ব্রাজিলে “আইফোন” ট্রেডমার্ক হারাতে বসেছে অ্যাপল

31_archimedes_35438535_610x436

বিশ্বব্যাপী আলোচিত স্মার্টফোন নির্মাতা অ্যাপল তার জনপ্রিয় মোবাইল ডিভাইসের নাম হিসেবে “আইফোন” ব্যবহারের উপর ব্রাজিলে সরকারী নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে আগামী সপ্তাহে ব্রাজিলিয়ান ইনিস্টিটিউট অফ ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি একটি স্থানীয় ইলেকট্রনিকস কোম্পানিকে “আইফোন” নামটি একচেটিয়াভাবে ব্যবহার করার অধিকার প্রদান করবে। ব্রাজিলের ঐ প্রতিষ্ঠান ২০০০ সালে “আইফোন” শব্দটির ট্রেডমার্ক আবেদন দাখিল করে এবং ২০০৮ সালে তাদের প্রতি এর স্বত্ব অনুমোদন করা হয়।

সম্প্রতি অ্যাপলের তরফ থেকে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রীয় কোম্পানিটিকেই আইফোন ট্রেডমার্ক ব্যবহারের অধিকার দেয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রেডমার্কের “এক্সক্লুসিভিটি” (কোন প্রতিষ্ঠান/পক্ষ কর্তৃক একচেটিয়াভাবে ব্যবহারের অধিকার) নিশ্চিত করার বিষয়টি আলোচিত হবে।

আইজিবি ইলেকট্রনিকা, যার পূর্বনাম ছিল গ্র্যাডিয়েন্ট ইলেকট্রনিকা সেই ব্রাজিলিয়ান কোম্পানি বলছে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তাদের “আইফোন” ট্রেডমার্ক ব্যবহার করার স্বত্ব রয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে কেঁচো খুঁড়তে সাপের গর্তে হাত দিয়েছে অ্যাপল। কেননা অধিক ঝুঁকির মধ্যে তাদেরই অবস্থান।

গত ডিসেম্বরে আইজিবি নতুন এন্ড্রয়েড স্মার্টফোন সিরিজ বাজারজাত শুরু করেছে যার নাম “আইফোন”; প্রথম প্রথম লোকজন “এন্ড্রয়েড চালিত আইফোন” খবরটি শুনে অবাকই হয়েছিল, কিন্তু পুরো ঘটনা জানার পর ব্যাপারটি পরিষ্কার হয়।

অ্যাপলের সামনে এখন দুটি রাস্তা খোলা রয়েছে। এক, আইজিবি’র সাথে আদালতে লড়াই করা এবং দুই, অর্থ খরচ করে ট্রেডমার্ক কিনে নেয়া। আপাতদৃষ্টিতে প্রথম উপায়টি কঠিন বলেই মনে হচ্ছে, কেননা প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী আইজিবির দিক থেকে ট্রেডমার্ক আবেদন ফাইল করা হয় ২০০০ সালে যার ৭ বছর পরে বাজারে আসে অ্যাপল আইফোন। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় পথ অর্থাৎ ট্রেডমার্ক কিনে নেয়ার কথা বিবেচনা করে দেখতে পারে টিম কুকের নেতৃত্বাধীন এই মার্কিন কোম্পানি।

গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে চীনেও একই প্রকার অবস্থায় প্রভিউ নামক এক কোম্পানির কাছ থেকে ৬০ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে আইফোন ট্রেডমার্কের স্বত্ব কিনেছিল অ্যাপল।

এদিকে আইজিবি’র পক্ষ থেকে যেকোন ধরণের আলোচনায় বসার জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। এখন ব্রাজিলের মত সম্ভাবনাময় একটি বাজারে অ্যাপল ঠিক কি পরিমাণ খরচ করতে রাজী থাকে সেটাই দেখার অপেক্ষা। সর্বশেষ আপডেট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন!

 

আপনি কি মনে করেন অ্যাপল কোর্টে যাবে? নাকি আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় আসবে?

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 5,052 other subscribers

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.