আইফোন ১৮ প্রো ও ফোল্ডিং আইফোন ডুও প্রকাশ করল অ্যাপল

অ্যাপলের নতুন আইফোন সিরিজে এবার এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। আইফোন ১৮ প্রো ও ১৮ প্রো ম্যাক্সে নতুন চিপ, উন্নত ক্যামেরা, ভালো ব্যাটারি ব্যাকআপ এবং উন্নত কুলিং ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ভাঁজযোগ্য বা ফোল্ডিং আইফোন এনেছে অ্যাপল।

নতুন এই ফোনটির নাম আইফোন ডুও। সাধারণ অবস্থায় এটি একটি প্রচলিত স্মার্টফোনের মতো ব্যবহার করা যাবে। আবার ফোল্ডিং ওপেন করলে পাওয়া যাবে ৭.৬ ইঞ্চির বড় ডিসপ্লে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আইফোন ১৮ প্রো, ১৮ প্রো ম্যাক্স ও আইফোন ডুও, তিনটি মডেলেই রয়েছে অ্যাপলের নতুন এ২০ প্রো চিপ।

অর্থাৎ অ্যাপল এবার একই শক্তিশালী চিপ ব্যবহার করে দুটি আলাদা ধরনের অভিজ্ঞতা দিতে চাইছে। একদিকে প্রচলিত আইফোন, অন্যদিকে ভাঁজযোগ্য আইফোন।

এক নজরে নতুন আইফোন

  • আইফোন ১৮ প্রো ও ১৮ প্রো ম্যাক্সে নতুন এ২০ প্রো চিপ।
  • এ২০ প্রো তৈরি হয়েছে ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে।
  • ৪৮ মেগাপিক্সেলের মূল ক্যামেরায় যুক্ত হয়েছে পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার।
  • ডায়নামিক আইল্যান্ড আগের তুলনায় ছোট হয়েছে।
  • নতুন কুলিং ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ফোনের গতি ধরে রাখতে সাহায্য করবে।
  • আইফোন ১৮ প্রো-এর দাম শুরু ১,১৯৯ মার্কিন ডলার থেকে।
  • আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম শুরু ১,২৯৯ মার্কিন ডলার থেকে।
  • প্রো ম্যাক্সে সর্বোচ্চ ৪৫ ঘণ্টা ভিডিও চালানো যাবে বলে অ্যাপলের দাবি।
  • আইফোন ডুও হলো অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন।
  • ডুওতে রয়েছে ৫.৪ ইঞ্চির বাইরের ও ৭.৬ ইঞ্চির ভেতরের ডিসপ্লে।
  • ডুওতেও এ২০ প্রো চিপ ব্যবহার করা হয়েছে।
  • আইফোন ডুও-এর দাম শুরু ১,৯৯৯ মার্কিন ডলার থেকে।

আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্সে বড় পরিবর্তন কোথায়?

বাইরে থেকে দেখলে আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্সকে আগের মডেলের তুলনায় খুব বেশি আলাদা মনে নাও হতে পারে। অ্যাপল পরিচিত ডিজাইনই ধরে রেখেছে।

apple iphone 18 pro

🔥🔥 গুগল নিউজে বাংলাটেক সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন 🔥🔥

তবে ফোনের ভেতরে এসেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আপগ্রেড।

এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো এ২০ প্রো চিপ।

২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি এই চিপে নতুন প্রসেসর, গ্রাফিকস প্রসেসর এবং নিউরাল ইঞ্জিন রয়েছে। অ্যাপলের লক্ষ্য শুধু ফোনকে আরও দ্রুত করা নয়, দীর্ঘ সময় ধরে ভারী কাজের চাপ সামলেও যেন ফোন ভালো পারফরম্যান্স দিতে পারে, সেটিও নিশ্চিত করা।

এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে।

ছবি প্রসেসিং, ভিডিও এডিটিং, ভয়েস ফিচার এবং বিভিন্ন এআই সুবিধা এখন সরাসরি ফোনেই চালানোর প্রবণতা বাড়ছে। এসব কাজের জন্য শক্তিশালী চিপের পাশাপাশি দ্রুত মেমোরিও প্রয়োজন।

এ২০ প্রো চিপ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

আগে নতুন আইফোনের চিপ নিয়ে আলোচনায় মূল প্রশ্ন ছিল: আগের চিপের তুলনায় এটি কতটা দ্রুত?

