শাওমি রেডমি প্রো স্মার্টফোন রিভিউ

By -

redmi-pro-img

গত কয়েক মাসে শাওমি বেশ কিছু নতুন মডেলের স্মার্টফোন লঞ্চ করেছে। এদের মধ্যে রেডমি নোট ৪, রেডমি প্রো, এমআই ৫এস, এমআই মিক্স প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। আগস্ট ২০১৬’তে বাজারে আসা রেডমি প্রো স্মার্টফোনটি শাওমির প্রথম ফোন যার পেছনের দিকে দুটি ক্যামেরা রয়েছে। আর সামনের দিকে সেলফি ক্যামেরা তো থাকছেই। এছাড়া এতে আছে অ্যামোলেড ডিসপ্লে। রেডমি প্রো হচ্ছে শাওমির প্রথম অ্যামোলেড ডিসপ্লে সমৃদ্ধ ফোন। আরও আছে ইউনিবডি মেটাল কাঠামো। ফোনটির সামনের দিকে হোম বাটনের সাথে রয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর। আমি গত এক মাসের বেশি সময় ধরে একটি শাওমি রেডমি প্রো ফোন ব্যবহার করছি। এখানে আমার অভিজ্ঞতা তুলে ধরছি।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 1,332 other subscribers

 

প্রথমেই ডিভাইসটির বিস্তারিত স্পেসিফিকেশন জানিয়ে দিচ্ছিঃ

  • ৫.৫ ইঞ্চি এলটিপিএস অ্যামোলেড ডিসপ্লে (১০৮০ x ১৯২০পি রেস্যুলেশন, ৪০১পিপিআই)। ১৬ মিলিয়ন কালার।
  • এন্ড্রয়েড ৬ মার্সম্যালো ওএস, এমআইইউআই ৮
  • ১০ কোর বিশিষ্ট মিডিয়াটেক প্রসেসর।
  • তিনটি আলাদা ভ্যারিয়েশন। ৩২জিবি স্টোরেজ + ৩জিবি র‍্যাম বিশিষ্ট ভ্যারিয়েশনে মিডিয়াটেক হেলিও এক্স২০ (২.১ গিগাহার্টজ) প্রসেসর (স্ট্যান্ডার্ড এডিশন)। ৬৪জিবি স্টোরেজ + ৩জিবি র‍্যাম বিশিষ্ট ভ্যারিয়েশনে মিডিয়াটেক হেলিও এক্স২৫ (২.৫ গিগাহার্টজ) প্রসেসর (হাই এডিশন)। ১২৮জিবি স্টোরেজ + ৪জিবি র‍্যাম বিশিষ্ট ভ্যারিয়েশনে মিডিয়াটেক হেলিও এক্স২৫ (২.৫ গিগাহার্টজ) প্রসেসর (এক্সক্লুসিভ এডিশন)।
  • মালি টি৮৮০ এমপি৪ জিপিইউ
  • হাইব্রিড মাইক্রোএসডি কার্ড স্লট, ১২৮জিবি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যাবে (সেক্ষেত্রে সিম ২ ব্যবহার করা যাবেনা)
  • ফোনের পেছন দিকে মূল ক্যামেরায় দুটি লেন্স। একটি ১৩ মেগাপিক্সেল ও অপরটি ৫ মেগাপিক্সেল (f/2.0)। ফ্রন্ট ক্যামেরা ৫ মেগাপিক্সেল(f/2.0)। এগুলো ফুল এইচডি ভিডিও রেকর্ড করতে সক্ষম
  • ডুয়াল সিম সাপোর্ট, হোম বাটনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, ফোরজি, ওয়াইফাই, ব্লুটুথ ৪, ইউএসবি-সি পোর্ট (ওটিজি সাপোর্ট), ইনফ্রারেড রিমোট
  • ফোনটির ওজন ১৭৪ গ্রাম, ৪০৫০ এমএএইচ লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি
  • সিলভার, গোল্ড ও গ্রে রঙের তিনটি কালার ভ্যারিয়েশন

