আপনার কি এখনই 4G সিম নেয়া উচিত?

By -

4G

বাংলাদেশের মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো এবং সরকারি কর্তৃপক্ষ দেশে চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা ৪জি চালুর জন্য কাজ শুরু করে দিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে কবে নাগাদ বাংলাদেশে 4G চালু হবে সে ব্যাপারে কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। উন্নততর ৪জি সেবা আসতে পারে এই ডিসেম্বরের মধ্যে, অথবা ২০১৮ পর্যন্তও আমাদের এজন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। কিন্তু, ইতোমধ্যেই অন্তত দুটি মোবাইল অপারেটর কোম্পানি এখনই গ্রাহকদেরকে ৪জি সিম রিপ্লেসমেন্ট নিতে উৎসাহ দিচ্ছে। কিন্তু কেন? আপনার কি এটা এখনই দরকার? চলুন সেই আলোচনা করি।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 1,569 other subscribers

4G কী?

খুব সহজ কথায়, ফোরজি হচ্ছে ৪র্থ প্রজন্মের (থ্রিজি’র পরবর্তী) মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি। ৪জি/এলটিই’র মাধ্যমে উন্নততর তারবিহীন নেটওয়ার্ক সেবা দেয়া যাবে। বর্তমানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চলমান এটাই সর্বাধুনিক মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক।

ফোরজির সুবিধা কী?

৪জি নেটওয়ার্কে থ্রিজির চেয়ে ১০ গুণ পর্যন্ত বেশি স্পিডের ইন্টারনেট পাওয়া যাবে, যা ব্যবহার করে আরও ভাল মোবাইল ওয়েব সেবা, গেমিং সেবা, আইপি টেলিফোনি, এইচডি/ফোরকে টিভি, থ্রিডি টিভি, ভিডিও কনফারেন্স, উন্নততর ক্লাউড কম্পিউটিং প্রভৃতি ব্যবহার করা যাবে। বাস্তবে ফোরজির স্পিড বাংলাদেশে কেমন পাবেন, তা জানতে এটা চালু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে থ্রিজির চেয়ে তো বেশি হবে বটেই।

ফোরজির জন্য আলাদা সিম কেন?

প্রযুক্তিগত কারণেই আপনার বিদ্যমান সিম কার্ডের সাহায্যে শুধুমাত্র ২জি এবং ৩জি নেটওয়ার্ক রিসিভ করতে পারবেন। ৪জি নেটওয়ার্ক এই সিমে সাপোর্ট করবেনা। এ ব্যাপারে আপনার সিম কার্ড পরিবর্তন করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবেনা। সুতরাং আজ হোক, কাল হোক, ফোরজি উপভোগ করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই ফোরজি সাপোর্টেড সিম কার্ড নিতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। তবে ভয়ের কিছু নেই, এতে আপনার মোবাইল নম্বর আগেরটাই থাকবে, শুধু সিম কার্ডটা নতুন পাবেন। ৪জি সাপোর্টেড সিমগুলো ইউসিম / USIM  নামে পরিচিত। এগুলো ২জি, ৩জি এবং ৪জি নেটওয়ার্ক সাপোর্ট করে।

যেসব সিমে ৪জি সাপোর্ট আছে, সেগুলোতে 4G অথবা U লেখা থাকবে। আপনার এ সংক্রান্ত কোনো তথ্যের দরকার হলে অপারেটরের কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্টে যোগাযোগ করুন। গ্রামীণফোন গ্রাহকরা তাদের সিম ৪জি সাপোর্টেড কিনা তা জানতে *১২১*৩২৩২# ডায়াল করুন। ফিরতি এসএমএসে জানতে পারবেন যে আপনার সিমটি ৪জি সাপোর্ট করে কিনা।

4G সিম নিতে কি টাকা খরচ হবে?

