হার্টবিট বা হৃদস্পন্দনের মাধ্যমেই চার্জ হবে মোবাইল?

heart implantমোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস চালানোর জন্য অন্যতম প্রধান দরকারী উপাদান হচ্ছে বিদ্যুৎ। বর্তমানে রিচার্জেবল ব্যাটারি থেকেই এই শক্তি সংগ্রহ করে নিত্যব্যবহার্য গেজেটসমূহ। কিন্তু স্মার্টফোন, পোর্টেবল মিউজিক প্লেয়ার, স্মার্টওয়াচ প্রভৃতি ডিভাইসের জন্য আলাদা আলাদা চার্জার বহন করা নিঃসন্দেহে ঝামেলার কাজ। সরাসরি বৈদ্যুতিক চার্জিং অ্যাডাপ্টার এড়াতে কেউ কেউ বহনযোগ্য ব্যাটারি চার্জারের সাহায্য নিয়ে থাকেন। কিন্তু সাপোর্ট ব্যাটারির চার্জ ফুরিয়ে গেলে আবার ‘যেই লাউ, সেই কদু’- অর্থাৎ আপনাকে ঠিকই ইলেকট্রিক সকেটে তারযুক্ত চার্জার কানেক্ট করে বেশ কিছুটা সময় অপেক্ষমান থাকতে হবে।

সবাইই এর সমাধান খুঁজছেন। অ্যামেরিকান ও চীনা বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে চার্জ সঙ্ক্রান্ত সমস্যার একটি ‘সিরিয়াস’ সমাধান বের করেছেন বলে জানিয়েছেন। তাদের আবিষ্কারটি অনেকের নিকট ভয়াবহ শোনালেও কারও কারও নিকট এটি জীবনরক্ষাকারী প্রযুক্তি হয়ে আসবে।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ঐ গবেষকদল প্রাণীর হৃদস্পন্দন বা হার্টবিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কৌশল আবিষ্কার করেছেন। তারা এমন একটি ডিভাইস বানিয়েছেন যেটি প্রাণীর হৃদযন্ত্র, ফুসফুস বা ডায়াফ্রামের সাথে জুড়ে দিলে তা এগুলোর নড়াচড়াকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারবে। এখান থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে পেসমেকারের মত মেডিক্যাল ইমপ্ল্যান্ট চলা সম্ভব হবে বলেই জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সুতরাং এটি সফল হলে দেহের অভ্যন্তরে সংস্থাপিত যন্ত্রের জন্য ব্যাটারির চার্জ নিয়ে আর চিন্তা করতে হবেনা।

এটি মূলত একটি সরু বায়োকম্প্যাটিবল প্লাস্টিকের স্ট্রিপ যাতে ইলেকট্রনিক চিপ, রেক্টিফায়ার, ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট প্রভৃতি এমবেড করা আছে।

ডিভাইসটি আপাতত গরুর হৃদযন্ত্রে ইমপ্ল্যান্ট করে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। সেখানে এটি কাজ করেছে। গবেষণায় উন্নয়ন এলে এই প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ দেহের বাইরে ট্র্যান্সফার করে মোবাইলের মত গেজেট চার্জ দেয়া যাবে বলেই আশা করা হচ্ছে!

শুনতে বেশ অবাক করা হলেও নতুন এই আবিষ্কারটি আপনার নিকট কেমন লাগছে?

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 5,052 other subscribers

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.