স্মার্টফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ বৃদ্ধির অজানা কিছু কৌশল

By -

ব্যাটারি

স্মার্টফোন চালানোর সময় একটা ব্যাপার সবার মনেই কড়া নাড়ে। সেটা হচ্ছে এর ব্যাটারি লেভেল। অনেকে আছেন যারা ব্যাটারির চার্জ ফুরানোর ভয়ে ফোনের ব্রাইটনেস এত কমিয়ে রাখেন যে, স্ক্রিনে কিছু দেখাই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এই সবকিছুই করা হয় শুধুমাত্র একটু বেশি সময় ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়ার আশায়। কিন্তু আরও অনেক কৌশল আছে যেগুলো অনুসরণ করলে স্মার্টফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। চলুন জেনে নিই সেগুলো।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 1,261 other subscribers

 

নেটওয়ার্ক

দুর্বল নেটওয়ার্ক পরিষেবা ফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপের জন্য ক্ষতিকর। যেসব স্থানের নেটওয়ার্ক আপনার ফোনের নেটওয়ার্ক সামর্থ্যের থেকে খারাপ, সেসব স্থানে ইন্টারনেট ও ভয়েস কল সেবা ব্যবহারে ব্যাটারির শক্তি অতিরিক্ত পরিমাণে বেশি ব্যবহৃত হয়। কারণ, এটি বার বার রিকানেক্ট হয়। যদি আপনার ফোনে চার্জ কম থাকে, তবে এসব জায়গায় ফোনের ফ্লাইট মুড চালু করে রাখলে ব্যাটারি বেঁচে যাবে। যদিও, ফ্লাইট মুড চালু করলে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, ফলে এই অবস্থায় আপনার ফোনে কোনো কল আসবেনা এবং মোবাইল ডেটাও ব্যবহার করা যাবেনা। আপনার যখন দরকার হবে, তখন ফ্লাইট মুড বন্ধ করলে আবার ফোনে নেটওয়ার্ক চলে আসবে। অবশ্য ফ্লাইট মুডে ফোনের ওয়াই-ফাই কাজ করে।

নোটিফিকেশন

আপনার ফোনের বিভিন্ন অ্যাপ হয়ত আপনাকে বিভিন্ন কারণে নোটিফিকেশন দেয়। ফেসবুক কমেন্ট, মেসেঞ্জারের মেসেজ বা ইমো’র মিসড কল প্রভৃতি নোটিফিকেশনের কারণে ফোনের ব্যাটারির চার্জ খরচ হয়। এ ধরনের অ্যাপ্লিকেশনগুলো নির্দিষ্ট সময় পরপর নতুন বার্তা দেখানোর জন্য ব্যাকগ্রাউন্ডেই রিফ্রেশ হয়। তাই আপনি যদি ব্যাটারি ব্যাকআপ বেশি পেতে চান, তাহলে ফোনের এসব অ্যাপের নোটিফিকেশন সেটিংসে গিয়ে যত কম সম্ভব নোটিফিকেশন পাওয়ার ব্যবস্থা করুন।

ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ

ফেসবুক, স্কাইপ, মেসেঞ্জার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ প্রভৃতি অ্যাপ্লিকেশন ব্যাকগ্রাউন্ডেও চলতে থাকে। আপনি যদি এদের নোটিফিকেশন না পেতে চান, তাহলে এগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ড রিফ্রেশ বা অটো-স্টার্ট পারমিশন বন্ধ করে রাখতে পারেন।

জিপিএস, ব্লুটুথ, ওয়াইফাই

ব্লুটুথ বা জিপিএস এর মত যেকোনো সার্ভিস চালু রাখলে আপনার ফোনের ব্যাটারির শক্তি ব্যবহৃত হয়। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে কখনোই জিপিএস, ব্লুটুথ বা ওয়াইফাই চালু রাখবেন না।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 1,261 other subscribers

 