এই মুহূর্তে ৩জি সিম ব্যবহারকারীদের বিদ্যমান সিম পরিবর্তন করে ৪জি সিম নিতে টাকা খরচ করতে হবে। রবি ও এয়ারটেল গ্রাহকদের বিদ্যমান সিম রিপ্লেস করে ৪জি সিম নিতে ১০০ টাকা খরচ করতে হবে। গ্রামীণফোনে স্টার গ্রাহকরা ফ্রি ফোরজি সিম রিপ্লেসমেন্ট নিতে পারবেন, তবে স্টার গ্রাহক ব্যতীত অন্যদের ১১০ টাকা খরচ হবে

৪জি’তে খরচ কেমন?

টেকনিক্যালি থ্রিজি’র চেয়ে ফোরজি নেটওয়ার্ক সেবা দিতে মোবাইল অপারেটরদের তুলনামূলক কম খরচ হয়। তবে অপারেটরগুলো বাংলাদেশে এর প্যাকেজ ট্যারিফ কেমন রাখবে তা ফোরজি না আসা পর্যন্ত বোঝা যাচ্ছেনা।

আপনার মোবাইল কি 4G সাপোর্ট করবে?

এখন যেসব স্মার্টফোন বিক্রি হচ্ছে, সেগুলো বেশিরভাগই ৪জি সাপোর্ট করে। আপনার ফোনের স্পেসিফিকেশন চেক করে দেখুন এটি ৪জি/এলটিই সাপোর্ট করে কিনা।

আপনার কি ফোরজি সিম নেয়া উচিত?

বাংলাদেশে 4G নেটওয়ার্ক কবে আসবে তা এখনও নিশ্চিত না। এখন যারা নতুন সিম কিনছেন, তারা বেশিরভাগই ৪জি সাপোর্টেড সিম পাচ্ছেন। যাদের সিমে ৪জি সাপোর্ট নেই, অর্থাৎ আগে কিনেছেন, তারা চাইলে এখন ফোরজি সিম রিপ্লেসমেন্ট নিতে পারেন।

তবে ৪জি চালু বা তার ঠিক আগের সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করলে আপনি হয়ত তখন বিনামূল্যেও ৪জি সিম রিপ্লেসমেন্ট পেতে পারেন। অথবা নামমাত্র মূল্যে তখন ফোরজি সিম নিয়ে ডেটা বোনাস পেতে পারেন। তাই আপনি যদি এরকম কোনো সুযোগের অপেক্ষা করেন, তাহলে একটু ধৈর্য্য ধরতে হবে। এটা সম্পূর্ণই আপনার ইচ্ছের ওপর নির্ভর করছে।

বোনাসঃ স্মার্টফোনে যে ফিচারগুলো আপনার অবশ্যই চালু রাখা উচিত

এখনই ৪জি সিম না নিলে কোনো ক্ষতি নেই, তবে 4G এলে তখন যদি কোনো কারণে লাইনে দাঁড়িয়ে ৪জি সিম রিপ্লেসমেন্ট নিতে হয়, (এরকম সম্ভাবনা আছে কিনা তা নিশ্চিত না), যদি আপনি এই লাইনে দাঁড়িয়ে ৪জি সিম নেয়ার ভয় করেন, তাহলে এখনই আপনার বিদ্যমান সিম কার্ড পরিবর্তন করে ৪জি সাপোর্টেড সিম নিয়ে নিতে পারেন। তবে ৪জি নেটওয়ার্ক চালু না হলে ৪জি সিমে থ্রিজি/টুজি নেটওয়ার্কের সেবাই ব্যবহার করতে হবে।

★ টেলিটক অপরাজিতা প্যাকেজ সম্পর্কে সকল তথ্য

       
প্রযুক্তির সব তথ্য জানতে ভিজিট করুন www.banglatech24.com সাইট। নতুন পোস্টের নোটিফিকেশন ইমেইলে পেতে এই লিংকে গিয়ে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

 

Comments

Leave a Reply