এখন বিষয়টি শুধু গতি দিয়ে মাপা যায় না।

ফোন দীর্ঘ সময় ভারী কাজ করার পর কতটা গতি ধরে রাখতে পারছে এবং এআইয়ের কাজ কতটা দ্রুত সরাসরি ফোনে করতে পারছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

এ২০ প্রো সেই দিকেই অ্যাপলের বড় পদক্ষেপ।

এখান থেকে বোঝা যায়, ভবিষ্যতের আইফোনে অ্যাপল আরও বেশি এআই-ভিত্তিক কাজ সরাসরি ডিভাইসের ভেতরেই চালাতে চাইছে।

ক্যামেরায় বড় আপগ্রেড

আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আপগ্রেডগুলোর একটি হলো ৪৮ মেগাপিক্সেলের মূল ক্যামেরায় পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার।

সহজভাবে বললে, ক্যামেরার লেন্স দিয়ে কতটা আলো ঢুকবে, তা প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা যাবে।

কম আলোতে ছবি তোলার সময় এর মাধ্যমে সেন্সরে বেশি আলো নেওয়া সম্ভব হবে। আবার পর্ট্রেট ছবিতে ব্যাকগ্রাউন্ড কতটা ঝাপসা হবে, সেটিও আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

এটি আইফোন ক্যামেরার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। কারণ গত কয়েক বছরে স্মার্টফোন ক্যামেরার উন্নতির বড় অংশ এসেছে সফটওয়্যার ও এআই থেকে।

অ্যাপল এবার ক্যামেরার হার্ডওয়্যার নিয়ন্ত্রণও বাড়াচ্ছে।

অর্থাৎ শুধু সফটওয়্যার দিয়ে ছবির মান উন্নত করার বদলে ক্যামেরার লেন্স থেকেই আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

ডায়নামিক আইল্যান্ড আরও ছোট

আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্সে ডায়নামিক আইল্যান্ড আগের তুলনায় ছোট করা হয়েছে।

একই সঙ্গে এতে একাধিক লাইভ কার্যক্রমের তথ্য দেখানো যাবে। ফলে খাবার ডেলিভারি, যাতায়াতের তথ্য, খেলাধুলার স্কোর কিংবা অন্যান্য চলমান আপডেট দ্রুত দেখা যাবে।

তবে ডায়নামিক আইল্যান্ড পুরোপুরি বাদ যায়নি।

কারণ ফেস আইডির জন্য প্রয়োজনীয় সেন্সর এখনো সেখানে রয়েছে। তাই অ্যাপল ডাইনামিক আইল্যান্ডের ডিসপ্লের ওপরের অংশ আরও ছোট করলেও পুরোপুরি সরিয়ে ফেলতে পারেনি।

কুলিং ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন

এ২০ প্রো চিপের বাড়তি ক্ষমতা কাজে লাগাতে অ্যাপল কুলিং ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন এনেছে।

নতুন ভ্যাপার চেম্বার কুলিং ব্যবস্থা ফোনের ভেতরের তাপ দ্রুত ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করবে।

এর সুবিধা সবচেয়ে বেশি পাওয়া যাবে দীর্ঘ সময় গেম খেলা, ভিডিও সম্পাদনা কিংবা এআই-ভিত্তিক ভারী কাজ করার সময়।

একটি ফোন কয়েক সেকেন্ডের জন্য খুব দ্রুত হওয়া যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ২০-৩০ মিনিট ধরে একই কাজ করার সময় গতি ধরে রাখা তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

অ্যাপলের নতুন কুলিং ব্যবস্থা মূলত সেই সমস্যার সমাধান করতে চাইছে।

ব্যাটারি ব্যাকআপেও উন্নতি

অ্যাপলের দাবি অনুযায়ী, আইফোন ১৮ প্রো সর্বোচ্চ ৩৬ ঘণ্টা এবং ১৮ প্রো ম্যাক্স সর্বোচ্চ ৪৫ ঘণ্টা ভিডিও চালাতে পারবে।

