সায়েন্স ফিকশনের উড়ন্ত মোটরসাইকেল এখন বাস্তবে!

সায়েন্স ফিকশনের ভক্ত হয়ে থাকলে নিশ্চয়ই অনেকবার দেখেছেন বা কল্পনা করেছেন উড়ন্ত মোটরসাইকেলের কথা। সেই কল্পনাকেই এবার বাস্তবে রূপ দিতে যাচ্ছে মেইম্যান এরোস্পেস নামের একটি প্রতিষ্ঠান। পি২ স্পিডার নামের একটি উড়ন্ত মোটরসাইকেল তৈরি করছে তারা। সব কল্পনাকে হার মানিয়ে বাস্তবে এই মোটরসাইকেলের দেখা পেতে যদিও এখনও অপেক্ষা করতে হবে কিছুটা সময়।

মেইম্যান এরোস্পেস এই মোটরসাইকেলের ডিজাইনকে এখনও প্রটোটাইপ পর্যায়ে রেখেছে কেননা এখনও আরও কিছু পরীক্ষার দরকার আছে। এই মোটরসাইকেল তৈরি করা হচ্ছে ব্যবসায়িক ও সামরিক ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য। অর্থাৎ এটি সাধারণ মানুষের যাতায়াত হিসেবে দেখা যাবে না। তবে এটি হতে পারে সেদিকে যাত্রা করবার প্রথম পদক্ষেপ। মেইম্যান এরোস্পেস এই পি২ স্পিডারকে মূলত বিভিন্ন সামরিক অভিযানে হেলিকপ্টারের বদলে ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করছে। এটি হবে খুবই দ্রুত গতির এবং তারা আশা করছে হেলিকপ্টার থেকে নিরাপদে সামরিক অপারেশনগুলোতে ব্যবহার করা যাবে তাদের এই নতুন মোটরসাইকেল। যদিও তাদের পুরো ডিজাইন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে আপাতত।

এই মোটরসাইকেলটি একা একাই ওড়ার মতো সক্ষমতা নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। মোটরসাইকেলটি দূর থেকে বা পাইলটের দ্বারা দুইভাবেই যেন নিয়ন্ত্রন করা যায় সেদিকেও খেয়াল রাখছে মেইম্যান এরোস্পেস। মুলত কঠিন সামরিক অভিযানগুলোতে যাতে পাইলটের মাধ্যমে সহজেই এটি নিয়ন্ত্রন করা যায় সেদিকে দৃষ্টি দিচ্ছে তারা। তবে বাণিজ্যিক কাজে পাইলট ছাড়াই নিয়ন্ত্রন করা যাবে মোটরসাইকেলটি।

এটি ডিজাইনের ক্ষেত্রে ৮ টি শক্তিশালী জেট ইঞ্জিন ব্যবহার করা হচ্ছে। মেইম্যান এরোস্পেস বলছে এটি ২০,০০০ ফিট উচ্চতায় উড়তে সক্ষম হবে। এই মোটরসাইকেলটি লম্বায় ৬ ফিটেরও বেশি এবং উচ্চতায় ৩ ফিটের মতো। এতে সাধারণ প্লেনের মতো কোন ল্যান্ডিং গিয়ার থাকবে না। মোটরসাইকেলের দুই পাশে থাকবে ডানা যা ১৬ ফিট পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকবে এবং চাইলেই খুলে ফেলা যাবে। এই ডানার কারণেই খুব দ্রুত মোটরসাইকেলটি উপরে উঠতে পারবে।

রেসিং মোটরসাইকেলের মতোই এতে মানুষ সামনের দিকে ঝুঁকে উঠতে পারবে এবং নিয়ন্ত্রন করতে পারবে। পায়ের অবস্থানও থাকবে স্বাভাবিক রেসিং মোটরসাইকেলের মতোই। মেইম্যান এরোস্পেসের সিইও ডেভিড মেইম্যান জানিয়েছেন মোটরসাইকেলে বসার অবস্থানে দুটি হ্যান্ডেল থাকবে যার একটির মাধ্যমে উপরে ওঠা বা নিচে নামাকে নিয়ন্ত্রন করা যাবে সহজেই। আরেকটি হ্যান্ডেল ব্যবহার করে আপনি কতো জোরে এবং কতো উঁচুতে উঠবেন সেটি নিয়ন্ত্রন করা যাবে।

সায়েন্স ফিকশনের উড়ন্ত মোটরসাইকেল এখন বাস্তবে!

