ফ্রিল্যান্সারের ডায়েরিঃ প্রসঙ্গ ফ্রি ফেসবুক ও ইন্টারনেট ডটঅর্গ

diary of a freelancer abs

বাংলাদেশে চালু হল ফেসবুকের ইন্টারনেট ডট ওআরজি প্রোগ্রাম। এর মাধ্যমে ফেসবুক সহ বেশ কিছু ওয়েবসাইটে বিনামূল্যে ভিজিট করা যাবে।  হ্যাঁ, ফেসবুকের ইন্টারনেট ডটঅর্গ শর্তসাপেক্ষে বিনামূল্যের ইন্টারনেট কনটেন্ট দিচ্ছে ঠিকই, এবং একই সাথে তাদের শর্তের বাইরে থাকা কনটেন্টের জন্য চার্জও প্রযোজ্য হবে। অনেককেই এই চার্জ কাটা নিয়ে অসন্তুষ্ট হতে দেখলাম। তাদের কথা শুনে মনে হল ফেসবুক যদি সরাসরি মোবাইলে মেগাবাইট যোগ করে দিত তাহলেই যেন ভাল হত। অর্থাৎ কেউ কেউ একদম বিনামূল্যে ইন্টারনেট চাচ্ছেন। কিন্তু এটা কখনোই সম্ভব না। আর সম্পূর্ণ ফ্রি ফেসবুক পেলে সেটা আমাদের তরুণ সমাজের জন্য খুব বেশি ভাল হবে বলে মনে হয়না। মোবাইল কোম্পানিগুলোর ফ্রি কলিং অফারের কথা মনে পড়ে? ফ্রি জিনিসের ক্ষতিকর প্রভাব থাকতে পারে। এবার আসল কথায় আসি।

ইন্টারনেট ডটঅর্গ জিনিসটা নিয়ে আসল সমস্যা হচ্ছে ‘নেট নিউট্রালিটি’র লঙ্ঘন। কেননা এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু সাইটে বিনামূল্যে এক্সেস করা যায়। তাহলে বাকীসব প্রতিযোগী সাইটে লোকজন টাকা খরচ করে কম ভিজিট করবে। ফলে সেগুলোর ভিজিটর কমবে। আর এরকম একটা পরিস্থিতি বাজার উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

ভারতে অনেক কোম্পানি ‘নিরপেক্ষ ইন্টারনেট’এর খাতিরে ফেসবুকের ইন্টারনেট ডটঅর্গ থেকে সরে এসেছে। কারণ, তারা দেশের ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে মঙ্গল চায়। নেট নিউট্রালিটির প্রভাব অনেক সুদূরপ্রসারী। বাংলাদেশের অনেক স্টার্টআপ কোম্পানি ভালো সেবা দিলেও তারা হয়ত ফেসবুকের ‘ফ্রি ইন্টারনেট’ এর আওতায় যেতে পারবেনা। কারণ সেজন্য বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। অথচ মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো সহজেই ফেসবুকের এই প্রকল্পে যুক্ত হতে পারবে, কেননা এজন্য যত জনবল বা অর্থ দরকার হবে তা তাদের কাছে কোনো ব্যাপারই না।

দেশের শিল্পের স্বার্থেই ইন্টারনেট ডটঅর্গ নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। মোবাইলে রাতভর চ্যাট করার জন্য ফ্রি মেগাবাইট নয়, বরং আমরা আমাদের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সুশিক্ষিত জাতি চাই, যারা জিরো ফেসবুকে গিয়ে ‘এড মি’ বলে গলা না ফাটিয়ে বরং ফেসবুকের মত বড় বড় প্রতিষ্ঠান গড়বে ও নেতৃত্ব দেবে।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 3,010 other subscribers

Comments