বিশেষ করে প্রো ম্যাক্সের ব্যাটারি ব্যাকআপ বড় আকর্ষণ হতে পারে।

যারা নিয়মিত গেম খেলেন, ভিডিও দেখেন বা ফোনে দীর্ঘ সময় কাজ করেন, তাদের জন্য এই উন্নতি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

এখানে শুধু ব্যাটারির ক্ষমতা নয়, নতুন চিপের শক্তি সাশ্রয় এবং উন্নত কুলিং ব্যবস্থাও ভূমিকা রাখছে।

আইফোন ডুও – অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডিং আইফোন

apple iphone duo

নতুন এই আইফোন সিরিজের সবচেয়ে বড় চমক সম্ভবত ডুও নয়, কিন্তু সবচেয়ে বড় পরিবর্তন অবশ্যই ডুও।

কারণ এটি অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য বা ফোল্ডিং আইফোন।

বন্ধ অবস্থায় এতে রয়েছে ৫.৪ ইঞ্চির বাইরের ডিসপ্লে। ফোনটি খুললে পাওয়া যাবে ৭.৬ ইঞ্চির বড় ডিসপ্লে।

অর্থাৎ প্রয়োজন অনুযায়ী ফোনটিকে ছোট করে রাখা যাবে, আবার বড় পর্দার কাজের জন্য খুলে নেওয়া যাবে।

এটাই ডুও-এর মূল আকর্ষণ।

বড় ডিসপ্লে দিয়ে কী সুবিধা পাওয়া যাবে?

ফোল্ডিং ফোনের সুবিধা শুধু বড় ডিসপ্লে নয়। বড় ডিসপ্লের কারণে ফোনে নতুন ধরনের কাজ করা যায়।

ডুওতে পাশাপাশি দুটি অ্যাপ চালানো যাবে। ফলে একই সময়ে একটি অ্যাপে তথ্য দেখে অন্য অ্যাপে কাজ করা সহজ হবে।

অ্যাপল পেন্সিলের সমর্থনও রয়েছে।

ফলে ডুও শুধু ভিডিও দেখা বা ওয়েব ব্রাউজিংয়ের জন্য নয়, নোট নেওয়া, ছবি সম্পাদনা, নথি দেখা কিংবা একাধিক কাজ করার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে।

এখানে অ্যাপল ফোন ও ট্যাবলেটের মাঝামাঝি একটি নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করতে চাইছে।

ডুওতে ফেস আইডির বদলে টাচ আইডি

ভাঁজযোগ্য ডিজাইনের কারণে অ্যাপলকে বায়োমেট্রিক ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনতে হয়েছে।

ডুওতে ফেস আইডির বদলে টাচ আইডি ব্যবহার করা হয়েছে। এটি ফোনের সাইড বাটনের সঙ্গে যুক্ত।

অন্যদিকে ভেতরের ডিসপ্লের ক্যামেরা ডিসপ্লের নিচে বসানো হয়েছে।

এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ অ্যাপল এতদিন ফেস আইডিকে আইফোনের অন্যতম প্রধান নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার করেছে। কিন্তু ভাঁজযোগ্য ডিসপ্লের ডিজাইনের কারণে ডুওতে সেই ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

ডুও-এর ক্যামেরা প্রো মডেলের মতো নয়

ডুওতে দুটি ৪৮ মেগাপিক্সেলের পেছনের ক্যামেরা রয়েছে: মূল ও আল্ট্রা-ওয়াইড।

তবে আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্সের মতো উন্নত ক্যামেরা ব্যবস্থা এতে নেই।

তাই যারা ছবি ও ভিডিও ধারণকে বেশি গুরুত্ব দেন, তাদের কাছে প্রো ম্যাক্স বেশি আকর্ষণীয় হতে পারে।

অন্যদিকে ডুও-এর ফোল্ডেবল ডিজাইন ক্যামেরা ব্যবহারে নতুন সুবিধা দেবে। পেছনের ক্যামেরা দিয়ে নিজের ছবি তোলার সময় বাইরের ডিসপ্লেকে ভিউফাইন্ডার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

iPhone duo

একই চিপ, কিন্তু দুই ধরনের অভিজ্ঞতা

আইফোন ১৮ প্রো, প্রো ম্যাক্স ও ডুও – তিনটি মডেলেই এ২০ প্রো চিপ ব্যবহার করা হয়েছে।