রেডমি প্রো স্মার্টফোনের সর্বনিম্ন দাম টাকায় কনভার্ট করলে ১৮ হাজার টাকার মত হলেও বাংলাদেশে এর দাম ২২ থেকে ২৩ হাজার টাকা।

আমি রেডমি প্রো’র স্ট্যান্ডার্ড মডেলটি ব্যবহার করছি, যাতে রয়েছে ৩২জিবি স্টোরেজ ও ৩জিবি র‍্যাম। এবার আমি আমার অভিজ্ঞতা জানাচ্ছি।

 

ডিজাইন

রেডমি প্রো এর ফুল মেটাল বডি পছন্দ হওয়ার মতই। স্ক্রিনের চারপাশে খুবই পরিমিত স্পেস থাকায় এটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। স্ক্রিনের প্রান্তগুলো হালকা বাঁকানো, যা আপনারও ভালো লাগবে। ইয়ারপিসের বাম পাশে নোটিফিকেশন লাইট রয়েছে। হোম বাটনের দুই পাশে দুটি ক্যাপাসিটিভ বাটন আছে, যা লাইট বন্ধ অবস্থায় দেখা যায়না। এই ফোনটির জন্য এই ধরণের বাটন ডিজাইনই মানিয়েছে। রেডমি নোট ৩ এর মত ছাপানো বাটন হলে এর সাথে মানাতো না।

xiaomi-redmi-pro-hero

হোম বাটনটির আলাদা বিশেষত্ব হচ্ছে, এটি চাপ দিয়েও কাজ করা যায়, আবার টাচ করলেও কাজ চালিয়ে নেয়া যায়। সেটিংস থেকে হোম বাটনের ‘ট্যাপ’ ফাংশনালিটি চালু করে নিলে আপনাকে আর কষ্ট করে হোম বাটন চাপ দিতে হবেনা, বরং এটি স্পর্শ করেই হোম স্ক্রিনে ফিরে যেতে পারবেন। স্ক্রিনে পরপর দুইবার দ্রুত স্পর্শ (ট্যাপ) করলে স্ক্রিনের লাইট জ্বলে ওঠে, যাকে ‘ডবল ট্যাপ’ ফিচার বলা হয়। তখন ফিঙ্গারপ্রিন্টের সাহায্যে ফোন আনলক করা যায়। স্ক্রিন অফ থাকা অবস্থায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর বন্ধ থাকে। আমার অভিজ্ঞতা যা বলে, ডবল ট্যাপ ফিচারটি সব সময় কাজ করেনা। দুই বারের পরিবর্তে ৫-৬ বার দ্রুত স্ক্রিনে টাচ করার পর স্ক্রিন জেগে ওঠে (মনিটরের লাইট জ্বলে ওঠে)। আমার মনে হয় ডবল ট্যাপ ফিচারটি নিয়ে শাওমির আরও কাজ করা উচিত। এছাড়া পাওয়ার, হোম ও ভলিউম বাটনে চাপ দিয়েও স্ক্রিন চালু করা যায়।

রেডমি প্রো ফোনের পেছনের দিকে চকচকে মেটাল কেসিং, যাতে সরু আড়াআড়ি দাগের নকশা শোভা পায়। এটা ‘ব্রাশড মেটাল’ ডিজাইন নামে পরিচিত। দেখলে মনে হবে যেনো পেইন্ট ব্রাশ দিয়ে ফোনটির পেছনে এই নকশাটি আঁকা হয়েছে। এজন্যই এর নাম ব্রাশড মেটাল ডিজাইন।

redmi-pro-bottom

ডিভাইসটির উপরের দিকে হেডফোন জ্যাক এবং রিমোট কন্ট্রোলার (আইআর/ইনফ্রারেড) সেন্সর ও সেকেন্ডারি মাইক্রোফোন দেয়া হয়েছে। নিচের প্রান্তে রয়েছে প্রাইমারি মাইক্রোফোন, ইউএসবি-সি পোর্ট ও লাউড স্পিকার।

