Advertisements

স্মার্টফোন শিল্পের ওপর প্রতিশোধ নেবে নকিয়া?

By -

nokia-logo-34636 ..এক সময়কার মোবাইল জায়ান্ট নকিয়া কালের বিবর্তনে আজ হ্যান্ডসেট বাজার থেকে বিলুপ্তির প্রহর গুণছে। এন্ট্রি লেভেল থেকে শুরু করে প্রিমিয়াম মার্কেট পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই ছিল ফিনল্যান্ডের এই কোম্পানিটির ছন্দময় বিচরণ। কিন্তু যুগের প্রয়োজনের সাথে তাল মিলিয়ে আগাতে না পারায় গ্রাহকদের দৃষ্টি ধরে রাখতে সক্ষম হয়নি নকিয়া। কেউ কেউ অবশ্য সঠিক নেতৃত্বের অভাবকেও এজন্য দায়ী করছেন। যাই হোক, যে কারণেই হোক, দিনশেষে স্মার্টফোন হার্ডওয়্যার শিল্পে নকিয়ার ইতিহাস খুব বেশি সুখকর নয়।

ক্রমাগত মার্কেট শেয়ার হারাতে থাকা নকিয়া একসময় চুক্তি করল মাইক্রোসফটের সাথে। উইন্ডোজ ফোন অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সংগ্রামের মাঝে কখনও আশা কখনও হতাশা ছুঁয়ে যেত কোম্পানিটিকে। কিন্তু বছরখানেক আগে, এক সকালে ব্রেকিং নিউজ এলো- ‘মাইক্রোসফটের নিকট বিক্রি হয়ে যাচ্ছে নকিয়ার মোবাইল ডিভিশন।’ এরপর চলতি বছর এপ্রিলে প্রায় ৭.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই লেনদেন অফিসিয়ালভাবে সম্পন্ন হয়। এর ফলে মোবাইল ডিভাইসের জগত থেকে বিদায় নিল এক সময়কার জায়ান্ট ব্র্যান্ড নকিয়া।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 1,148 other subscribers

অবশ্য, মাইক্রোসফটের নিকট নিজেদের পেটেন্ট পোর্টফোলিও বিক্রি করেনি নকিয়া। তাই স্মার্টফোন ইন্ডাস্ট্রি থেকে পুরোপুরি উঠে আসেনি এই ফিনিশ ইলেকট্রনিকস কোম্পানি।

মোবাইল ফোন জগতে ভবিষ্যতেও অনেকদিন জড়িয়ে থাকবে নকিয়া নামটি। কেননা, মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো এবং ম্যাপিং প্রযুক্তি নিয়েই নিজেদের অবস্থান জানান দেবে তারা।

নকিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দিক হচ্ছে এর পেটেন্ট- ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি বা মেধাস্বত্ব। মোবাইল ফোন সম্পর্কিত (প্রক্রিয়াধীন সহ) প্রায় ৪০ হাজার পেটেন্ট রয়েছে নকিয়ার। এদের মধ্যে সাড়ে ৮ হাজার হচ্ছে ফিচার পেটেন্ট, আর ৩০ হাজারের বেশিরভাগই মৌলিক প্রযুক্তি। কোম্পানিটির টেলিকম বা মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামোগত পেটেন্টের সংখ্যাও প্রায় ৭ হাজার।

মোবাইল ফোন সম্পর্কিত বেশ কিছু প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির উদ্ভাবক নকিয়া। এর মধ্যে রয়েছে নেটওয়ার্কিং, ইমেইল, মেসেজিং, গেমস, ম্যাপিং প্রভৃতি। নকিয়া যখন মোবাইল ফোন তৈরির ব্যবসায় ছিল, তখন প্রতিযোগী কোম্পানিগুলোকে বেশ কিছু পেটেন্ট লাইসেন্স করে দিয়ে ক্রস লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় একে অপরের পেটেন্ট ব্যবহার করার সুবিধা নিত। এখন যেহেতু নকিয়া আর মোবাইল ফোন তৈরি করছেনা, তাই অন্য কোম্পানির সেসব পেটেন্টকৃত প্রযুক্তির লাইসেন্স নকিয়াকে নিতে হয়না। অর্থাৎ, স্মার্টফোন পেটেন্ট লাইসেন্স পাওয়ার ফি নিয়ে তাদের আর দুশ্চিন্তাও নেই। তাই নকিয়া তাদের মূল্যবান প্রযুক্তির লাইসেন্স দেয়ার সম্ভাব্য সর্বোচ্চ দর হাঁকতে পারবে।

