পেঁচারা যেভাবে তাদের মাথা বৃত্তাকারে ঘোরায় . . .

By -

tumblr_lyxmx0NJ0O1qau3xqo1_500

পেঁচা দেখেছেন কখনো? ভদ্রসদ্র এই পক্ষী প্রজাতি নিয়ে অনেক কুসংস্কার প্রচলিত আছে, যেমন এটি মন্দ সংবাদের বাহক, কেউ এর শব্দ শুনলে তার বিপদ আসন্ন ইত্যাদি। কিন্তু পেঁচার মধ্যে রয়েছে অসাধারণ এক বিজ্ঞান, যা আমাদের ক্ষেত্রে কল্পনাতীত।

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Join 1,460 other subscribers

রাস্তাঘাটে চলতি পথে বা অন্যান্য কাজেকর্মে আমাদের প্রায়ই পেছনের দিকে তাকাতে হয়। কিন্তু খুব বেশি কোণে ঘাড় ঘোরানো সম্ভব হয় না। বিশ্বাস না হলে এখুনি চেষ্টা করে দেখুন! দেহ সোজা রেখে একদম স্থির হয়ে কতটা পেছনে তাকাতে পারেন?

হ্যাঁ, খুব বেশি নয়। তবে প্রয়োজনমত পিঠ বাঁকিয়ে পেছনের বস্তু দেখা আমাদের অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। কিন্তু পেঁচারা তাদের অবস্থানের দুই দিক মিলিয়ে প্রায় ২৭০ ডিগ্রি কোণে মাথা ঘুরাতে পারে।

কি? অবাক হলেন না তো? তাহলে শুনুন, আমরা যদি (“লাইক এ বস!?!”) এটি চেষ্টাও করতে যাই, তাহলে দেহ থেকে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী ধমনী ছিঁড়ে ওখানেই অক্কা পাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পাখিদের ঘাড় অনেক বেশি নমনীয় হয়ে থাকে, যা তাদের খাদ্য সংগ্রহ এবং আত্নরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে পেঁচার ঘাড় আরও অধিক নমনীয়। এদের গলা এবং মাথার খুলি সংযোগকারী হাড়গুলোর গঠন বেশ করিতকর্মা, যা এর রক্তসংবহন নালীর চারপাশ থেকেই কোন ক্ষতি ছাড়া চমৎকারভাবে মাথা ঘোরাতে সাহায্য করে।

আর এজন্যই আমরা বনজঙ্গলে পাখি, বিশেষ করে পেঁচাদেরকে স্ট্রোক করে মরে পরে থাকতে দেখিনা।

পেঁচার দৃষ্টিশক্তি জনিত সীমাবদ্ধতা এবং অপেক্ষাকৃত কম চলাচলের ক্ষমতা থাকায় এরকম কোন “অস্বাভাবিক বা বিস্ময়কর” বৈশিষ্ট্য তাদের জীবন ধারণের জন্য অপরিহার্য ছিল।

সম্প্রতি পেঁচা নিয়ে গবেষণা পরিচালনাকারী একদল মার্কিন বিজ্ঞানী পাখিটির স্কন্ধদেশের ধমনীতে এমন কিছু অংশ আবিষ্কার করেছেন যা প্রয়োজনমত বিস্তৃত হয়ে রক্ত দ্বারা পূর্ণ হতে পারে। তাদের বিশ্বাস, এই বিষয়টি আগে কখনো জানা ছিলনা।

কারো কারো কাছে এই গবেষণার ফলাফল খুব একটা চমকপ্রদ নাও হতে পারে। কিন্তু জেনে রাখা ভাল, এটি ২০১২ সালের “ইন্টারন্যাশনাল সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ভিজুয়ালাইজেশন চ্যালেঞ্জ” প্রতিযোগিতায় পোস্টার এবং গ্রাফিক্স বিভাগের সেরা পুরস্কার জিতেছে, যার সহনিবেদক ছিল যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় বিজ্ঞান তহবিল এবং সায়েন্স জার্নাল।

প্রযুক্তির সব তথ্য জানতে ভিজিট করুন www.banglatech24.com সাইট। নতুন পোস্টের নোটিফিকেশন ইমেইলে পেতে এই লিংকে গিয়ে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

 

Comments

Leave a Reply