এই ফোনটিতে ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট ব্যবহৃত হয়েছে। বেশিরভাগ এন্ড্রয়েড ফোনে বর্তমানে যে মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট ব্যবহৃত হচ্ছে সেগুলোতে ডেটা কেবল সংযুক্ত করার সময় প্লাগের নির্দিষ্ট একটি প্রান্ত উপরের দিকে এবং অন্য প্রান্ত নিচের দিকে রাখতে হয়। কিন্তু ইউএসবি-সি এর সুবিধা হচ্ছে, ফোনের সাথে ডেটা কেবলের নির্দিষ্ট প্লাগটি সংযুক্ত করার সময় আপনি যেকোনো প্রান্ত উপরে বা নিচে রাখতে পারবেন, ফলে চোখ বন্ধ করে ফোন চার্জ করা যাবে। উলটো পোর্ট হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই।

 

সেন্সর

সচরাচর দরকার হয় এমন প্রায় সব সেন্সরই আছে রেডমি প্রো ফোনে। উল্লেখযোগ্য সেন্সরগুলো হচ্ছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, জাইরোস্কোপ, অ্যাক্সেলেরোমিটার, প্রক্সিমিটি সেন্সর ও কম্পাস। আরও আছে জিপিএস, ওয়াইফাই, এফএম রেডিও (রেকর্ডার সহ) ও ব্লুটুথ ৪।

 

স্ক্রিন

রেডমি প্রো এর স্ক্রিন স্পেসিফিকেশন আগেই বলেছি। আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। এতে আছে ৫.৫ ইঞ্চি এলটিপিএস অ্যামোলেড ডিসপ্লে (১০৮০ x ১৯২০পি রেস্যুলেশন, ৪০১পিপিআই, ১৬ মিলিয়ন কালার)। স্ক্রিনের ব্রাইটনেস ও কালার কনট্রাস্ট বেশ সুন্দর। আমার ভাল লেগেছে। টাচ সেন্সিটিভিটি ভাল। আমি কোনো স্ক্রিন প্রোটেক্টর গ্লাস ব্যবহার করছিনা। এখন পর্যন্ত স্ক্রিনে কোনো স্ক্র্যাচ পড়েনি।

 

সফটওয়্যার

শাওমি রেডমি প্রো ফোনে অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ মার্সম্যালো অপারেটিং সিস্টেম দেয়া আছে। সেই সাথে আছে এমআইইউআই ৮ ইউজার ইন্টারফেস (লঞ্চার)। আপনি যদি এই সাইটের নিয়মিত ভিজিটর হয়ে থাকেন, তাহলে হয়ত মনে আছে, এর আগে রেডমি নোট ৩ এর রিভিউতে আমি MIUI এর ডিজাইন সম্পর্কে আমার ভালোলাগার কথা বলেছিলাম। এখন আবারও বলছি, এমআইইউআই এর ডিজাইন সত্যিই চমৎকার, এবং এর ৮ম সংস্করণে তা আরও সুন্দর হয়েছে। এতে আরও কিছু বর্ধিত সুবিধা রয়েছে। শাওমির নিজস্ব সিক্যুরিটি অ্যাপে এন্টিভাইরাস, অ্যাপ পারমিশন, ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট, স্প্যাম মেসেজ/কল ফিল্টার, নেটওয়ার্ক টেস্ট, ডেটা ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, ফাইল ক্লিনিং সহ আরও অনেক ফিচার দেয়া হয়েছে।

