অনলাইনে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে যেসব সাবধানতা আবশ্যক

আমাদের দেশে অনলাইন লেনদেনে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার দিনদিন বেড়ে চলেছে। আর তার সাথে থাকছে ক্রেডিট কার্ড নিরাপত্তা সম্পর্কিত ঝুঁকি। তবে অনলাইন শপিং এর ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলে খুব সহজে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে অনলাইন কেনাকাটা এর ক্ষেত্রে নিরাপদ থাকবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক অনলাইনে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কেনাকাটার সময় যেসব সাবধানতা আবশ্যক সেসব সম্পর্কে বিস্তারিত।

কার্ড তথ্য সেভ না করা

কিছু কিছু ওয়েবসাইটে কেনাকাটার জন্য কার্ড ব্যবহারের পর উক্ত ওয়েবসাইটে কার্ডের তথ্য সেভ করার অপশন পাওয়া যায়৷ তবে এই অপশন ব্যবহার না করাই ভাল। শপিং ওয়েবসাইটগুলোতে কার্ডের তথ্য সেভ করাকে কেন্দ্র করে হ্যাকাররা একাউন্টে অ্যাকসেস পেয়ে গেলে এর মাধ্যমে আপনার কার্ডের টাকা খরচ করতে পারবে। যদিওবা প্রতিবার শপিং করার সময় কার্ডের তথ্য প্রদান করা কিছুটা বিরক্তিকর কাজ মনে হতে পারে, কিন্তু কার্ডের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অবশ্য যেসব সাইটে আপনি অটোমেটিক রেগুলার বিল পেমেন্ট করতে চান সেসব সাইটে কার্ড সেভ না করে উপায় থাকেনা। যেমন ফেসবুক এবং গুগল অ্যাড।

পরিচিত ও বিশ্বস্ত ওয়েবসাইটে শপিং করা

কোনো প্রোডাক্ট গরুখোঁজা না খুঁজে পরিচিত ও বিশ্বস্ত ওয়েবসাইটগুলোতে আপনার কাংখিত প্রোডাক্ট খুঁজুন। অনেক প্রতারক ওয়েবসাইট আসল ওয়েবসাইটের মত প্রায় একই নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করে থাকে। যেমনঃ daraz.com.bd এর পরিবর্তে daraz.xzz ডোমেইন ব্যবহার করা হতে পারে। তাই যেকোনো অনলাইন শপিং ওয়েবসাইট ব্যবহার করার সেরা ও নিরাপদ উপায় হচ্ছে অফিসিয়াল অ্যাপ ব্যবহার করা। এতে ভুল ঠিকানায় নিজের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে প্রতারণার সম্ভাবনা থাকেনা। তবে অ্যাপ ডাউনলোড করার আগে অবশ্যই রিভিউ এবং ইনস্টল সংখ্যা দেখে নিন। কারন অ্যাপ মার্কেট গুলোতেও ভুয়া অ্যাপ আছে।

এন্টি-ম্যালওয়্যার সফটওয়্যার ইন্সটল

আপনার সকল ল্যাপটপ, ডেস্কটপ ও অন্য যেকোনো ব্রাউজিং ডিভাইসে ফায়ারওয়াল ও এন্টি-ম্যালওয়্যার সফটওয়্যার ব্যবহার করা অত্যাবশ্যক। ভাইরাস ও বিভিন্ন ধরনের অ্যাটাক থেকে আপনার ডিভাইসকে রক্ষা করে এন্টি-ম্যালওয়্যার সফটওয়্যার। এছাড়া এন্টি-ম্যালওয়্যার সফটওয়্যার যাতে নতুন ভাইরাস ও থ্রেটস এর বিরুদ্ধে প্রস্তুত থাকতে পারে, তা নিশ্চিত করতে অটো-আপডেট চালু রাখুন।

পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার না করা

পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কোনো ধরনের লেনদেন করা থেকে বিরত থাকুন। পাবলিক ওয়াইফাই তেমন একটা নিরাপদ নয়, যার ফলে ম্যালওয়্যার ও স্পাইওয়্যার মত ফিচার এর বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রটেকশন থাকেনা এসব নেটওয়ার্কে। আর এর কারণে পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অনলাইন শপিং করলে ক্রেডিট কার্ডসহ যেকোনো তথ্য হ্যাকারের হাতে চলে যেতে পারে। তাই যথাসম্ভব পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করে শপিং করা থেকে বিরত থাকুন। 

