মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সত্যি-মিথ্যা নির্ণয়?

By -

যুগ যুগ ধরেই মানুষের “লাই ডিটেক্টর” বা “মিথ্যে কথা সনাক্তকারী যন্ত্র” নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই। আর লাই ডিটেকশনের অনেক পদ্ধতিও আবিষ্কৃত হয়েছে। যদিও কোনটাই পুরোপুরি সঠিকভাবে মিথ্যা যাচাই করতে পারে না। কেমন হয়, যদি আপনার হাতের ফোনটিই সেই লাই ডিটেক্টর হিসেবে কাজ করে?

কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী এমন একটি মেশিন লার্নিং এলগোরিদম নিয়ে কাজ করছেন যেটি আপনার স্মার্টফোন ব্যবহারের স্টাইলের উপর ভিত্তি করে সত্য মিথ্যা যাচাই করতে পারবে। আপনি আপনার স্মার্টফোন স্ক্রিন কিভাবে ট্যাপ বা সোয়াইপ করছেন তা থেকে এই এলগোরিদম আপনার সত্য মিথ্যা যাচাই করবে।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 2,019 other subscribers

এই গবেষকদের মতে মানুষ মিথ্যা কিংবা কুটিল আচরণের সময় তার হাতের মুভমেন্ট একটু ধীরে হয়- অর্থাৎ সে কিছুটা ইতস্ততঃ বোধ করে। এছাড়া, হাতের নড়াচড়াও দরকারের চেয়ে বেশি হয় (একবার এদিকে, আরেকবার ওদিকে)। আর এটার উপর ভিত্তি করেই তাদের এই এলগোরিদম। তারা একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনও ডেভেলপ করেছেন যা এখনো সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয় নি।

ভেরিট্যাপস নামক এই এলগোরিদমটির মাধ্যমে আপনি যখনি স্মার্টফোনে কোন সত্য তথ্য ইনপুট দিবেন তখন এটি সবুজ টিক মার্ক দেখাবে আর মিথ্যা তথ্য দিলে লাল।

গবেষকদের একজন এটাকে পলিগ্রাফ নামক বহুল পরিচিত মেথডের সাথে তুলনা করলেও এটা এখনো পরীক্ষামূলক আর খুব বেশি শক্তিশালী না হওয়ায় এটাকে সেনসিটিভ জায়গা যেমন আদালতে ব্যবহার করা যাবেনা বলে জানিয়েছেন। এর আগেও অনেক কোম্পানি ডিজিটাল পদ্ধতিতে লাই ডিটেকশনের জন্য অনেক যন্ত্র তৈরি করেছে। এবং সেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই প্রায় ৮০ ভাগের মত সঠিক ফলাফল দিতে পেরেছে।

ভেরিট্যাপস কীভাবে কাজ করে?

এই গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা বেশ কিছু মানুষের উপর কয়েকটি পরীক্ষা চালান। অংশগ্রহণকারীদেরকে তারা বলেন যে তারা যেন ফোনের স্ক্রিনে তাদের প্রিয় রং এর ক্ষেত্রে সত্য বা মিথ্যা বলে। ফলাফলে দেখা যায় যারা মিথ্যা বলেছে তারা রিপ্লাই দিতে দেরি করেছে। শেষ পরীক্ষাতে তাদেরকে একটি ডাইস গেইম খেলতে দেয়া হয় এবং দেখা যায় সত্য এন্ট্রি গুলো তারা অনেক বেশি প্রেশার দিয়ে স্ক্রিন এর মাঝখানে ট্যাপ করেছে। আর মিথ্যা এন্ট্রিগুলোর সময় তাদের হাতের মুভমেন্ট অনেক বেশি ছিল।

ভেরিট্যাপস অবিষ্কারকারা তাদের এই পদ্ধতি নিয়ে বেশ আশাবাদী। তারা দাবি করছেন অনলাইন বিভিন্ন মাধ্যমের এটা ব্যবহার করা সম্ভব। যেমন, বিভিন্ন অনলাইন ভেরিফিকেশন কিংবা ব্যবহৃত পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়ার সময় পণ্যের অবস্থার ব্যাপারে কেউ সত্য নাকি মিথ্যা বলছে তা এর দ্বারা যাচাই করা যাবে। কিন্তু লোকজন চালাকি করে মিথ্যে তথ্যও যদি আত্নবিশ্বাসের সাথে ইনপুট দেয়, তখন এটা ঠিকঠাক কাজ করতে পারে কিনা সেটাও ভাববার বিষয়।

     
প্রযুক্তির সব তথ্য জানতে ভিজিট করুন www.banglatech24.com সাইট। নতুন পোস্টের নোটিফিকেশন ইমেইলে পেতে এই লিংকে গিয়ে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *