ফেসবুক যেভাবে বদলে দিচ্ছে আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতি

By -

happy-birthday-facebookআজ ৪ ফেব্রুয়ারি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগমুলক সাইট ফেসবুকের ১০ম জন্মদিন। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির ডরমেটরি থেকে এই ১০ বছরে বিশ্বের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে মার্ক জুকারবার্গের সৃষ্টি ফেসবুক। সাইটটির ব্যবহারকারীদের প্রাত্যাহিক জীবনে এর প্রভাবও লক্ষ্য করার মত। যারাই মোবাইল বা কম্পিউটারে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, প্রায় সবাই দিন শুরু করেন ফেসবুকের নোটিফিকেশন দেখে। তা ইমেইলেই হোক, কিংবা সরাসরি ফেসবুক সাইটে হোক- এটাই বাস্তবতা।

প্রতিনিয়ত ফেসবুক ব্যবহারের ফলে আমাদের ভাষা, সংস্কৃতিতেও এসেছে পরিবর্তন। প্রচলিত বেশ কিছু শব্দ এখন নতুনভাবে পরিচিতি লাভ করেছে শুধুমাত্র ফেসবুকের কারণে। কারও কারও নিকট এসব শব্দের অর্থই বদলে গেছে! চলুন দেখি এরকম কিছু টার্ম।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 1,460 other subscribers

১. ফ্রেন্ড

ফেসবুকের সাথে পরিচয় নেই এমন মানুষের কাছে ফ্রেন্ড বলতে প্রতিবেশী, সহপাঠী কিংবা আত্নীয় ঘরানার জনগোষ্ঠী থেকে নির্দিষ্ট কিছু মানুষকেই বোঝানো হয়। এক্ষেত্রে ‘বন্ধু’ শব্দটির গভীরতা অনেক। কিন্তু ফেসবুক প্রজন্মের নিকট ‘ফ্রেন্ড বা বন্ধু’ টার্মটির গভীরতা আগের তুলনায় কম। বরং এর বিস্তৃতি আকাশছোঁয়া। এই ডিজিটাল যুগে ফ্রেন্ড বলতে এমনও অনেক লোক আছে যাদেরকে আপনি কখনও দেখেননি। অথবা বাস্তবে তার কোনও অস্তিত্বই হয়ত নেই! ফেসবুকে ফেইক আইডির বদৌলতে এমন অনেক ফ্রেন্ডশিপ হয়ে থাকে। ফেসবুকে আপনার মা-বাবা, শিক্ষক, ছাত্র এমনকি বিজনেস ক্ল্যায়েন্টকেও আপনি ফ্রেন্ড হিসেবে অ্যাড করতে পারেন। আর এভাবেই ফ্রেন্ড শব্দটিকে নতুনভাবে উপস্থাপন করছে ফেসবুক।

২. লাইক

ইংরেজির অভিধান অনুযায়ী লাইক মানে কোন কিছু পছন্দ করা। আর ফেসবুকেও ‘লাইক’ বলতে পছন্দ বা থাম্বস আপ করা বোঝায়। আরও রয়েছে ফ্যানপেজ ‘লাইক’- এখানে আপনি কোনো কোনো ফ্যানপেজ মন থেকে পছন্দ না করলেও বন্ধু-বান্ধবের অনুরোধে তাদের পেজগুলো লাইক করে থাকেন। বাস্তব জীবনের ‘লাইক’ বাইরে থেকে বোঝা না গেলেও ফেসবুকে ‘লাইক’ দিলে সেটি আর গোপন থাকেনা।

৩. পোক

পোক অর্থ হচ্ছে ‘খোঁচা দেয়া’; ফেসবুকে তো আপনি কাউকে আঙুল দিয়ে খোঁচা দিতে পারবেন না, তবে নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে ‘পোক’ অপশনে ক্লিক করে বন্ধুদের নোটিফিকেশন দিতে পারেন যে আপনি তাকে ভুলে যাননি।

৪. প্রোপিক

এটা আসলে কোনো মৌলিক ইংরেজি শব্দই না! ফেসবুকে একাউন্ট খুললে আপনার নামে একটি প্রোফাইল তৈরি হবে। আর প্রোফাইল মালিক হিসেবে আপনার একটি ছবি যোগ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ছবিটিকে ‘প্রোফাইল পিকচার’ বলা হয়, যেটি সবাই দেখতে পারে। প্রোফাইল পিকচারের সংক্ষিপ্ত নাম হচ্ছে ‘প্রো পিক’!

৫. স্ট্যাটাস

ইংরেজি ভাষার শব্দ ‘স্ট্যাটাস’ অর্থ পদমর্যাদা, অবস্থা- প্রভৃতি। ফেসবুক যুগে স্ট্যাটাস বলতে কারও আপডেট কোন খবরাখবর কিংবা অনুভূতিকে বোঝানো হয়। ফেসবুক স্ট্যাটাস দিতে কোনো টাকাপয়সা লাগেনা। অনেকের স্ট্যাটাস এমনও হয়ে থাকে ‘উহ, আজ খুব গরম পড়ছে’, কিংবা ‘এইমাত্র গোসল করে এলাম’!

৬. ট্যাগ

ট্যাগ মানে কোনো কিছুর সাথে অন্য কিছু জুড়ে দেয়া। পরীক্ষার খাতায় অতিরিক্ত উত্তরপত্র নিলে সেটি মূল অ্যানসার স্ক্রিপ্টের সাথে ‘ট্যাগ’ করে দেয়ার কথা শুনে থাকবেন। ফেসবুকেও ট্যাগের কাজ প্রায় একই রকম। এক্ষেত্রে কোনো ছবি বা পোস্টের সাথে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি জুড়ে দেয়াকে বোঝানো হয়। ট্যাগিং অনেক সময় বেশ বিরক্তির কারণ হয়। কেননা এজন্য ইউজারের পারমিশন লাগেনা। উল্টাপাল্টা ছবি/পোস্টে ট্যাগ দেয়ার কারণে অনেকেই ব্লক খেয়ে থাকেন।

৭. ব্লক

ব্লক মানে প্রতিবন্ধকতা। ইংরেজি ভাষায় এর আরও কিছু অর্থ আছে। তবে ফেসবুকে ব্লক শব্দটি ভয়ানক। অনেকে পাইকারি দরে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিতে গিয়ে ব্লক খায়। এরা পরবর্তিতে ‘অ্যাড মি’র জোয়ারে ফেসবুক ভাসিয়ে দেয়। তখন আবার ফ্যানপেজ বা সংশ্লিষ্ট আইডি থেকেও এদেরকে ব্লক দেয়া হয়। আপনার প্রোফাইল থেকে যদি কাউকে ব্লক দেয়া হয় তাহলে সে আপনার কোনো কনটেন্ট দেখতে পারবেনা। আপনিও তার কনটেন্ট দেখবেন না।

৮. ওয়াল

প্রচলিতভাবে ওয়াল বলতে দালানকোঠার দেয়ালকেই বোঝানো হয়। কিন্তু ফেসবুক জেনারেশনের নিকট ওয়াল হচ্ছে ফেসবুক টাইমলাইন। এখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা পেজের সকল পোস্ট প্রদর্শিত হয়।

৯. আনলাইক

লাইক এর বিপরীত হচ্ছে আনলাইক। বাস্তবে আপনি ইচ্ছে করলেই একজনকে লাইক (পছন্দ) করার পর হুট করে আনলাইক (অপছন্দ) করতে পারবেন না। এখানে মন মানসিকতার ব্যাপার থাকে। কিন্তু ফেসবুকে এটা সম্ভব। কোনো পোস্টে লাইক করার পর সেখানে ‘আনলাইক’ অপশন চলে আসে। এতে ক্লিক করলেই সাথে সাথে কাজ হয়ে যাবে!

১০. আনফ্রেন্ড

বাস্তব জীবনে আনফ্রেন্ড শব্দটির ব্যবহার নেই বললেই চলে। বন্ধুদের কাউকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘মুছে ফেলা’ যায়না। হয়ত সম্পর্কের উত্থানপতন হতে পারে, কিন্তু এভাবে ‘আনফ্রেন্ড’ ব্যাপারটি ঘটেনা। তবে ফেসবুকে এটা হরহামেশাই ঘটে থাকে। এই শব্দটির গণ-পরিচিতিও ফেসবুকেরই অবদান। সাইটটিতে কাউকে হঠাত বিরক্তিকর কিংবা বিব্রতকর মনে হলে সরাসরি ‘আনফ্রেন্ড’ করে ফেলা সম্ভব। এতে কারও কনফার্মেশনও লাগেনা।

ফেসবুকে এরকম আরও অনেক শব্দ আছে। আপনার নিকট উল্লেখযোগ্য মনে হয় এরূপ কোনো কিছু থাকলে এখানে মন্তব্যের মাধ্যমে জানাতে পারেন।

প্রযুক্তির সব তথ্য জানতে ভিজিট করুন www.banglatech24.com সাইট। নতুন পোস্টের নোটিফিকেশন ইমেইলে পেতে এই লিংকে গিয়ে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

 

Comments

Leave a Reply