বিকাশ একাউন্টের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য করণীয়

বিকাশ একটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস। দেশব্যাপী অসংখ্য বিকাশ ব্যবহারকারী থাকায় প্রতারকদের কাছে মানুষের সাথে প্রতারণার একটি প্রধান মাধ্যমে পরিণত হয়েছে বিকাশ। চোখকান খোলা না রাখলে যেকোনো সময় প্রতারিত হতে পারেন যেকেউ।

বিকাশ একাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রথম জেনে নেওয়া যাক কিভাবে বিকাশে প্রতারণা করা হয়। এরপর জানবেন বিকাশ একাউন্টের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য করণীয়।

কিভাবে বিকাশ দ্বারা টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক

প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে প্রতারকদের প্রতারণার পদ্ধতি ও ধরন বদলাচ্ছে প্রতিনিয়ত। বর্তমানে বিকাশ এর মতো বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সচেতনতা ছড়ানোর ফলে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করা বেশ দুঃসাধ্য ব্যপার। তবে এরই সাথে সাথে মানুষকে ঠকানোর বিভিন্ন অভিনব পদ্ধতি বের করেছে প্রতারকরা।

একজন গ্রাহক তার বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে একাধিক উপায়ে প্রতারিত হতে পারেন। প্রথমত কথা বলা যাক সবচেয়ে সহজ প্রতারণার ব্যাপারে। ফোন করে কোনো এক ব্যক্তি তাকে বিকাশের কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেয় ও অ্যাকাউন্টের কিছু সমস্যার সমাধান করতে পিন জানতে চায়। মূলত এসব ক্ষেত্রে পিন নম্বর জেনে নিয়ে করে টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক।

এছাড়া প্রতারকরা বিকাশ OTP জেনে নিয়েও বিকাশ একাউন্ট থেকে টাকা সরাতে পারে। তারা আপনার একাউন্টে লগইন বা একাউন্ট এর পিন রিসেট করার চেষ্টা করার পর যখন OTP দরকার হয় তখন আপনাকে কল করে সেটা জানতে চাইবে। এক্ষেত্রে তাদের বিভিন্ন কৌশল রয়েছে। আপনি যদি ফোনে মেসেজের মাধ্যমে আসা সেই OTP কাউকে বলে দেন তাহলে আপনার বিকাশ একাউন্ট হ্যাক হ্যাক হয়ে যেতে পারে।

এরপর ফেসবুক থেকে শুরু করে বিকাশ পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই ভূয়া লটারির আশ্বাস রয়েছে। ফোন করে বলা হয় যে আপনি লটারি জিতেছেন বিশাল অংকের ও এই টাকা তুলতে ব্যাংক আপনার কাছ থেকে নির্দিষ্ট এমাউন্টের ভ্যাট কাটবে যা টাকা হাতে আসার আগে দিয়ে দিতে হবে। এভাবে লটারি দেওয়ার নাম করে ভ্যাট এর টাকা বলে বিকাশে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা খুবই সাধারণ।

এরপর আসে সবচেয়ে অভিনব প্রতারণার মাধ্যম। এই মাধ্যমের প্রতারণার প্রধান লক্ষ্য বিকাশ না হলেও মূলত বিকাশসহ প্রায় যেকোনো মোবাইল ব্যাংকিং এর ক্ষেত্রে এই সমস্যাটি ঘটতে পারে। ফেসবুক আইডি হ্যাক করে বন্ধুদের কাছ থেকে বিপদের নাম করে জরুরি কারণে টাকা চাওয়া হয়। এই প্রতারণার পদ্ধতিটি বর্তমানে হরহামেশা ব্যবহার করছে প্রতারকরা।

🔥🔥 গুগল নিউজে বাংলাটেক সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন 🔥🔥

বিকাশ একাউন্টের নিরাপত্তা রক্ষায় করণীয়

যা করা উচিত

বিকাশ অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা একান্ত জরুরি। এতে করে বিকাশ একাউন্টের নিরাপত্তা রক্ষা সম্ভব হয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক, বিকাশ একাউন্টের নিরাপত্তা রক্ষায় যেসব নিয়ম অনুসরণ করবেন।

👉 বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম (বোনাস সহ!)