screenshot_2016-11-12-20-51-53-963_com-miui-home

সিক্যুরিটি অ্যাপের মাধ্যমে আপনি যদি নির্দিষ্ট কিছু অ্যাপকে ‘অটো স্টার্ট’ পারমিশন না দেন, তবে সেসব অ্যাপ ঠিকঠাক কাজ করবেনা। এটা নিরপত্তার জন্য হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে সমস্যার কারণও বটে। উদাহরণস্বরূপ, জিমেইল অ্যাপকে আপনি যদি অটো স্টার্ট পারমিশন না দেন, তাহলে ফোন চালুর পর নতুন ইমেইল এলে এটি তা সিনক্রোনাইজ করবেনা। ফলে আপনি নিজ থেকে জিমেইল অ্যাপ ওপেন করার আগে পর্যন্ত নতুন ইমেইল আসার খবর জানতেই পারবেন না।

screenshot_2016-11-12-20-56-59-170_com-miui-home

আপনার শাওমি ফোনে যদি গ্লোবাল রম না থাকে, তবে তাতে গুগল প্লে স্টোর দেয়া থাকবেনা। নিজ থেকে ইনস্টল করে নিতে হবে। শাওমির নিজস্ব অ্যাপ স্টোর ‘এমআই স্টোর’ থাকলেও সেখানে প্রয়োজনীয় অ্যাপ খুবই কম পাবেন। সুতরাং ‘গুগল ইনস্টলার’ অ্যাপের মাধ্যমে প্লে স্টোর নিয়ে নিতে হবে। আমি এটাই করেছি।

MIUI এইট ভার্সনে আপনি ফোনের মধ্যে ‘সেকেন্ড স্পেস’ তৈরি করে আলাদা আরেকটি ইউজার একাউন্ট তৈরি করতে পারেন। এছাড়া যেকোনো অ্যাপ কপি করে নতুন আরেকটি সচল অ্যাপ হিসেবে অন্য ইউজারদের ব্যবহারের জন্য রেখে দিতে পারবেন। অ্যাপ লক ফিচার ব্যবহার করে অ্যাপ্লিকেশন বা অন্যান্য অপশন লক করে রাখা সম্ভব। তখন ফোন আনলক করা অবস্থায়ও সেসব অ্যাপ বা অপশন চালু করার জন্য নতুন করে পাসওয়ার্ড/ফিঙ্গারপ্রিন্ট ভেরিফাই করে নিতে হবে।

MIUI’তে অটোম্যাটিক কল রেকর্ডার অপশন আছে, যদিও কারও অনুমতি ছাড়া কথোপকথন রেকর্ড করে রাখাটা অনেক ক্ষেত্রে অনৈতিক বলে গণ্য হতে পারে।

ব্যাকাপ-রিস্টোর অপশন থাকায় আপনি এর সমস্ত সেটিংস, কন্টাক্ট ও অ্যাপের ব্যাকাপ রেখে দিয়ে পরে আবার রিস্টোর করতে পারবেন।

সহজ কথায় বললে রেডমি প্রো এর সফটওয়্যার ও ইউজার ইন্টারফেস পছন্দ হওয়ার মত।

 

ক্যামেরা

আমি জানি, আপনি রেডমি প্রো এর ক্যামেরা সম্পর্কে জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন। এই অংশের মাঝে মাঝে রেডমি প্রো দিয়ে তোলা ছবির সাইজ কমিয়ে পোস্ট করা হলো। এতে এর লাইট ক্যাপচার করার ক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাবেন।

img_20161012_141021

রেডমি প্রো এর ক্যামেরা কোয়ালিটি রেডমি নোট ৩ এর চেয়ে ভাল। ফ্রন্ট ক্যামেরা আগের মডেলগুলোর মতই। তবে ব্যাক ক্যামেরায় দুটি লেন্স থাকায় কিছুটা বাড়তি সুবিধা পাবেন। ডিফল্টভাবে ব্যাক ক্যামেরার শুধুমাত্র ১৩মেগাপিক্সেল লেন্সটিই (উপরের দিকে থাকা লেন্সটি) ছবি তোলার কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

img_20161107_203052_hht

স্টেরিও মুডে উভয় লেন্স ব্যবহৃত হয়। তখন স্টিল ইমেজের সাইজ বৃদ্ধি পায় (৮-৯ মেগাবাইট) যা একটি লেন্সের ক্ষেত্রে ৩-৪ মেগাবাইট হয়ে থাকে।

vegetables-redmi-pro

স্টেরিও মুডে তোলা ছবিগুলোর ফোকাস পরবর্তীতে পরিবর্তন করা যায়। এছাড়া হালকা থ্রিডি ইফেক্টও পাওয়া যায়, যা ডিফল্ট মুডে সম্ভব নয়।

