গাড়ি পার্কিংয়ের স্থান খুঁজে দেবে পার্কিং স্পট শেয়ারিং অ্যাপ ‘রাখো’

By -

রাখো

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারের সাথে সাথে কাজ করছে হাজারো তরুণ, যারা প্রযুক্তিকে ভালবাসে, যারা চায় প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার সমাধান করতে। সেরকমই একটা উদ্যোগের নাম ‘রাখো‘। যেটি মূলত গাড়ি পার্কিং এর স্থান শেয়ার করার জন্য অ্যাপ ভিত্তিক একটি সেবা। আপনি নিশ্চয়ই উবার এর নাম শুনেছেন, যা গাড়ি শেয়ার করার সেবা দেয়। “রাখো” অনেকটা সেরকমই, তবে এর মাধ্যমে গাড়ি পার্কিং করার স্পট শেয়ার করা যায়।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 1,891 other subscribers

বাংলাদেশের অন্যতম সমস্যা হচ্ছে ট্রাফিক সমস্যা, এর সাথে জায়গার স্বল্পতার কারণে পার্কিংয়ের সমস্যাও আছে। গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা খোঁজ করতে প্রতিদিন অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে। রাস্তা বন্ধ করে গাড়ি রাখার ফলে অনেকে রাস্তাঘাটে যানজটের সৃষ্টি করছে। এই ভোগান্তি লেগেই আছে।

তবে লক্ষ করলে দেখতে পাবেন, আমাদের কোন গাড়ি রাতের বেলা বাইরে থাকছেনা। এর কারণ হল, আমাদের সবার নির্দিষ্ট পার্কিং স্পট আছে। কিন্তু দিনের বেলা সেই স্পটগুলো ফাঁকা পড়ে থাকছে, আর আপনার গাড়ি অফিসে, শপিং কিংবা হাসপাতালে জরুরি কাজে নিয়ে বের হয়ে যাচ্ছেন। পর্যাপ্ত পার্কিং না পেয়ে আপনাকে গাড়িটি রাখতে হচ্ছে রাস্তায়, অথবা এমন কোন স্থানে যেখানে পার্কিং নিষেধ। ফলে গুনতে হচ্ছে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের জরিমানা।

অপরদিকে আপনার মত অন্য একজন আপনার বাসার পাশের স্কুল কিংবা হাসপাতালে তার গাড়িটি নিয়ে এসে রাখতে হচ্ছে রাস্তায়। এর ফলে আপনি বাসা থেকে বের হয়ে পড়ছেন যানজটে।

আপনি যখন বাসা থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন, তখন যদি আপনি ওই স্কুলে আগত গাড়িটিকে রাখতে দিতেন তাহলে হয়ত আপনার মত একজন আপনার অফিসের পাশে আপনাকে গাড়িটিও রাখার অনুমতি দিত। রাখো অ্যাপ এই ব্যবস্থাই করছে।

এতে আপনি আর্থিকভাবেও লাভবান হবেন। ধরুন, আপনার পার্কিং দিনে ৩/৪ ঘণ্টা ফাঁকা পড়ে থাকে। আপনি যদি ৩০ টাকা/ঘণ্টা হিসেবে আপনার পার্কিং স্পট ভাড়া দেন, তাহলে প্রতিদিন আপনার আয় ১২০ টাকা। মাস শেষে প্রতি পার্কিং স্পট থেকে আপনার গড় আয় ৪০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

এছাড়া আপনার যদি খোলা জায়গা থাকে, সেটাতেও আপনি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন। এভাবে এগিয়ে গেলে আপনার গাড়িটি পার্কিং করতেও আর আগের মত সময় নষ্ট হবেনা।