🔥🔥 গুগল নিউজে বাংলাটেক সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন 🔥🔥

মোটরসাইকেলটি চালু করার পর বাতাসে ৬ ফিট উচ্চতায় ভাসতে থাকবে এবং এরপর নিজের ইচ্ছামতো এটির দিক ও গতি নিয়ন্ত্রন করে চালানো সম্ভব হবে। এই মোটরসাইকেল সামনে যাবার আগেই সামনের পথ ঠিক করে নিতে পারে এবং সামনে গাছ বা বিল্ডিংয়ের মতো বাঁধা থাকলে তা একাই বুঝে নিতে পারবে বিভিন্ন অত্যাধুনিক সেন্সর ব্যবহারের মাধ্যমে। সিইও-এর মতে এতে থাকবে অত্যন্ত বুদ্ধিমান এআই সিস্টেম যা সহজেই বিভিন্ন দুর্ঘটনা হতে রক্ষা করতে পারবে।

এই মোটরসাইকেলটি ১০০০ পাউন্ড পর্যন্ত ভর বহন করতে পারবে। তাছাড়াও ২০০ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিতে এটি ভ্রমণ করতে সক্ষম। তবে একে একা একাই দূর থেকে নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে উড়তে দিলে ৫০০ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতি তুলতেও সক্ষম হবে। এই মোডটিকে কার্গো মোড বা পণ্য বহনের জন্য ব্যবহার করা যাবে।

মেইম্যান এরোস্পেস বলছে যে তারা বর্তমানে এই উড়ন্ত মোটরসাইকেল সরবরাহ করতে বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়, পণ্য বহনকারী প্রতিষ্ঠান, দমকল কর্মী, দুর্যোগ কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। এই মোটরসাইকেল মূলত বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ব্যবহার করতে পারবে তারা। ফলে ত্রান পৌঁছানো, খাবার পৌঁছানো, জরুরী ঔষধ সরবরাহ, আগুন নিভানোর মতো কাজগুলো নিরাপদে ও দ্রুত করা সম্ভব হবে।

👉 মহাশূন্য থেকে পৃথিবীতে লাফ দিয়েছিলেন যিনি – ফেলিক্স বমগার্টনার

এই মোটরসাইকেলটি বর্তমানে মেইম্যান এরোস্পেস তাদের নিজস্ব পরীক্ষাকেন্দ্রতে পরীক্ষা করছে যেটি ভেঞ্চুরা, ক্যালিফোর্নিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত। এখনও পর্যন্ত তাদের তৈরি প্রোটোটাইপটি একটি তারের মাধ্যমে সংযুক্ত রেখে পরীক্ষা চালাতে হচ্ছে। তবে এফএএ এর অনুমোদন পেলেই পুরোদমে এর পরীক্ষা শুরু করতে পারবে তারা। এখনও পর্যন্ত তাদের প্রোটোটাইপটি একা একাই উড়তে ও নিচে নামতে সক্ষম হয়েছে কোন সমস্যা ছাড়াই। এছাড়াও তারা এটিকে ভাসিয়ে রেখে চালাতেও সক্ষম হয়েছে কোন মানুষ ছাড়াই। তাই এখন মানুষের মাধ্যমে এটি পরীক্ষা করতে চাচ্ছে মেইম্যান এরোস্পেস।

মেইম্যান এরোস্পেস বলছে তারা ২০২৪ সালের মধ্যে এই মোটরসাইকেলটি নিয়ে আসতে চায় সামরিক ব্যবহারের উদ্দেশ্যে। তবে এখনও অনেক রকম পরীক্ষা ও সমস্যার সমাধান করা বাকি রয়েছে বলেও তারা জানিয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের ব্যবহারযোগ্য করে এই মোটরসাইকেল বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা আপাতত নেই বলেই জানিয়েছে মেইম্যান এরোস্পেস।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 7,830 other subscribers

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.