারি ব্যাকআপ দরকার হয়, তাহলে এমন ল্যাপটপ কিনুন, যাতে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ব্যাটারি দেয়া আছে। এমন একটি ল্যাপটপ হতে পারে ASUS ZenBook UX430UA অথবা আসুস জেনবুক ফ্লিপ এস ল্যাপটপ, যাতে ৯ থেকে ১১ ঘন্টা ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যাবে। এগুলো বাংলাদেশেই কিনতে পাবেন।

আশা করি এই টিপসগুলো আপনার কাজে লাগবে। বাংলাটেক টোয়েন্টিফোর ডটকম থেকে প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইল ইনবক্সে পেতে এখানে সাবস্ক্রাইব করে নিন। ধন্যবাদ।

     
প্রযুক্তির সব তথ্য জানতে ভিজিট করুন www.banglatech24.com সাইট। নতুন পোস্টের নোটিফিকেশন ইমেইলে পেতে এই লিংকে গিয়ে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Comments