সিকিউরিটি সেটিংস অপটিমাইজ করুন

আপনার কম্পিউটারের সিকিউরিটি সেটিংস অপটিমাইজড আছে কিনা তা সবসময় চেক করুন। অনেক ম্যালওয়্যার সিস্টেম সিকিউরিটির অকার্যকরিতার ফায়দা তুলে। অপারেটিং সিস্টেম ও ব্রাউজার নিয়মিত আপডেট করে এসব সমস্যা থেকে বেঁচে থাকা যেতে পারে৷ এছাড়া আপনার ডিভাইসের সিকিউরিটি প্যাকেজে থাকা সিকিউরিটি অপটিমাইজার টুল ব্যবহার করে ব্রাউজার বা অপারেটিং সিস্টেমে থাকা বিভিন্ন ধরনের সমস্যা খুজে বের করতে পারবেন। 

এসএসএল এনক্রিপশন চেক করুন

অনলাইনে শপিং করার জন্য ক্রেডিট কার্ডের তথ্য প্রদানের আগে উক্ত ওয়েবসাইটে এসএসএল এনক্রিপশন আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন। নিরাপদ ও আসল ওয়েবসাইট অবশ্যই এসএসএল প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের ওয়েবসাইটের ব্যবহারকারীর সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করবে৷ (যদিও আজকাল প্রতারক সাইটগুলোও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।)

কোনো ওয়েবসাইটে এসএসএল এনক্রিপশন আছে কিনা তা বুঝা বেশ সহজ। ব্রাউজার এড্রেস বারে থাকা ওয়েবসাইটের ইউআরএল পাশে একটি লক আইকন থাকবে, যদি উক্ত ওয়েবসাইটে এসএসএল ইন্সটল করা থাকে৷ এছাড়া ওয়েবসাইটের এড্রেস শুরু হবে https দ্বারা। মনে রাখবেন, এসএসএল থাকলেও কোনো ওয়েবসাইট নিরাপদ বলে গ্যারান্টি দেওয়া যায়না।

🔥🔥 গুগল নিউজে বাংলাটেক সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন 🔥🔥

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে এই সাবধানতাগুলো মেনে চলুন

👉 ক্রেডিট কার্ড কি ও কিভাবে পাওয়া যায়?

নিয়মিত ক্রেডিট কার্ড স্টেটমেন্ট চেক করুন

সম্ভব হলে প্রতিটি লেনদেনের পর ক্রেডিট কার্ড স্টেটমেন্ট চেক করা উচিত। কোনো ধরনের ফ্রড পারচেজ খুব সহজে এর মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া যায় ও ক্রেডিট কার্ড ইস্যুকারীকে তৎক্ষনাৎ জানানো যায়৷ ভুলভাবে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্রেডিট কার্ড কোম্পানিকে জানালে এই ব্যাপারের সুরাহা সম্ভব। তবে দেরি হলে ক্রেডিট কার্ড কোম্পানির কিছুই করার থাকেনা ও এর সম্পূর্ণ দায়ভার ব্যবহারকারীর উপর চলে যায়।

শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার

ক্রেডিট কার্ড দিয়ে অনলাইনে শপিং এর ক্ষেত্রে আরেকটি সিকিউরিটি ডিফেন্স হলো একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা৷ (বিশেষ করে যদি আপনি সাইটে কার্ড সেভ করে রাখেন।) প্রতিটি আলাদা অনলাইন শপিং একাউন্টের জন্য আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিত।

এর ফলে একাউন্টসমূহের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে ও একটি একাউন্ট হ্যাক হলে অন্যটি নিরাপদ থাকবে। একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ডে স্পেশাল ক্যারেক্টার, সংখ্যা ও বড়-ছোট হাতের অক্ষর থাকে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আপনার সকল পাসওয়ার্ড প্রতি ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে একবার হলেও পরিবর্তন করুন।

👉 ভিসা কার্ড কি? Visa কার্ডের সুবিধা কি? কিভাবে পাবো?

ক্রেডিট কার্ড দিয়ে অনলাইন শপিং এর ক্ষেত্রে আরো কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে পারেন। যেমনঃ

  • কার্ডের পিন চায় এমন সাইট ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। আসলে অনলাইন শপিং ওয়েবসাইটগুলো শুধুমাত্র সিভিভি নাম্বার ও ফোনে আসা ট্রানজেকশন পাসওয়ার্ড (OTP) চেয়ে থাকে
  • আপনার ফোন, ল্যাপটপ বা ডেস্কটপে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইন্সটল করে রাখুন
  • আপনার ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার হলে যাতে ইমেইল ও এসএমএস এর মাধ্যমে তা জানানো হয় সেই সেটিংস করে রাখুন

আপনি কি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন? ক্রেডিট কার্ড নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কমেন্টে জানান!

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 7,069 other subscribers

[★★] প্ৰযুক্তি নিয়ে লেখালেখি করতে চান? এক্ষুণি একটি টেকবাজ একাউন্ট খুলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে পোস্ট করুন! techbaaj.com ভিজিট করে নতুন একাউন্ট তৈরি করুন। হয়ে উঠুন একজন দুর্দান্ত টেকবাজ!

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.