এই হচ্ছে নারী রোবট সোফিয়া, যাকে সৌদি আরব নাগরিকত্ব দিয়েছে

প্রযুক্তি বিশ্বে এই মুহূর্তে অন্যতম আলোচিত বিষয় হচ্ছে যন্ত্রমানবী সোফিয়া। এটি মানুষের মত দেখতে একটি রোবট, যেটি তৈরি করেছে হংকংয়ের কোম্পানি হ্যানসন রোবটিক্স। সৌদি আরব এই যন্ত্রমানবীকে নাগরিকত্ব প্রদান করেছে। ফলে, সোফিয়া হচ্ছে ইতিহাসের প্রথম রোবট যা কোনো দেশের নাগরিকত্ব পেল। যদিও, অনেকের কাছেই এই রোবট নাগরিকত্বের ব্যাপারটি স্রেফ ‘পিআর স্টান্ট’ কিংবা কিছুটা প্রচারমুখী বলে মনে হয়েছে।

কারণ রোবটের কাছে নাগরিকত্ব ব্যাপারটি আসলে কোনো মানে বহন করেনা- অন্তত সাধারণ বিচারবুদ্ধি তাই বলে, যেখানে মানুষেরই নাগরিকত্ব পাওয়া নিয়ে হিমশিম খেতে হয়।

যাইহোক, চলুন জেনে নিই যন্ত্রমানবী সোফিয়া সম্পর্কে কিছু তথ্য।

রিয়াদে অনুষ্ঠিত ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ কনফারেন্সে সোফিয়া নামের নারীরূপী রোবটকে ‘ফুল সিটিজেনশিপ’ প্রদান করেছে সোদি আরব।

সোফিয়া একটি ‘সোশ্যাল রোবট’। এটি স্পিস রিকগনিশন প্রযুক্তি দ্বারা মানুষের ভাষা বুঝতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে সোফিয়া আপনার কথা শুনে ও বিশ্লেষণ করে সে অনুযায়ী উত্তর দিতে সক্ষম। সোফিয়া রোবটটি তৈরির প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল বয়োবৃদ্ধদের দৈনন্দিন কাজে সাহায্য করা। এছাড়া, কাস্টমার সার্ভিস এবং বিভিন্ন ইভেন্ট ও পার্কে দর্শনার্থীদের বিভিন্ন তথ্য ও ছোটখাটো কাজে সহায়তা করতে পারে সোফিয়া।

সোফিয়ার ‘মাথার মধ্যে’ মোটর ও মেকানিক্যাল কাঠামো ব্যবহার করে একে মানুষের মত মুখভঙ্গি করার বৈশিষ্ট্য প্রদান করা হয়েছে। এটি যখন কথা বলে, সে অনুযায়ী তার ঠোঁট এবং মুখমণ্ডল নড়াচড়া করে। সোফিয়ার চোখের মধ্যে ক্যামেরা দেয়া আছে, যা একে ভিজ্যুয়াল ফিডব্যাক দেয়। সোফিয়া হাসতে পারে। সেলফি তোলার জন্য পোজও দিতে পারে।

সোফিয়া’তে ব্যবহৃত এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) একে মানুষের সাথে ঐকমত্য পোষণ করতে উৎসাহিত করে। কিন্তু অনেক সময় সেটা বিব্রতকর কিছু উত্তর নিয়ে আসে। অনেকেই এই ভেবে ভীত থাকেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমৃদ্ধ রোবট মানবজাতির জন্য ধ্বংসের কারণ হতে পারে। এজন্য, সোফিয়ার নির্মাতা হ্যানসন একবার এক অনুষ্ঠানে সোফিয়াকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “সোফিয়া তুমি কি মানবজাতিকে ধ্বংস করতে চাও?… দয়া করে ‘না’ বলো” উত্তরে সোফিয়া বলেছিল “ঠিক আছে, আমি মানবজাতিকে ধ্বংস করে দেব”। আসলে সোফিয়া এত দ্রুত উত্তর দিচ্ছিল যে সে হ্যানসনের “দয়া করে ‘না’ বলো” কথাটি শোনার আগেই উত্তর রেডি করে ফেলেছিল।

তবে, সৌদি আরবের ঐ অনুষ্ঠানে রোবট সোফিয়া বলেছে এটি মানুষের বন্ধু হতে চায়, মানুষের উপকারে আসতে চায়। তখন সে ইলন মাস্ক’কে নিয়ে ট্রলও করে। এক সাংবাদিক যখন সোফিয়ার দ্বারা ‘বিপদজনক ভবিষ্যতের’ আশঙ্কা প্রকাশ করেন, তখন সোফিয়া বলে “আপনি কি বেশি পরিমাণে হলিউড মুভি দেখছেন আর ইলন মাস্কের কথাবার্তা পড়ছেন?… চিন্তা করবেন না, আপনারা আমার সাথে ভাল ব্যবহার করলে আমিও আপনাদের সাথে ভাল ব্যবহার করব”।

আচ্ছা, এই কথা বলে কি সোফিয়া আসলেই কিছুটা হুমকি দিল? নাকি মজা নিল?

অপরদিকে, সৌদি সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর কেউ কেউ এটা নিয়ে সিরিয়াস কিছু মন্তব্যও করেছেন। বিবিসি জানাচ্ছে, সাংবাদিক মুর্তজা হোসেন লিখেছেন, “যে ‘কাফালা’ (অভিবাসী) শ্রমিকরা তাদের প্রায় পুরোটা জীবন এখানে কাটাচ্ছেন তাদেরও আগে এই রোবট সৌদি নাগরিকত্ব পেয়ে গেল?”

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 6,953 other subscribers

[★★] প্ৰযুক্তি নিয়ে লেখালেখি করতে চান? এক্ষুণি একটি টেকবাজ একাউন্ট খুলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে পোস্ট করুন! techbaaj.com ভিজিট করে নতুন একাউন্ট তৈরি করুন। হয়ে উঠুন একজন দুর্দান্ত টেকবাজ!

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.