অ্যাপল আইফোনেও নকিয়ার পেটেন্ট করা প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আর এজন্য নকিয়াকে ফি দেয় অ্যাপল। ২০১১ সালে এক পেটেন্ট মামলায় নকিয়ার কাছে হেরে বড় অংকের সেটেলমেন্ট ও রয়্যালটি দিতে রাজী হয় আইফোন নির্মাতা।

মাইক্রোসফটের নিকট মোবাইল ফোন হার্ডওয়্যার ইউনিট বিক্রি করে দেয়ার পর এখন নিজেদের পেটেন্ট অন্যকে লাইসেন্স করে দিয়ে বিপুল অর্থ প্রাপ্তির পন্থা খুঁজতে পারে নকিয়া- এমন আশংকা থেকেই সম্প্রতি কোরিয়ার একটি সংবাদপত্র এক প্রতিবেদনে স্যামসাং, এলজি ও অন্যান্য দেশিয় কোম্পানির ওপর নকিয়ার সম্ভাব্য আক্রমণের প্রতিচ্ছবি প্রকাশ করেছে। নিচে দেখুন সেই ছবিটি।

nokia attacking imaginationপত্রিকাটি বলছে, বর্তমানে মাইক্রোসফট তাদের সফটওয়্যার সম্পর্কিত পেটেন্ট লাইসেন্স দিয়ে এন্ড্রয়েড ডিভাইস নির্মাতা কোম্পানির নিকট থেকে বছরে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ আয় করে থাকে। এখন নকিয়াও যদি তাদের পেটেন্টের জন্য স্যামসাং, এলজি ও অন্যান্য কোম্পানিকে চাপ দেয়, তবে সেটি হবে ভয়ংকর। নকিয়াকে রুখতে তাই কোরিয়ার সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ‘বিজনেস কোরিয়া’ নামের ঐ পত্রিকাটি।

পেটেন্ট লাইসেন্সিং ফি এর কিছু নীতিমালা আছে। কিছু কিছু দরকারি প্রযুক্তি ‘স্ট্যান্ডার্ড এসেনশিয়াল পেটেন্ট (এসইপি)’ পায়, যেগুলোর ফি সরকারিভাবে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে। আর যেসব বিশেষ প্রযুক্তির পেটেন্ট নন-এসইপি ক্যাটেগরির হয়, সেগুলোর ফি অনেক বেশি হতে পারে। নকিয়ার এই দুই শ্রেণির পেটেন্টই আছে। আর তাই মোবাইল নির্মাতারা কেউ কেউ এখন ভয় করছে, নকিয়া হয়ত তাদের নিকট অত্যাধিক পরিমাণ পেটেন্ট ফি চাইবে।

নকিয়া কি তার ফেলে যাওয়া স্মার্টফোন শিল্পের প্রতি পুরনো ক্ষোভ মেটাবে? নকিয়া কি আক্রমণাত্বক ভঙ্গীতে পেটেন্ট লাইসেন্স ফি ও মেধাস্বত্ব মামলার পথ বেছে নেবে? সর্বোপরি, মোবাইল ফোন মার্কেটের প্রতি প্রতিশোধ নেবে নকিয়া?

সেটা সময় এলেই দেখা যাবে। প্রযুক্তি বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও বিশ্লেষণ বাংলায় জানতে বাংলাটেক টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।

 

– আরাফাত বিন সুলতান

বিবিএ (ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং), এমবিএ (ফিন্যান্স)

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ফেসবুকে আমার প্রোফাইলঃ https://www.facebook.com/arafat.bin.sultan

টুইটারে আমিঃ https://twitter.com/ArafatBinSultan

আমার গুগল প্লাস প্রোফাইলঃ https://plus.google.com/u/0/+ArafatBinSultan

Advertisements

Comments

Leave a Reply