রাখো অ‍্যাপের ফিচারগুলো

  1. তাৎক্ষণিক অর্থ আদান-প্রদানের ঝামেলা নেই, আপনি বিল দেখে পরে যেকোনো সময় ফি পরিশোধ করতে পারবেন।
  2. আগে থেকে বুক করে রাখতে হবেনা, আপনার যখন পার্কিং দরকার তখন আশেপাশের পার্কিং স্পট খুঁজে পাবেন এবং বুক করতে পারবেন।
  3. জাতীয় পরিচয়পত্র এবং মোবাইল নাম্বারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ভেরিফাই করার ব্যবস্থা।
  4. রাখো অ্যাপটি ডাউনলোড সম্পূর্ণ ফ্রি।
  5. যারা পার্কিং স্পট ভাড়া দিবেন প্রতি সপ্তাহে তাদের নির্ধারিত বিকাশ একাউন্ট অথবা ব্যাংকে বিল চলে যাবে।
  6. যতটুকু সময়ের জন্য পার্কিং স্পট ফাঁকা থাকবে ঠিক ততটুকু সময় আপনি পার্কিং স্পট ভাড়া দিতে পারবেন। আগে থেকে রেজিস্ট্রেশন করার ঝামেলা নেই। পার্কিং ভাড়া দিতে না চাইলে অফলাইনে থাকলে আর রিকোয়েস্ট আসবেনা।
  7. রাখো অ্যাপ থেকে পার্কিং স্পট ভাড়া দেয়া এবং গাড়ীর জন্য পার্কিং স্পট ভাড়া নেয়া যাবে।
  8. অ্যাপে ঢুকলেই নিকটবর্তী পার্কিং স্পটগুলো দেখতে পারবেন, সাথে পার্কিং স্পটের তথ্য যেমন, প্রতি ঘন্টা ভাড়ার পরিমাণ, সার্ভিসের মান, কখন আপনি গাড়ী রাখতে পারবেন, কোন ধরনের পার্কিং স্পট, ক্যামেরা আছে কিনা, গার্ড আছে কিনা এসব নানান তথ্য দেখতে পারবেন।
  9. অ্যাপের মাধ্যমে আপনার অব্যবহৃত পার্কিং স্পটের বর্ণনা, ভাড়ার পরিমাণ, কী কী সুবিধা আছে তাও যুক্ত করতে পারবেন।
  10. অ্যাপে অনলাইনে থাকলেই কারো পার্কিং করার প্রয়োজনে আপনাকে নোটিফিকেশন পাঠাবে, আপনি এক্সেপ্ট করলে আপনার ফোন নাম্বার, তথ্য দেখে সে পার্কিং স্পটে গাড়ি রাখতে পারবেন। কাজ শেষ করে চলে গেলে আপনাকে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানানো হবে আপনার পার্কিং স্পটটি আর একটি গাড়ীর জন্য প্রস্তুত।
  11. প্রোফাইল থেকে এখন পর্যন্ত কত আয় হল, কতগুলো স্পট ভাড়া নিলেন তা দেখতে পাবেন।

গুগল প্লে স্টোর থেকে রাখো অ্যাপ লিঙ্কঃ https://play.google.com/store/apps/details?id=com.fid.rakho

রাখো’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলুল করিম তাদের সার্ভিস সম্পর্কে বলেন, “সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে আমরা মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যাবহার করছি। এর ধারাবাহিকতায় পার্কিং সমস্যা সমাধানে আমাদের রাখো অ্যাপ”।

ASUS Ad

রাখো অ্যাপটির ডেভেলপার টিমে রয়েছেন ফয়সাল আহমেদ ইমন, হামু্দী হাসান সনেট, ফয়সাল আহমেদ, মুবীন উল আলম, ফুয়াদ রাফিদ, ফররুখ আহমেদ তুষার, এম আলম তিলত এবং জামিল আহমেদ। তারা আরো এরকম কিছু অ্যাপ যেমন- ফুড ডোনেশন, বিগ স্ক্রিন অগমেন্টেড রিয়েলিটি এবং গেম নির্মাণে কাজ করছেন।

       
প্রযুক্তির সব তথ্য জানতে ভিজিট করুন www.banglatech24.com সাইট। নতুন পোস্টের নোটিফিকেশন ইমেইলে পেতে এই লিংকে গিয়ে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

 

Comments

Leave a Reply