নির্ভুল রেজিস্ট্রেশন ফরম

আমরা কমবেশি সবাই তাড়াহুড়ো করে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলতে গিয়ে একাউন্ট খোলার সময় প্রদত্ত তথ্য ঠিক না ভুল তা বিবেচনা করতে ভুলে যাই। কিন্তু বিকাশ একাউন্টের মালিকানা নিশ্চিত করতে অবশ্যই এসব তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করা প্রয়োজন। পিন ভুলে গেলে, সিম হারিয়ে গেলে কিংবা বিকাশ সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য সংশোধনে বিকাশে প্রদত্ত তথ্য একমাত্র ভরসা। তাই নতুন বিকাশ একাউন্ট রেজিষ্ট্রেশনের সময় রেজিস্ট্রেশন ফরমে সকল তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করুন।

পিন গোপন রাখুন

আপনার বিকাশ পিন কোড সবসময় গোপন রাখুন। কারো সাথে বিকাশ পিন কোড শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। বিকাশ পিন নাম্বার কারো সাথে শেয়ার করলে সে আপনার মোবাইল হাতে পেলে আপনার অর্থ আত্মসাৎ করতে পারে। তাই বিকাশ পিন কারো সাথে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।

নিজস্ব একাউন্ট ব্যবহার করুন

আপনার লেনদেন এর উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে নিজের বিকাশ একাউন্ট ব্যবহার করুন। অন্যজনের বিকাশ একাউন্ট থেকে লেনদেনের চেয়ে নিজের নামে বিকাশ একাউন্ট খুলে তার মাধ্যমে লেনদেন অধিক নিরাপদ।

👉 বিকাশ ক্যাশ আউট ও সেন্ড মানি খরচ

প্রতিটি লেনদেন ভেরিফাই করুন

প্রতিটি লেনদেন এর ক্ষেত্রে সঠিক ব্যক্তি ও সঠিক এমাউন্ট ঠিকমত যাচ্ছে কিনা, তা ভেরিফাই করা একান্ত জরুরি।  সবসময় আপনার বিকাশ একাউন্ট থেকে লেনদেন এর সময় পাঠানো টাকার এমাউন্ট, পিন কোড, সিকিউরিটি কোড বা অন্য যেকোনো তথ্য প্রদানের আগে তা ঠিক কিনা সেটি ভেরিফাই করুন। প্রতিটি লেনদেন এর পর বিকাশ থেকে পাওয়া এসএমএস যাচাই করে নিশ্চিত করুন সকল তথ্য ঠিকমত মিলছে কিনা। এছাড়াও লেনদেনের পূর্বে ও পরে বিকাশ একাউন্টের ব্যালেন্স যাচাই করুন।

এজেন্ট থেকে ক্যাশ আউট করুন

ক্যাশ আউট এর সময় শুধু বিকাশ এজেন্ট থেকে “Cash out from Agent” অপশন ব্যবহার করুন। অনেক ধূর্ত বিকাশ এজেন্ট সেন্ড মানি করে ক্যাশ আউট অর্থ নিয়ে নেয়। এই কাজ করা ঠিক নয়। তাই যথাযথ উপায়ে এজেন্টে থেকে ক্যাশ আউট করুন।

বিকাশ

বাটন ফোনে ইনবক্স খালি রাখুন

বেশিরভাগ সময়ে আমাদের বাটন মোবাইলের এসএমএস এর ইনবক্স ফুল থাকে। এই বিষয়ে তেমন একটা গুরুত্ব প্রদান না করলেও বিকাশ যেহেতু মোবাইল ব্যাংকিং সেবা, তাই এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সবসময় আপনার মোবাইলে যাতে বিকাশ থেকে প্রয়োজনীয় এসএমএস আসতে পারে, ত নিশ্চিতে ফোনের এসএমএস ইনবক্স খালি রাখুন।

প্রয়োজনে সাহায্যের আবেদন করুন

বিকাশ সম্পর্কিত যেকোনো সমস্যা বা জিজ্ঞাসা থাকলে খুব সহজে বিকাশ হেল্পলাইন, ১৬২৪৭ এ কল করতে পারেন। এছাড়াও বিকাশ হেল্পলাইনে যোগাযোগ করার আরো অনেক পদ্ধতি রয়েছে। প্রয়োজনে সেগুলোর সুষ্ঠু ব্যবহার করুন।

