মহাশূন্যের কিছু চমকপ্রদ তথ্য যা হয়ত আপনি আগে জানতেন না

space image ..

মহাবিশ্বের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এক অংশে আমাদের বসবাস। বিশাল মহাশূন্যের খুব অল্প বিষয়ই মানুষের চোখে ধরা পড়েছে। এর মধ্যেও অনেক রহস্য রয়ে গেছে যা আমাদের ধারণার বাইরে। মহাবিশ্বের বিস্ময়ের কোনও শেষ নেই। এই পোস্টে আমরা স্পেসের কিছু চমকপ্রদ কিছু বিষয় আলোচনা করব।

১. স্পেস বা মহাশূন্য একদম নীরব

মহাশূন্যে কোনো শব্দ নেই। পুরো স্পেস একেবারেই নীরব বা ‘সাইলেন্ট’। শব্দ চলাচলের জন্য মাধ্যম দরকার হয়। কিন্তু মহাশূন্যে কোনও বায়ুমণ্ডল না থাকায় সেখানে শব্দ শোনা যায়না। প্রশ্ন করতে পারেন, নভোচারীরা কীভাবে একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করেন? সৌভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, বেতার তরঙ্গ শূন্য মাধ্যমেও চলাচল করতে পারে। আর এই রেডিও ওয়েভের সাহায্যেই নভোচারীরা নিজেদের মধ্যে কথা বলেন।

২. অ্যাপোলো মিশনে চাঁদে অঙ্কিত পদচিহ্ন কতদিন টিকে থাকবে?

চাঁদে বিভিন্ন সময় পাঠানো নভোযান ও অ্যাপোলো মিশনে চাঁদের বুকে অঙ্কিত মানব পদচিহ্ন সেখানে কতদিন টিকে থাকবে? যেহেতু চাঁদে কোনো বাতাস কিংবা পানি প্রবাহ নেই, সুতরাং এগুলো অক্ষত থাকারই কথা। কিন্তু বাস্তবে তা হবেনা। চাঁদের আবহাওয়া পরিবর্তনশীল। সেখানে মাঝে মাঝে ছোটখাট উল্কাপাত হয়। তাই চন্দ্রপৃষ্ঠের আকৃতিতে পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে বিজ্ঞানীদের হিসেবমতে চাঁদে মানুষের পায়ের ছাপ ও বিভিন্ন নভোযানের চাকার চিহ্ন কম করে হলেও ১০০ মিলিয়ন বছর টিকে থাকবে!

৩. আমাদের সোলার সিস্টেমের ৯৯ শতাংশ ভর সূর্য একাই বহন করে

আমাদের নিকটবর্তী নক্ষত্র সূর্য একাই আমাদের সোলার সিস্টেমের ৯৯% ভর বহন করে। প্রতি সেকেন্ডে সূর্য প্রায় ৬০০ মিলিয়ন টন হাইড্রোজেনকে হিলিয়ামে পরিণত করে। এসময় উপজাত বা ‘বাই-প্রোডাক্ট’ হিসেবে প্রায় ৪ মিলিয়ন টন কনা শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। সূর্য যে প্রকৃতির তারকা, সেটি যখন ‘মরে যাবে’ তখন তা একটি ‘রেড জায়ান্ট’ বা রক্তিম দানবে পরিণত হবে যা পৃথিবী ও এর উপর যা কিছু আছে সকলকে ঢেকে ফেলবে। তবে এ নিয়ে আপাতত চিন্তার কারণ নেই, কেননা আগামী ৫ বিলিয়ন বছরের মধ্যে এমনটি ঘটার সম্ভাবনা কম

৪. সূর্য থেকে পৃথিবীতে শক্তি স্থানান্তর

পৃথিবীতে প্রতিবছর যে পরিমাণ সৌরশক্তি ব্যবহৃত হয়, তার চেয়ে বেশি শক্তি প্রতি ঘন্টায় সূর্য থেকে পৃথিবীতে আসে।

৫. মহাশূন্যে স্বয়ংক্রিয় ঝালাই!

মহাশূন্যে যদি একই ধরণের দুই টুকরা ধাতু পরস্পরকে স্পর্শ করে, তবে তারা একটি অপরটির সাথে স্থায়ীভাবে সংযুক্ত হয়ে যাবে। এই ব্যাপারটি ‘কোল্ড ওয়েল্ডিং’ হিসেবে পরিচিত। যেহেতু মহাশূন্যে কোনও বাতাস বা পানিকণা নেই তাই ধাতব অণুগুলো একে অপরের সংস্পর্শে এসে বাধাহীনভাবে বন্ধন তৈরি করে নেয়। পৃথিবীর আবহাওয়া এমনটি ঘটেনা, কারণ এখানে বায়ুমণ্ডলে অনেক কিছুই আছে যার কারণে অণুগুলো এই সুযোগ পায়না।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 4,971 other subscribers

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.