ফটোগ্রাফি

আপনি নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন, ছবি তুলতে এবং ভিডিও রেকর্ড করতে কী পরিমাণ চার্জের প্রয়োজন হয়। ছবি তুললে, বিশেষত ভিডিও করলে ক্যামেরার কাজের জন্য অনেক পরিমাণ চার্জের দরকার হয়। এসময় আপনি ফোনের অন্য সকল সার্ভিস বন্ধ করে শুধুমাত্র ছবি বা ভিডিও করার দিকে মনোযোগ দিতে পারেন- এতে অন্তত কিছুটা হলেও ব্যাটারি সাশ্রয় হবে। আর অপ্রয়োজনে ফ্ল্যাশ ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

জিপিএস এর কৌশলী ব্যবহার

হ্যাঁ, চলাচলের সময় আপনি জিপিএস ব্যবহার করতেই পারেন। কিন্তু ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপ এসব অ্যাপে শুধু শুধু জিপিএস ব্যবহারের দরকার নেই। এমন ব্যবহারে আপনার ব্যাটারির অতিরিক্ত শক্তি খরচ হয়। তাই এটির পরিমিত ব্যবহার করুন। কোথাও যেতে চাইলে সেখানকার গুগল ম্যাপ ডেটা আগে থেকে ডাউনলোড করে নিলে পরে সেখানে গিয়ে অফলাইনে ম্যাপ ব্যবহার করতে পারেন- এতে নেটওয়ার্কিং এর জন্য শক্তি ব্যয় করতে হবেনা!

স্ক্রিন ব্রাইটনেস নিয়ন্ত্রণ

স্ক্রিনের অটো ব্রাইটনেস ফিচার বন্ধ রাখুন। এটি চালু থাকলে ফোনের সেন্সর সব সময় কাজ করে, আর আপনার চারপাশের আলো অনুযায়ী স্ক্রিনের ব্রাইটনেস কমায় ও বাড়ায়। এতে অতিরিক্ত ব্যাটারি শক্তি খরচ হয়। এর চেয়ে বরং নিজেই একটা নির্দিষ্ট স্ক্রিন ব্রাইটনেস লেভেল নির্ধারন করে নিন। প্রয়োজনে কিছুক্ষণ পর আবার পরিবর্তন করুন।

লাইভ ওয়ালপেপার ও উইজেট

ফোনের লাইভ ওয়ালপেপার সাধারণ ওয়ালপেপারের তুলনায় বেশি চার্জ খরচ করে। সুতরাং, ব্যাটারি ব্যাকআপ বেশি চাইলে লাইভ ওয়ালপেপার ব্যবহার করা বন্ধ করুন। বিভিন্ন উইজেট, যেমন আবহাওয়া, ইমেইল, নিউজ, প্রভৃতি, যেগুলো নির্দিষ্ট সময় পরপর আপডেট হয়, সেগুলো ব্যবহার কমালে তা ব্যাটারি ব্যাকআপ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উপকারী হবে।

খুব গরম বা খুব ঠান্ডা স্থানে

অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডায় ফোনের ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস হচ্ছে মোবাইলের ব্যাটারির জন্য আদর্শ তাপমাত্রা। এর চেয়ে বেশি হলে সেটি কার্যক্ষমতা হারাবে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কোন লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি রাখা হলে প্রতি বছর সেটি ২০% ধারণক্ষমতা হারাবে। আর সর্বোচ্চ ৪০-৫০ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রায় ব্যাটারিটি তাৎক্ষণিক ক্ষতি (যেমন বিস্ফোরণ) থেকে নিরাপদ থাকবে।

সফটওয়্যার আপডেট

আপনার ফোনের অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপস আপডেটেড রাখুন। কেননা ডেভেলপাররা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করেন অ্যাপ্লিকেশন ও ওএস আরও বেশি ব্যবহারবান্ধব করে তোলার। সুতরাং আপডেটেড সফটওয়্যার ব্যাটারির জন্য ভালো হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