এটি অ্যাপলের পণ্য কৌশল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ একটি ইঙ্গিত দেয়।

প্রো ও প্রো ম্যাক্সের লক্ষ্য হলো প্রচলিত স্মার্টফোনের সর্বোচ্চ মানের অভিজ্ঞতা দেওয়া।

অন্যদিকে ডুও একই শক্তিশালী চিপ ব্যবহার করে বড় ডিসপ্লে ও নতুন ধরনের কাজের সুবিধা দিতে চাইছে।

অর্থাৎ অ্যাপল ডুওকে আলাদা কোনো দুর্বল ভাঁজযোগ্য ফোন হিসেবে দেখাতে চাইছে না। বরং এটিকে উচ্চক্ষমতার আইফোনের নতুন সংস্করণ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।

নতুন আইফোনের দাম কত?

যুক্তরাষ্ট্রে আইফোন ১৮ প্রো-এর দাম শুরু হচ্ছে ১,১৯৯ মার্কিন ডলার থেকে

আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম শুরু ১,২৯৯ মার্কিন ডলার থেকে।

অন্যদিকে আইফোন ডুও-এর দাম শুরু হচ্ছে ১,৯৯৯ মার্কিন ডলার থেকে

অর্থাৎ ডুও-এর দাম প্রো মডেলগুলোর চেয়েও অনেক বেশি।

এতে অ্যাপলের নতুন আইফোন কাঠামোও স্পষ্ট:

প্রো → প্রো ম্যাক্স → ডুও

প্রো ও প্রো ম্যাক্স মূলত উচ্চক্ষমতার প্রচলিত আইফোন। আর ডুও হলো নতুন ফোল্ডিং ক্যাটাগরির প্রিমিয়াম আইফোন।

👉 কম দামের আইফোন ১৭ই আনলো অ্যাপল, থাকছে যে সুবিধা

কেন অ্যাপল এখন ভাঁজযোগ্য আইফোন আনল?

অ্যাপল ফোল্ডিং ফোনের বাজারে অনেক দেরিতে এসেছে।

স্যামসাংসহ বিভিন্ন কোম্পানি কয়েক বছর ধরে ভাঁজযোগ্য ফোন বিক্রি করছে। কিন্তু অ্যাপল এতদিন এই বাজারে প্রবেশ করেনি।

এর পেছনে প্রযুক্তিগত কারণ থাকার সম্ভাবনাই বেশি। ভাঁজযোগ্য ফোন তৈরি করতে শুধু ডিসপ্লে ভাঁজ করার প্রযুক্তি যথেষ্ট নয়।

হিঞ্জ, ডিসপ্লের স্থায়িত্ব, ব্যাটারি, তাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সফটওয়্যার, সবকিছুকে একসঙ্গে কাজ করতে হয়।

তবে ব্যবসায়িক কারণও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রচলিত স্মার্টফোনে প্রতি বছর বড় ধরনের পরিবর্তন আনা কঠিন হয়ে উঠছে। ক্যামেরা ভালো হচ্ছে, চিপ দ্রুত হচ্ছে, ব্যাটারি উন্নত হচ্ছে। কিন্তু ফোনের মূল ডিজাইন একই রয়ে গেছে।

ভাঁজযোগ্য আইফোন সেই জায়গাতেই নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

আইফোন ডুও-এর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কী?

ডুও যতটা আকর্ষণীয়, এর সামনে ঝুঁকিও কম নয়।

দাম

প্রায় ২ হাজার মার্কিন ডলারের স্টার্টিং প্রাইস সাধারণ ক্রেতার জন্য অনেক বেশি। ফলে ডুও শুরুতে সীমিতসংখ্যক ক্রেতার কাছেই পৌঁছাতে পারে।

স্থায়িত্ব

ভাঁজযোগ্য ডিসপ্লে ও এর কাঠামো সাধারণ ফোনের ডিসপ্লের চেয়ে বেশি জটিল। দীর্ঘদিন ব্যবহারে এগুলো কতটা টেকসই থাকবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

মেরামতের খরচ

ভাঁজযোগ্য ডিসপ্লে ক্ষতিগ্রস্ত হলে মেরামতের খরচ সাধারণ আইফোনের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে।

অ্যাপের সমর্থন

অ্যাপলের নিজস্ব অ্যাপ বড় ডিসপ্লের জন্য প্রস্তুত থাকলেও অন্য সব অ্যাপ একইভাবে প্রস্তুত থাকবে কি না, তা সময়ের সঙ্গে বোঝা যাবে।

ক্যামেরা

যারা ক্যামেরাকে আইফোন কেনার প্রধান কারণ হিসেবে দেখেন, তাদের জন্য প্রো ম্যাক্স এখনো বেশি আকর্ষণীয় হতে পারে।

অ্যাপলের প্রবেশে ফোল্ডিং ফোনের বাজারে কী বদলাবে?