ভালো আলো থাকলে ফোনটিতে সুন্দর ছবি ওঠে। এই বাজেটের ফোনে এর চেয়ে ভালো ছবি আশা করা বোধ হয় ঠিক হবেনা। কম আলোতে রেডমি প্রো এর ক্যামেরা কোয়ালিটি অ্যাভারেজ।

img_20161103_180639

ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে নিলে কিছুটা বেটার ছবি হতে পারে। রেডমি নোট ৩ ফোনের ক্যামেরা নিয়ে আমি খুব বেশি সন্তুষ্ট ছিলাম না, তবে রেডমি প্রো এর ক্যামেরা অপেক্ষাকৃত ভাল।

 

অডিও ও মিউজিক

রেডমি প্রো ফোনের সাথে কোনো ইয়ারফোন দেয়া হয়না। শাওমি ফোনগুলোর ক্ষেত্রে এরকম ঘটনা যেনো কমন একটা ব্যাপার। এই ফোনটিতে কল কোয়ালিটি ও মিউজিকের মান ভাল। এফএম রেডিও ইয়ারফোন ছাড়াই চলে, শব্দের মান মন্দ না। শাওমির পিস্টন ব্র্যান্ডের কিছু ইয়ারফোন/হেডফোন পাওয়া যায় যেগুলোর দাম ৭০০ থেকে ১০০০+ টাকার মত। সেগুলো কিনলে অডিও বেশ ভালভাবেই উপভোগ করা যাবে এতে।

 

ব্যাটারি

শাওমি প্রো ফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ চমৎকার। সারাক্ষণ ডেটা অন রাখা ও তিন-চার ঘন্টা ব্রাউজিং করলেও একদিন অনায়াসে চলে যাবে। ফোনটির চার্জারের সাহায্যে ব্যাটারি চার্জ ফুল হতে ২ থেকে ৩ ঘন্টা সময় লাগে। ৩০% এর কম বা আশেপাশে ব্যাটারি লেভেল থাকলে তখন চার্জে দিলে ফোন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গরম হয়ে যায় (সিক্যুরিটি অ্যাপের তথ্যানুযায়ী ৩৫-৩৮ডিগ্রি সেলসিয়াস)। চার্জার ও পোর্টগুলোও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উত্তপ্ত হয়।

তবে অনেকক্ষণ একটানা ব্যবহার করলে ফোন এতটা গরম হয়না। আমার রেডমি নোট ৩ এর চার্জারের সাথে আসা ডেটা কেবল ৮-৯ মাসের মধ্যে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আমি আমার ডিভাইসগুলোর প্রতি যথেষ্ট পরিমাণ যত্নশীল, সুতরাং রেডমি নোট ৩’র ডেটা কেবল ওভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়াটা মোটেই ভাল লাগেনি। দেখা যাক এই রেডমি প্রো’র কেবলটা কেমন চলে।

 

ইউএসবি-সি

রেডমি প্রো এর ডেটা কেবল ইউএসবি-সি টাইপের হওয়ার কারণে আপনি বর্তমানে বহুল প্রচলিত মাইক্রো ইউএসবি ক্যাবলগুলো এতে কানেক্ট করতে পারবেন না।

usb-c-micro-usb-img

উপরের ছবি দেখে ইউএসবি-সি ও বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত মাইক্রো ইউএসবি কানেক্টরের পার্থক্য বুঝে নিন। ইউএসবি-সি উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে অধিক স্পিড ও বিদ্যুৎ প্রবাহ সরবরাহ করতে সক্ষম। তবে যেহেতু এখনও এটি খুব একটা প্রচলিত না, সুতরাং আপাতত হয় আপনাকে একটি মাইক্রো ইউএসবি >> ইউএসবি-সি অ্যাডাপ্টার কিনতে হবে, নতুবা কোথাও বেড়াতে গেলে চার্জার-ডেটাকেবল নিয়ে যেতে হবে। অন্যথায় চার্জ শেষ হলে বন্ধ মোবাইলের ডিসপ্লেতে নিজের চেহারা দেখা ছাড়া এটা দিয়ে আর কোনো কাজ হবেনা।