টুজি/থ্রিজি/ফোরজি

থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্কে ফোন ব্যবহার করলে তা টুজি নেটওয়ার্কের চেয়ে বেশি ব্যাটারির শক্তি খরচ করে। যদিও টুজি নেটওয়ার্কে ইন্টারনেটের গতি কম থাকে, এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভয়েসের মানও কিছুটা কম হয়, তাই আপনি চাইলে এই সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়ে শুধুমাত্র বেশি ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়ার জন্য টুজি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারেন। ফোনের নেটওয়ার্ক সেটিংসে গিয়ে ২জি/৩জি/৪জি নেটওয়ার্ক বাছাই করা যাবে।

ভাইব্রেশন

ফোনের ভাইব্রেশন ফিচারটির জন্য মোবাইলের মধ্যে একটি ছোট মোটর দেয়া থাকে। এটি নিঃসন্দেহে ভালই চার্জ খরচ করে। তাই টাচ ও অন্যান্য ইফেক্টের ক্ষেত্রে ভাইব্রেশন বন্ধ করে রাখুন। মনে রাখবেন, ফোন কলের ক্ষেত্রে ভাইব্রেশন বন্ধ করলে চলতি পথে সেটা আপনার জন্য অসুবিধার কারণ হতে পারে (কেউ আপনাকে কল করলে আপনি হয়ত টের পাবেন না)। সুতরাং কখন ভাইব্রেশন থাকবে, আর কখন থাকবেনা, সেটাও আপনাকেই ঠিক করতে হবে।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 1,261 other subscribers

 

পাওয়ার সেভিং মুড

প্রত্যেক স্মার্টফোনেই ব্যাটারি সেভিং বা পাওয়ার সেভিং মুড থাকে। আইফোনের ক্ষেত্রে এটাকে বলে ‘লো পাওয়ার মুড’। এই মুডগুলো চালু করলে ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ অধিকাংশই বন্ধ থাকে। স্ক্রিনের ব্রাইটনেসও কমে যায়। এটি আপনার ফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ বৃদ্ধির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। তবে এই অবস্থায় ফোনের সব সুবিধা আপনি ব্যবহার করতে পারবেন না। সুতরাং যদি আপনার খুব বেশি চার্জের সমস্যা হয়, তাহলে ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়ানোর জন্য এই মুড ব্যবহার করতে পারেন।

ফ্লাইট মুড, নাকি সুইচ অফ?

আপনার ফোন অন রাখার কারণে ব্যাটারির চার্জ ব্যবহার হয়, এটা সত্যি। যদি এমন হয় যে, ফোনে চার্জ কম আছে, কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে আবার ফোনটি কাজে লাগবে, এমন অবস্থায় স্মার্টফোন বন্ধ না করে বরং ফ্লাইট মুডে রাখা ভালো, কারণ একবার বন্ধ হয়ে আবার স্টার্ট নিতেও ফোনের বেশ খানিকটা বিদ্যুৎ দরকার পড়ে, যা পুরোপুরি বন্ধ রাখার কারণে সাশ্রয়কৃত বিদ্যুতের পরিমাণের থেকে বেশি হয়ে যেতে পারে।

অন্যান্য

ফোন ব্যবহারের পর সেট লক করে রাখুন। এতে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কোনো অপশন চালু হতে পারবে না। ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট বন্ধ করে রাখতে পারেন। প্রতি মাসে অন্তত একবার ফোনের ব্যাটারি পুরোপুরি চার্জ এবং সম্পূর্ণ ডিসচার্জ করুন।

আশা করি এই টিপসগুলো আপনার ফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। আপনার যদি কোনো পরামর্শ থাকে, তবে কমেন্টে জানান। ধন্যবাদ।

বোনাস

>>  মোবাইলের ব্যাটারি ও চার্জ নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো জেনে নিন

>>  মোবাইলের ডাটা খরচ কমানোর উপায়

>>  এন্ড্রয়েড ফোনে যে অ্যাপগুলো আপনার অবশ্যই দরকার

প্রযুক্তির সব তথ্য জানতে ভিজিট করুন www.banglatech24.com সাইট। নতুন পোস্টের নোটিফিকেশন ইমেইলে পেতে এই লিংকে গিয়ে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

 

Comments

Leave a Reply