অ্যাপল ভাঁজযোগ্য ফোনের বাজারে প্রবেশ করায় এই প্রযুক্তি আরও বেশি মানুষের নজরে আসবে।

অ্যাপলের বিশাল ইউজারবেজ এবং শক্তিশালী অ্যাপ ইকোসিস্টেমের কারণে ভাঁজযোগ্য ফোনের জন্য আরও বেশি অ্যাপ ও আনুষঙ্গিক পণ্য তৈরি হতে পারে।

ডুও সফল হলে স্যামসাংসহ অন্যান্য নির্মাতাদের ওপর আরও পাতলা, হালকা ও উন্নত ভাঁজযোগ্য ফোন তৈরির চাপ বাড়বে।

আর ডুও ব্যর্থ হলে উচ্চমূল্যের ভাঁজযোগ্য ফোন নিয়ে অ্যাপলের কৌশল প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

তাই ডুও-এর সাফল্য শুধু অ্যাপলের জন্য নয়, পুরো ভাঁজযোগ্য ফোনের বাজারের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স নাকি ডুও? কোনটি আপনার জন্য?

যদি আপনার কাছে ক্যামেরা, ব্যাটারি ব্যাকআপ ও সর্বোচ্চ গতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স বেশি যুক্তিসঙ্গত পছন্দ।

আর যদি বড় ডিসপ্লে, একসঙ্গে একাধিক কাজ এবং ফোন ও ট্যাবলেটের সুবিধা একই ডিভাইসে চান, তাহলে আইফোন ডুও বেশি আকর্ষণীয়।

সহজ করে বললে:

প্রো ম্যাক্স হলো প্রচলিত আইফোনের সবচেয়ে শক্তিশালী সংস্করণ।

ডুও হলো আইফোনের ভবিষ্যৎ ডিজাইন নিয়ে অ্যাপলের বড় পরীক্ষা।

বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য কী জানা জরুরি?

যুক্তরাষ্ট্রে ঘোষিত দাম বাংলাদেশের বাজারদর নয়। আমদানি খরচ, কর, পরিবহন, বিক্রেতার মুনাফা এবং বাজারের চাহিদার কারণে দেশে ফোনগুলোর দাম আরো বেশি হবে।

বিশেষ করে ডুও কেনার আগে শুধু ফোনের দাম দেখলে হবে না।

ভাঁজযোগ্য ডিসপ্লে ও কবজার মেরামত সুবিধা, যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা এবং বিক্রয়োত্তর সেবা – এসব বিষয়ও বিবেচনায় রাখা জরুরি।

বাংলাদেশের বাজারে ভাঁজযোগ্য ফোনের ক্ষেত্রে মেরামত খরচ ও যন্ত্রাংশ পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।

ভবিষ্যতের আইফোন কি ফোনের চেয়েও বেশি কিছু হবে?

আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্স দেখাচ্ছে, অ্যাপল এখনো প্রচলিত স্মার্টফোনকে আরও শক্তিশালী করার দিকে এগোচ্ছে।

কিন্তু আইফোন ডুও আরও বড় একটি সম্ভাবনার দরজা খুলেছে।

একটি ফোন যদি প্রয়োজনের সময় খুলে বড় ডিসপ্লের ডিভাইসে পরিণত হয়, তাহলে আলাদা ট্যাবলেট বহনের প্রয়োজন কতটা থাকবে?

এই প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।

তবে ডুও সফল হলে অ্যাপলের জন্য এটি শুধু আরেকটি আইফোন মডেল হবে না। এটি আইফোনের পরবর্তী প্রজন্মের ডিজাইনের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

FAQ – সাধারণ জিজ্ঞাসা

আইফোন ১৮ প্রো-এর দাম কত?