👉 বিকাশ হেল্প লাইন নাম্বার এবং বিকাশ কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগের পদ্ধতি

যার করা উচিত নয়

বিকাশ একাউন্ট ব্যবহারের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিতে কিছু বিষয় মোটেই করা উচিত নয়। চলুন জানি বিকাশ একাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে যেসব বিষয় করা উচিত নয়, সেগুলো সম্পর্কে।

কোড শেয়ার করা

আপনার বিকাশ একাউন্টের মূল নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এর পিন কোড। তাই কখনো আপনার বিকাশ পিন, সিক্রেট কোড, সিকিউরিটি কোড, ইত্যাদি কারো সাথে শেয়ার করবেন না। মনে রাখবেন, বিকাশ কখনো আপনার পিন, সিক্রেট কোড, সিকিউরিটি কোড, ইত্যাদি জানতে চাইবে না।

লোভে পড়া

বিকাশে লটারি, পুরষ্কার বা প্রতিযোগিতার নাম করে কেউ যোগাযোগ করলে ধরে নিবেন এটি প্রতারণা। কেউ যদি আপনাকে ফোন করে জানায় যে আপনি বিকাশ একাউন্টে লটারি বা কোনো পুরষ্কার জিতেছেন, তৎক্ষণাৎ বিকাশ হেল্পলাইন নাম্বারে যোগাযোগ করে উক্ত তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করুন।

👉 বিকাশ পিন ভুলে গেলে রিসেট করার নিয়ম

অন্যকে ফোন দেওয়া

আপনি চিনেন না বা বিশ্বাস করেন না, এমন মানুষকে আপনার বিকাশ একাউন্ট যুক্ত ফোন দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। মনে রাখবেন, যেকেউ আপনার ফোন হাতে পেলে আপনার বিকাশ একাউন্ট অ্যাকসেস করতে পারেবে। তাই ভুলেও কারো হাতে নিজের ফোন দিবেন না।

অন্যের একাউন্ট ব্যবহার করে লেনদেন

আপনার নিজের বিকাশ একাউন্ট ব্যবহার করে সবসময় লেনদেন করুন। অন্যের একাউন্ট ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন থেকে বিরত থাকুন। যেকেউ তার এনআইডি ও মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে বিনামূল্যে বিকাশ একাউন্ট খুলতে পারে। তাই সবসময় লেনদেনের ক্ষেত্রে নিজের বিকাশ একাউন্ট ব্যবহার করুন।

সেন্ড মানির মাধ্যমে ক্যাশ আউট

কখনো “সেন্ড মানি” ফিচার ব্যবহার করে বিকাশ এজেন্ট থেকে ক্যাশ আউট আউট করবেন না। এজেন্ট এর কাছ থেকে ক্যাশ আউট এর ক্ষেত্রে সবসময় ক্যাশ আউট অপশন ব্যবহার করে টাকা তুলুন।

মনে রাখবেন, বিকাশ শুধুমাত্র একটি অর্থ লেনদেন এর প্ল্যাটফর্ম। কোনো গ্রাহক যদি অর্থ লেনদেনে কোনো ভুল করে বা কোনো প্রতারণার স্বীকার হয়, তার দায় মূলত উক্ত ব্যবহারকারীর নিজের। ব্যবহারকারীর কোনো ভুলের দ্বারা সাধিত ক্ষতির ক্ষেত্রে বিকাশ দায়ী থাকবেনা।

তাই বিকাশ ব্যবহার বা লেনদেন এর ক্ষেত্রে সবসময় সাবধানতা অবলম্বন করুন। প্রতারণার ফাঁদে পা না দিয়ে সবসময় বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নিন। আপনার সাবধানতাই পারে আপনার বিকাশ একাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 5,972 other subscribers

[★★] প্ৰযুক্তি নিয়ে লেখালেখি করতে চান? এক্ষুণি একটি টেকবাজ একাউন্ট খুলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে পোস্ট করুন! techbaaj.com ভিজিট করে নতুন একাউন্ট তৈরি করুন। হয়ে উঠুন একজন দুর্দান্ত টেকবাজ!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.