বিশ্বের সেরা ১০ স্মার্টফোন (২০১৮)

গতবছর স্মার্টফোনের রাজ্যে বেজেললেস ডিসপ্লে কিংবা নচ এর মত নতুন কিছু ডিজাইন ট্রেন্ড এসেছিল। সেই সাথে ডুয়াল ক্যামেরায় বোকেহ ইফেক্ট অথবা ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার করার ফিচারটিও খুব হাইপ তৈরি করেছিল। ২০১৮ সালে এসে এই ফিচারগুলোরই একটু উন্নত রূপ দেখা যাচ্ছে ফোনগুলোতে।

তো চলুন এক নজরে ২০১৮ সালে এখন পর্যন্ত বাজারে আসা বিশ্বের সেরা ১২ টি স্মার্টফোন দেখে নিই।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 2,641 other subscribers

আপডেটঃ অক্টোবর ০২, ২০১৮

১২. শাওমি মি ৮

তালিকার ১২ নম্বরেই থাকবে শাওমির ফ্ল্যাগশিপ মি ৮। খুবই অল্প লাভে কম মূল্যে গ্রাহকদেরকে স্মার্টফোন দেয়ার জন্য শাওমি উন্নয়নশীল দেশগুলোতে খুবই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তাদের ফ্ল্যাগশিপ ফোনের চেয়ে মিড রেঞ্জ ফোনগুলোই বেশি জনপ্রিয়। তবে শাওমির এখন পর্যন্ত সর্বশেষ ফ্ল্যাগশিপ মি৮ কম দামে খুবই ভালো স্পেসিফিকেশন নিয়ে এসেছে, যেমন- কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগনের ফ্ল্যাগশিপ ৮৪৫ চিপসেট, ৮ জিবি পর্যন্ত র‍্যাম, ১২৮ জিবি পর্যন্ত স্টোরেজ। আরও আছে ৬.২ ইঞ্চি নচওয়ালা ওলেড ডিসপ্লে যার সামনের দিকে আইআর সেন্সরযুক্ত ২০ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা। পিছনের দিকে আছে দুটি ১২ মেগাপিক্সেলের সেন্সর। আর ফোনটির পাওয়ার সোর্স হিসেবে আছে ৩৪০০ মিলিএম্প এর লিপো ব্যাটারি।

১১. ওয়ানপ্লাস ৬

ওয়ানপ্লাস অনেক কম খরচে অন্যান্য কোম্পানির প্রায় ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের স্পেসিফিকেশন দিয়ে বাজারে নাম করেছে। তাদের সর্বশেষ সংযোজন ওয়ানপ্লাস ৬ এ আছে স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ প্রসেসর, ৮ জিবি র‍্যাম, ২৫৬ জিবি স্টোরেজ আর ৩৩০০ মিলিএম্প এর ব্যাটারি। ৬.৩ ইঞ্চি ফুল এইচডি প্লাস ডিসপ্লে এর ফোনটির পেছনে আছে ১৬ ও ২০ মেগাপিক্সেলের দুটি ক্যামেরা আর সামনে ১৬ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা।

১০. এলজি জি৭ থিংক

কোয়ালিটি ক্যামেরা আর সলিড পারফরমেন্স এর জন্য এলজির ফ্ল্যাগশিপগুলো ভালোই জনপ্রিয়। তাদের লেটেস্ট ফ্ল্যাগশিপ জি ৭ এর নামের সাথে থিংক যুক্ত করা হয়েছে কারণ এতে অ্যাডভান্সড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহৃত হয়েছে বলে এলজি জানিয়েছে। ৬.১ ইঞ্চির কিউএইচডি প্লাস ডিসপ্লের ফোনটির পেছনে ১৬ মেগাপিক্সেলের দুটি ও সামনে ৮ মেগাপিক্সেলের একটি সেন্সর আছে। স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ চিপ ও ৪ জিবি র‍্যাম’কে পাওয়ার দেয়ার জন্য আছে ৩০০০ মিলিএম্প এর ব্যাটারি। ৬৪ জিবি পর্যন্ত ইনবিল্ট স্টোরেজও আছে এতে।

৯. অপো ফাইন্ড এক্স

ফোনটি ২০১৮ সালে রিলিজ পাওয়া অন্যান্য ফোনগুলোর থেকে একটু আলাদা। এখনো পর্যন্ত এই ফোনটির স্ক্রিন টু বডি রেশিও সবচেয়ে বেশি। ফুল ভিউ ডিসপ্লে হলেও থাকছে না কোন নচ বা চিন্‌। বরং অভিনব কায়দায় এর ফ্রন্ট ক্যামেরাটি স্লাইড করে বের হয়। এতে থাকছে স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ চিপ, ৮ জিবি র‍্যাম ও ৫১২ জিবি স্টোরেজ। ৬.৪ ইঞ্চি ডিসপ্লের ফোনটিতে ব্যাটারি দেয়া হয়েছে ৩৭৩০ মিলিএম্প এর। এর সেলফি ক্যামেরাটি ২৫ মেগাপিক্সেল। পিছনে আছে ২০ ও ১৬ মেগাপিক্সেল দুটি সেন্সর।

৮. সনি এক্সপেরিয়া এক্সজেড ৩

অন্যান্য কোম্পানির ফোনের ভিড়ে সনির স্মার্টফোনগুলো অনেকটা আন্ডাররেটেড-ই বলা যায়। তবে বরাবরের মতই সনির লেটেস্ট ফ্ল্যাগশিপ এক্সজেড ৩ পাওয়ার আর প্রিমিয়ামনেস এর রিয়েল কম্বিনেশন বলা যায়। স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫, ৪ জিবি র‍্যাম, ৬৪ জিবি এক্সপান্ডেবল স্টোরেজ আর ৩৩৩০ মিলিএম্প এর ব্যাটারি নিয়ে এসেছে এটি। তুলনামূলক মোটা চিন থাকলেও ফ্রন্ট ফেসিং স্টেরিও স্পিকার এতে নতুন মাত্রার মিডিয়া এক্সপেরিয়েন্স দিবে। সাথে আছে এইচডিআর ১০ সাপোর্টেড ৬ ইঞ্চি ওলেড ডিসপ্লে। সিঙ্গেল ক্যামেরা সেন্সর থাকলেও এর ১৯ মেগাপিক্সেল সেন্সরটি অনেক ভালো ছবি তোলে। সাথে আছে ১৩ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা।

৭. স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৯

এই বছরের প্রথম কোয়ার্টারে মুক্তি পায় ফোনটি। এতে স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ এর সাথে আছে ৬ জিবি পর্যন্ত র‍্যাম। এর ৫.৮ ইঞ্চি ১৪৪০পি ডিসপ্লেতে কোন নচ নেই। স্টোরেজ অপশন ৬৪ জিবি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ, যদিও মেমোরি কার্ড ব্যবহার করে বাড়ানো যাবে। ১২ মেগাপিক্সেলের ভ্যারিয়েবল এপারচার ক্যামেরা ও ৮ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা দেয়া আছে এতে। আরও আছে ৩০০০ মিলিএম্প এর ব্যাটারি। হ্যান্ডসেটটি আইপি ৬৮ রেটেড পানিরোধী বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। গ্যালাক্সি এস৯ এর বিস্তারিত তথ্য এখানে দেখুন

৬. স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৯+

গ্যালাক্সি এস ৯ ফোনের বড় সংস্করণ এটি। এতে তুলনামূলক বড় ৬.২ ইঞ্চির ডিসপ্লে ও ৩৫০০ মিলিএম্প ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়েছে। সাথে ক্যামেরা মডিউলেও পরিবর্তন এসেছে। এস৯ এর সিঙ্গেল ক্যামেরার পরিবর্তে এর পিছনে রয়েছে ১২+১২ মেগাপিক্সেলের ডুয়াল ক্যামেরা সেটআপ। যারা বড় ডিভাইস পছন্দ করেন তাদের কথা মাথায় রেখেই এই ভ্যারিয়েন্ট আনা হয়েছে। স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৯+ এর বিস্তারিত ফিচার ও স্পেসিফিকেশন জানতে এই লিংক ক্লিক করুন

৫. আইফোন ১০ আর (XR)

অ্যাপলের ভাষ্য অনুযায়ী এটা তাদের ফ্ল্যাগশিপ আইফোম ১০এস ম্যাক্স এবং ১০এস এরই সুলভ ভার্সন। আসলেও তাই। অপেক্ষাকৃত কম দামে পাবেন আইফোন ১০ আর। এটি লাল, নীল, হলুদসহ বেশ কয়েকটি রঙে পাওয়া যাবে। ফ্ল্যাগশিপ ১০এস ম্যাক্স এবং ১০এস এর সাথে ১০আর এর প্রধান পার্থক্য হলো ডিসপ্লে এবং ক্যামেরা মডিউলে। এতে ডিসপ্লে হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যের লিকুইড রেটিনা ডিসপ্লে। আর ক্যামেরা হিসেবে আছে সিঙ্গেল ক্যামেরা মডিউল। তবে এর সিঙ্গেল ক্যামেরাতেও ডুয়াল ক্যামেরার মতই বোকেহ্‌ ইফেক্ট পাওয়া যাবে বলে দাবি করছে অ্যাপল। আইফোন ১০আর সম্পর্কে বিস্তারিত এই লিংকে দেখুন

৪. হুয়াওয়ে পি২০ প্রো

এর পর আসছে হুয়াওয়ে’র ফ্ল্যাগশিপ পি২০ প্রো। তাদের পি সিরিজটি ক্যামেরা ফোন হিসেবেই পরিচিত। ব্যতিক্রম নেই পি ২০প্রো’তেও। এতে একটি নয়, দুইটি নয়, রয়েছে তিন তিনটি ব্যাক ক্যামেরা। সাথে রয়েছে বেজেললেস নচযুক্ত স্টাইলিশ ডিজাইন এবং তাদের নিজেদের পাওয়ারফুল কিরিন ৯৭০ সিস্টেম অন চিপ। এটিই প্রথম ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা সম্বলিত ফোন। ৬ জিবি র‍্যাম ও ১২৮ জিবি স্টোরেজের এই ফোনে আছে ৬.১ ইঞ্চি ফুল এইচডি প্লাস ডিসপ্লে। সাথে পাওয়ারফুল ৪০০০ মিলিএম্প এর ব্যাটারি ও আছে।

৩. স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৯

স্যামসাং এর ফ্ল্যাগশিপ বিজনেস সিরিজ এর লেটেস্ট ফোন হলো গ্যালাক্সি নোট ৯। স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ প্রসেসরের এই ফোনটিতে রয়েছে ৬.৪ ইঞ্চি সুপার এমোলেড ১৪৪০পি ডিসপ্লে। প্রায় সব কোম্পানিই নচযুক্ত ডিসপ্লের দিকে ঝুঁকলেও স্যামসাং বরাবরের মতই কোন নচ রাখেনি গ্যালাক্সি নোট ৯ ফোনে। কিছু উন্নয়ন ছাড়া এর স্পেসিফিকেশন অনেকটা গ্যালাক্সি এস ৯ প্লাসের মতই। দুটি ১২ মেগাপিক্সেল ব্যাক ও একটি ৮ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা সেন্সর নিয়ে এসেছে এটি। ফ্ল্যাগশিপগুলোর ব্যাটারি ক্যাপাসিটি সাধারণত অন্যান্য ম্যানুফ্যাকচারাররা কম দিলেও স্যামসাং এতে ৪০০০ মিলিএম্প এর ব্যাটারি দিতে কোন কার্পণ্য করেনি। ফোনটিতে ৮ জিবি পর্যন্ত র‍্যাম ও ৫১২ জিবি পর্যন্ত ইনবিল্ট স্টোরেজ এবং একই সাথে মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট আছে। নোট সিরিজের অন্যতম ফিচার এস পেন এর উন্নত সংস্করণও যুক্ত আছে এতে।

২. আইফোন টেন এস (XS)

মজার ব্যাপার হলো, গত বছর রিলিজ হওয়া আইফোন ১০ থেকে প্রসেসর বাদে খুব বেশি কোনো উন্নয়ন না থাকা সত্বেও ফিচার ও চাকচিক্য দিয়ে অন্য যে কোনো স্মার্টফোন থেকে এটি এগিয়ে আছে। ৫.৮ ইঞ্চি সাইজের অ্যাপলের বিখ্যাত সুপার রেটিনা ডিসপ্লে নিয়ে এসেছে আইফোন ১০এস, যা একই সাথে এইচডিআর ও থ্রিডি টাচ সাপোর্টেড। এর সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হচ্ছে এ১২ বায়োনিক চিপ যা লেটেস্ট এন্ড্রয়েড ফ্ল্যাগশিপ গুলোতে ব্যবহৃত স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ চিপ থেকে বেশি শক্তিশালী। ৪ জিবি র‍্যাম ও ৫১২ জিবি পর্যন্ত স্টোরেজ অপশন আছে আইফোন ১০এস এ। সাথে প্রথমবারের মত কোন অ্যাপল ফোনে ডুয়াল সিম ক্যাপাবিলিটিও নিয়ে আসছে এটি। স্টেইনলেস স্টিল ফ্রেম ও গ্লাস-ফিনিশ বডির পিছনের দিকে রয়েছে ডুয়াল ক্যামেরা সেটআপ। পাশাপাশি এটি আইপি ৬৮ রেটেড পানিরোধী বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। রয়েছে আগের আইফোনগুলো থেকে অধিক ব্যাটারি ক্যাপাসিটি। সাথে ওয়ারলেস চার্জিং তো আছেই। আইফোন ১০এস সম্পর্কে বিস্তারিত এই লিংকে দেখুন

১. আইফোন ১০এস ম্যাক্স (XS Max)

চলে এলাম তালিকার এক নম্বরে থাকা সেরা স্মার্টফোনটির কাছে। সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে দাম হওয়া সত্বেও নির্দ্বিধায় আইফোন ১০এস ম্যাক্স কে বছরের সেরা স্মার্টফোনের খেতাব দেয়া যায়। এটি আইফোন ১০এস ফোনটিরই বড় সংস্করণ। তবে শক্তি সামর্থের দিক থেকে ১০এস এর মতই। একই প্রসেসর ও ক্যামেরা মডিউল ব্যবহৃত হয়েছে উভয় ফোনে। শুধু ডিসপ্লেটা একটু বড় করে ৬.৫ ইঞ্চির দেয়া হয়েছে। সাথে ব্যাটারি ক্যাপাসিটিও একটু বেশি রাখা হয়েছে। যারা একটু বড় স্মার্টফোন পছন্দ করেন তারা আইফোন ১০এসের বিকল্প হিসেবে এই আইফোন ১০এস ম্যাক্স নিতে পারেন। আইফোন ১০এস ম্যাক্স সম্পর্কে বিস্তারিত এই লিংকে দেখুন

আপনি অনলাইনে যতগুলো স্মার্টফোন র‍্যাংকিং পাবেন, তা একটা আরেকটার সাথে মিলবেনা। এমনকি আপনার নিজের বিবেচনায়ও হয়ত আলাদা র‍্যাংকিং চলে আসবে। এই তালিকায় থাকা প্রতিটি ফোনই অসাধারণ। বিক্রেতাভেদে এদের দাম ভিন্ন হতে পারে। বাংলাটেক টোয়েন্টিফোর ডটকম থেকে প্রযুক্তি বিষয়ক আরো অনেক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইল ইনবক্সে পেতে এখানে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করে নিন।

তো, আপনার দৃষ্টিতে ২০১৮ এর সেরা ফোন কোনটি? কমেন্টে জানিয়ে দিন! ধন্যবাদ।

আমাদের ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুন!

     
প্রযুক্তির সব তথ্য জানতে ভিজিট করুন www.banglatech24.com সাইট। নতুন পোস্টের নোটিফিকেশন ইমেইলে পেতে এই লিংকে গিয়ে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Comments