 

শাওমি ক্লাউড

শাওমির বিভিন্ন রকম সার্ভিস আছে যা অত্যন্ত উপকারী। এমআই ক্লাউডে ফোনবুক সিনক্রোনাইজ করে রাখা যায়। এর ৫ জিবি ফ্রি ক্লাউড স্টোরেজে ছবি, অডিও, ভিডিও প্রভৃতি রাখতে পারবেন।

 

এমআই এসিস্ট্যান্ট

মাইক্রোসফট করটানা, গুগল অ্যালো এবং অ্যাপল সিরি’র মত শাওমিরও ভার্চুয়াল এসিস্ট্যান্ট অ্যাপ আছে। এর নাম এমআই অ্যাসিস্ট্যান্ট, যা বর্তমানে শুধুমাত্র চায়নিজ ভাষায় কাজ করে। অ্যাপটি চালু করে ভয়েস কমান্ড দিলে এটি “হং চং পং চাং পিউ” কীসব বলে কিছুই বুঝতে পারিনা। আশা করি অদূর এটি ভবিষ্যতে (অন্তত) ইংরেজি বুঝবে।

 

পিসি স্যুট সফটওয়্যার

নকিয়া পিসি স্যুট/অভি স্যুট/নকিয়া স্যুট সফটওয়্যারের কথা মনে আছে? সেই সফটওয়্যারগুলো কম্পিউটারে ইনস্টল করে নকিয়া ফোনের ডেটা সিঙ্ক্রোনাইজ, ব্যাকআপ ও সফটওয়্যার আপডেট প্রভৃতি করা যেত। শাওমি’রও এমআই পিসি স্যুট নামে একই ধরণের একটা সফটওয়্যার আছে। কিন্তু রেডমি প্রো’র সাথে এমআই পিসি স্যুট আদৌ কাজ করেনা। রেডমি নোট ৩ এর সাথে এই সফটওয়্যারটি আধো-আধো কাজ করত, কিন্তু রেডমি প্রো ফোনকে এটি ডিটেক্ট করতেই পারেনা।

 

উপসংহার

শাওমি রেডমি নোট ৩ নিয়ে আমার অভিজ্ঞতায় কিছু কিছু নেতিবাচক পয়েন্ট ছিল, যার বেশিরভাগই কাটিয়ে উঠতে পেরেছে রেডমি প্রো। তবে পিসি স্যুট সফটওয়্যারের সাথে এটি সংযুক্ত করতে না পেরে কিছুটা হতাশ বৈকি। রেডমি প্রো’র স্পিড, পারফরমেন্স, ডিজাইন, স্ক্রিন, সফটওয়্যার ও অন্যান্য ব্যাপারে আমি ৮০% সন্তুষ্ট। ফোনটি এখন পর্যন্ত একবারও হ্যাং করেনি। তবে এর ব্যাক বাটন কয়েকবার অকেজো হয়ে গিয়েছিল, যা ফোন রিস্টার্ট করার পর আবার কাজ করতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে ফোনটিকে আমি ১০০’র মধ্যে ৮০ নম্বর দেব।

 

প্রযুক্তির সব তথ্য জানতে ভিজিট করুন www.banglatech24.com সাইট। নতুন পোস্টের নোটিফিকেশন ইমেইলে পেতে এই লিংকে গিয়ে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

 

আপনি কি শাওমি ফোন ব্যবহার করেন বা করেছেন? আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?

Comments

Leave a Reply