যুক্তরাষ্ট্রে আইফোন ১৮ প্রো-এর দাম শুরু ১,১৯৯ মার্কিন ডলার থেকে। ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম শুরু ১,২৯৯ মার্কিন ডলার থেকে।

আইফোন ডুও-এর দাম কত?

আইফোন ডুও-এর দাম শুরু ১,৯৯৯ মার্কিন ডলার থেকে।

আইফোন ডুও-এর ডিসপ্লে কত বড়?

বন্ধ অবস্থায় বাইরের ডিসপ্লে ৫.৪ ইঞ্চি এবং খুললে ভেতরের ডিসপ্লে ৭.৬ ইঞ্চি।

আইফোন ১৮ প্রো-তে কোন চিপ ব্যবহার করা হয়েছে?

আইফোন ১৮ প্রো ও ১৮ প্রো ম্যাক্সে অ্যাপলের নতুন এ২০ প্রো চিপ ব্যবহার করা হয়েছে।

আইফোন ডুওতেও কি এ২০ প্রো রয়েছে?

হ্যাঁ। আইফোন ডুওতেও এ২০ প্রো চিপ ব্যবহার করা হয়েছে।

আইফোন ১৮ প্রো-এর ক্যামেরায় কী নতুন?

৪৮ মেগাপিক্সেলের মূল ক্যামেরায় পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার এসেছে। এর ফলে আলো নিয়ন্ত্রণ এবং ছবি তোলার ক্ষেত্রে আরও বেশি সুবিধা পাওয়া যাবে।

আইফোন ডুওতে কি ফেস আইডি আছে?

না। আইফোন ডুওতে ফেস আইডির বদলে টাচ আইডি ব্যবহার করা হয়েছে।

আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্স কবে বাজারে আসবে?

অ্যাপলের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, প্রি-অর্ডার শুরু হবে ১২ সেপ্টেম্বর এবং বিক্রি শুরু হবে ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

আইফোন ডুও কবে বাজারে আসবে?

আইফোন ডুও-এর প্রি-অর্ডার শুরু হবে ১৬ অক্টোবর এবং বিক্রি শুরু হবে ২৩ অক্টোবর ২০২৬।

শেষ কথা

অ্যাপলের নতুন আইফোন সিরিজের সবচেয়ে বড় খবর শুধু নতুন চিপ বা উন্নত ক্যামেরা নয়।

এবার অ্যাপল একই সঙ্গে দুটি পথে এগোচ্ছে।

আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্স প্রচলিত আইফোনকে আরও শক্তিশালী করছে। আর আইফোন ডুও চেষ্টা করছে আইফোনের চেনা নকশাই বদলে দিতে।

তাই এবারের আইফোন নিয়ে আসল প্রশ্ন শুধু কত দ্রুত বা কত ভালো ক্যামেরা তা নয়।

আসল প্রশ্ন হলো, মানুষ কি এমন একটি ফোন চাইবে, যেটি প্রয়োজনের সময় খুলে ট্যাবলেটের মতো ব্যবহার করা যায়?

আইফোন ডুও-এর সাফল্য সেই প্রশ্নের উত্তর দেবে।

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 8,300 other subscribers

আরাফাত বিন সুলতান
আরাফাত বিন সুলতান

আমি আরাফাত, Banglatech24.com এর প্রতিষ্ঠাতা এবং একজন প্রযুক্তি কনটেন্ট ক্রিয়েটর। পড়াশোনা করেছি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিবিএ - ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, এমবিএ - ফিন্যান্স)। গত ১২ বছরের বেশি সময় ধরে আমি প্রযুক্তি, স্মার্টফোন, ফিনটেক এবং ডিজিটাল লাইফস্টাইল নিয়ে কাজ করছি। পাশাপাশি YouTube-এ ওয়ার্ডপ্রেস টিউটোরিয়াল ও টেক গাইড শেয়ার করি। প্রযুক্তিকে সহজভাবে উপস্থাপন করে ব্যবহারকারীদের জন্য বাস্তবসম্মত তথ্য পৌঁছে দেওয়াই আমার লক্ষ্য।

Articles: 2303

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমাদের যেকোনো প্রশ্ন করুন!

Discover more from Banglatech24.com

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading