Advertisements

বাংলাদেশে পেপাল ব্যবহারের বিপদগুলো জেনে নিন

By -

paypal logo img

পেপাল হচ্ছে অনলাইনে কেনাকাটা কিংবা অর্থ লেনদেন করার জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সহজ একটি মাধ্যম। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশে পেপাল উপলভ্য নয়। অর্থাৎ এই মুহুর্তে আপনি বাংলাদেশের ঠিকানা ব্যবহার করে পেপাল একাউন্ট খুলতে পারবেন না। তবে পেপাল সাপোর্ট করে এমন অন্য কোনো দেশ, যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ঠিকানা ব্যবহার করে পেপাল একাউন্ট ওপেন করা সম্ভব। অনেকে ফেইক ঠিকানা ব্যবহার করে ভার্চুয়াল ব্যাংক একাউন্ট ও ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের সাহায্যে পেপাল একাউন্ট খুলে থাকেন। এসব পেপাল একাউন্ট পুরোপুরি ভেরিফাই করাও সম্ভব, তবে ঝুঁকি থেকেই যায়। কী সেগুলো?

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 1,148 other subscribers

  • সাধারণত পেপাল একাউন্ট খোলার সময় কোম্পানিটি ব্যক্তিগত তথ্যের প্রমাণ বাধ্যতামূলকভাবে চায় না। কিন্তু পেপালে মোটামুটি বড় কোনো অ্যামাউন্ট লেনদেন করার পর এটি হুট করে আপনার ফটো আইডির স্ক্যানড্‌ কপি চাইতে পারে। আপনার একাউন্টটি যদি ভুয়া তথ্য দিয়ে খোলা থাকে, তখন ফটো আইডি কোথায় পাবেন? আর সেই মুহুর্তে আপনার পেপাল একাউন্টে যদি টাকা (অর্থ) থাকে তা হোল্ড করে রাখতে পারে পেপাল।
  • আপনার পেপাল একাউন্টটি যদি সম্পূর্ণ সঠিক তথ্য দিয়ে বৈধভাবে খোলা থাকে, তারপরও বাংলাদেশ থেকে সেটি ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ। যেহেতু বাংলাদেশ এখনও অফিসিয়ালভাবে পেপালের লেনদেন তালিকায় নেই, তাই এখানকার আইপি এড্রেস ব্যবহার করে বেশ কয়েকবার পেপালে লগইন বা এর মাধ্যমে লেনদেন করলে তা আমলে নেয় সার্ভিসটি। আপনার একাউন্টটি সত্যিই বৈধভাবে খোলা কিনা তা যাচাই করার জন্য পেপাল আপনার একাউন্ট সম্পর্কিত বাড়তি তথ্য চাইতে পারে। যেমন এটি আপনার ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা ইউটিলিটি বিলের স্ক্যান করা কপি চাইবে। সেগুলো না দিয়ে পারলে একাউন্ট লিমিটেড (সীমিত) হয়ে যাবে।
  • বাইরের দেশের ঠিকানা ব্যবহার করে খোলা পেপাল দিয়ে কোনো কিছু কিনতে গেলে চেকআউটের সময় বিলিং অ্যাড্রেস সেই দেশের ঠিকানাই শো করবে। আপনি এই ঠিকানা প্রতিবার শপিংয়ের সময় এডিট করতে পারেন, তবে এটা পেপালের দিক থেকে খুব বেশি ভাল দৃষ্টিতে নাও দেখা হতে পারে।
  • কিছু কিছু কোম্পানি পেপাল পেমেন্ট রিসিভ করার পর বিলিং এড্রেসে দেয়া তথ্য অনুযায়ী আপনার প্রোফাইল তৈরি করে। যেমন, হোস্টিং সেবাদাতা কোম্পানি ডিজিটাল ওশান এর কথাই ধরুন। আপনি যদি প্রথমবার পেপাল দিয়ে ডিজিটাল ওশানে বিল পরিশোধ করেন, তাহলে ডিজিশাল ওশান আপনার পেপাল একাউন্টে দেয়া তথ্য অনুযায়ী আপনার প্রোফাইল তৈরি করবে। এখন আপনি যদি ইউএস ঠিকানা দিয়ে পেপাল খুলে থাকেন, তাহলে ডিজিটাল ওশানেও আপনার কান্ট্রি যুক্তরাষ্ট্র শো করবে। ডিজিটাল ওশানে এটা পরিবর্তন করা যায়, তবে সেক্ষেত্রে আপনার ফটো আইডি কার্ড হাতে নিয়ে সেলফি তুলে ডিজিটাল ওশানে আপলোড করতে হবে। অন্যথায় আপনার ডিজিটাল ওশান একাউন্ট ব্লক হয়ে যাবে। একজন ওয়েবমাস্টারের নিকট তার হোস্টিং/ডোমেইন ম্যানেজমেন্ট একাউন্ট ব্লক হয়ে যাওয়ার মত হতাশাজনক পরিস্থিতি আর হতেই পারেনা। সুতরাং সাবধান!

 

বাংলাদেশে পেপাল কবে আসবে তা এখনও নিশ্চিত নয়

 

  • ভুয়া তথ্য দিয়ে পেপাল খুললে একটা মিথ্যা ঢাকার জন্য আপনাকে ডজন ডজন মিথ্যার আশ্রয় নিতে হবে। হ্যাঁ, আমি খুব ভালভাবেই জানি পেপাল একাউন্টের গুরুত্ব কত বেশি। অনেকেই ভার্চুয়াল ব্যাংক ও কিছুটা ট্রিকি উপায়ে ঠিকানা দিয়ে পেপাল একাউন্ট খুলে ব্যবহার করছেন। এর ফলে অর্থের অবৈধ লেনদেনের ঝুঁকি থাকতে পারে। এছাড়া বৈধভাবে অন্যদেশ থেকে পেপাল খুলে বাংলাদেশে বসে ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও সাবধানতা অবলম্বন করা দরকার। সেক্ষেত্রে ভিপিএন (ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক) এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট একাউন্টের হোম কান্ট্রির আইপি এড্রেস দিয়ে পেপালে লগইন করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন অনেকেই। যদিও এতে তথ্য চুরি হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। মূলকথা হচ্ছে আপনার যদি পেপালে দেয়া তথ্যের সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্ট বাস্তবে থেকে থাকে তাহলে একাউন্ট লিমিটেড হলেও ডকুমেন্টগুলো সাবমিট করে একাউন্ট ফিরে পেতে পারেন। সেক্ষেত্রে আইপি এড্রেসের ব্যাপারটা (ট্রাভেলার হিসেবে) পেপাল ইগনোর করলেও করতে পারে। সাপোর্টে যোগাযোগ করে সবকিছু বুঝিয়ে বলতে হবে।
  • পেপাল একাউন্ট খোলা সহজ, কিন্তু একাউন্টটি টিকিয়ে রাখা কঠিন- অন্তত এই পোস্টের প্রেক্ষিতে এই কথাটা খুবই প্রযোজ্য। অনেকেই পেওনিয়ার দিয়ে পেপাল একাউন্ট ভেরিফাই করেছেন। সেসব পেপাল একাউন্টের সুরক্ষার জন্য আমার এ সম্পর্কিত পোস্টটি অবশ্যই পড়ে দেখুন।
  • এই মুহুর্তে পেপালের পুরোপুরি বিকল্প কোনো সেবা আমাদের গ্রহে নেই। কিন্তু অনলাইনে কেনাকাটার জন্য পেওনিয়ার হতে পারে পেপালের ভাল বিকল্প। কেননা পেওনিয়ারে মাস্টারকার্ড ডেবিট কার্ড পাওয়া যায় যার মাধ্যমে অনলাইনে বিল পরিশোধ করা যায় সহজেই। এজন্য পেওনিয়ারে একাউন্ট খোলার সময় অবশ্যই প্রিপেইড মাস্টারকার্ড কার্ড নেয়ার অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে। পেওনিয়ার একাউন্ট খুলতে চাইলে আপনার কম্পিউটার থেকে এই লিংক ভিজিট করুন (আমার দেয়া লিংক থেকে পেওনিয়ার একাউন্ট খুলে সাথে পেতে পারেন ২৫ ডলার বোনাস)!

অনলাইনে অর্থ লেনদেনের বৈধ ও নিরাপদ উপায় নিয়ে ভবিষ্যতে আরও আলোচনার প্রত্যাশা রইল। সে পর্যন্ত সাথেই থাকুন। আমার ভবিষ্যতের পোস্টগুলো সম্পর্কে নোটিফিকেশন পেতে ইমেইলে সাবস্ক্রাইব করুন। ধন্যবাদ!

Advertisements

Comments

Leave a Reply